2 Answers
মূলত যীশুখ্রীষ্ঠের সময় থেকে সাল গননা করা হয়। আর যীশুখ্রীষ্ঠের জন্মের আগের সাল গুলোকে খ্রীষ্ঠপূর্ব ধরা হয়
সাধারণভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে যে, খ্রিষ্টের জন্মগ্রহণের বছর থেকে এই অব্দের গণনা শুরু হয়েছে। যদিও ১লা জানুয়ারি তারিখে যিশুর জন্ম হয়েছিল, এ কথা যেমন ঐতিহাসিকভাবে সত্য নয়, তেমনি ১ খ্রিস্টাব্দেই যিশু জন্মেছিলেন এ কথাও সত্য নয়। মূলত বর্তমানে- খ্রিস্টাব্দ হলো যিশু খ্রিষ্টের স্মরণে প্রবর্তিত একটি প্রতীকী অব্দ। তারপরেও অনেকই মনে করেন- আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই অব্দটিকে বলা উচিৎ CE (Common Era) ।
এই অব্দের সূচনা হয়েছিল প্রাচীন মিশরে। মিশরীয় পঞ্জিকা’-কে বলা যেতে মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপীয় অঞ্চলের মাতৃ-পঞ্জিকা বা অন্যান্য পঞ্জিকার আদি উৎস। গোড়ার দিকে প্রাচীন রোমান পঞ্জিকা ছিল গ্রিক ভাবনা-প্রসূত মিশরীয় পঞ্জিকার একটি সংস্করণ মাত্র। রোমানদের মতে খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ অব্দের দিকে রোমের স্থপতি রোমুলাস সৌরবৎসরের হিসাবে রোমান পঞ্জিকা প্রবর্তন করেছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫ অব্দ পর্যন্ত এই পঞ্জিকাই নানাবিধ পরিবর্তন করে নতুন একটি পঞ্জিকা প্রবর্তন করলেন রোম সম্রাট জুলিয়াস সিজার (Julius Caesar)। এই পঞ্জিকাটি ‘জুলিয়ান পঞ্জিকা’ নামে খ্যাত।
এর পাশাপাশি বাইবেলের সূত্রে ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্ম সম্প্রদায়ের ভিতরে পৃথিবী সৃষ্টির বিতর্কের সূত্রে গড়ে উঠেছিল Anno Mundi অব্দ গণন পদ্ধতি। এই সূত্রে তৈরি হয়েছিল ধর্মভিত্তিক ইহুদী পঞ্জিকা ও খ্রিষ্টান পঞ্জিকা। এরই সূত্রে ধরে জুলিয়ান পঞ্জিকার সাথে খ্রিষ্টানদের ভাবনার সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছিল বাইজেন্টেনিয়ান পঞ্জিকা।
Anno Mundi :
খ্রিস্টাব্দের সূচনা হয়েছিল বিশ্ববর্ষ (Anno Mundi সংক্ষেপে AM বা A.M.) অনুসারে। এই পঞ্জিকার ভিত্তি ছিল বাইবেলের আদিপুস্তকে বর্ণিত পৃথিবীর সৃষ্টিতত্ত্ব। অনেক যত্ন করে পুরোহিতরা এই পঞ্জিকা তৈরি করলেও সৃষ্টিকাল নিয়ে ব্যাপক মতভেদের সৃষ্টি হয়েছিল। বাইবেলের দুটি সংস্করণ অনুসারে ইহুদি ও খ্রিষ্টান মতবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল ইহুদী ও খ্রিষ্টান পঞ্জিকা।
তথ্য সূত্র : Forgotten History of the Western People
From the Earliest Origins
Mike Gascoigne