2 Answers
ঈশ্বর তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে গড়া মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন।তাকে স্রেষ্ঠ করে সৃষ্টি করেছিলেন ।তাঁকে দিয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ দান স্বাধীনতা। রেখেছিলেন পরম পবিত্র ও আনন্দময় স্থান স্বর্গের এদেন বাগানে।কিন্তু মানুষ পাপ করে যে কত সুখের স্হান হারালো, তা সে তখন বুঝতে পারেনি।
ঈশ্বর আমাদের আদি পিতা-মাতাকে তার সৃষ্ট নতুন পৃথিবীর সবকিছু দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিলেন।তিনি তাদের গাছপালা,পশু-পাখি ও জলচর সবকিছুর যত্ন নিতে বললেন।তিনি তাদেরকে একটি সুন্দর বাগানে রেখেছিলেন।সেখানে তাদেরকে সককিছু ভোগ করতে বললেন।তবে একটি মাত্র বিষয়ে তাদের বারণ করলেন।বাগানে ভালো-মন্দ জ্ঞানের একটি বিশেষ ফল গাছ ছিল।ঈশ্বর তাদের সেই গাছের ফল খেতে নিষেধ করলেন।তিনি তাদের বললেন যে,ঐ গাছের ফল খেলে তোমরা মারা যাবে ।তারা ঈশ্বরের আদেশ অনুসারে দিনযাপন করুনছিলেন।
শয়তান ঈশ্বরকে ঘৃণা করুনত।সে ঈশ্বরের প্রস্তুত করা এই সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চাইল।সে ভাবলো,যদি সে মানুষকে পাপে ফেলতে পারে,তবে ঈশ্বর মনে মনে খুবই কষ্ট পাবেন।এভাবে, শয়তান ঈশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে লাগল।সে প্রথমে হবাকে প্রলোভনে ফেলার চেষ্টা করুনল।হবাকে সে বলল,এই ভালো-মন্দ জ্ঞানের গাছের ফল খুব মিষ্টি ।কিন্তু হবা বললেন,না,এটা খাওয়া আমাদের নিষেধ।শয়তান বলল,ঈশ্বর কেন তোমাদের এটা খেতে নিষেধ করেছেন, কারণ ফল খেলে তোমরা ঈশ্বরের মতো জ্ঞানী ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সাপের কথা হবা বিশ্বাস করলেন।তার মন গলে গেল।তিনি ফলের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের নিষেধের কথা ভুলে গেলেন।তিনি ভুলে গেলেন ঈশ্বর তাদের দুইজনকে কত ভালোবাসেন।হবা ঈশ্বরের মতো জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান হতে চাইলেন।ঈশ্বরের কথা অনুসারে না চলে তিনি নিজের ইচ্ছামতোই কাজ করতে-চাইলেন।হবা হাত বাড়িয়ে শয়তানের কাছ থেকে একটা ফল নিলেন। তা তিনি নিজে খেলেন ও আদমকেও একটু দিলেন। আদম হবার পরামর্শ শুনে তা খেলেন।তখন থেকেই সবকিছু অন্যরকম হয়ে গেল। তাঁরা বুঝতে পারলেন, তাঁরা উলঙ্গ। তখন তাঁরা গাছের লতাপাতা দিয়ে পোশাক তৈরি করলেন ও তা পরিধান করলেন। ঈশ্বরকেও তাঁরা ভয় পেতে শুরু করলেন।
আদম ও হবা ঈশ্বরের কথা অমান্য করেছেন।তাঁরা ঈশ্বরের অমূল্য দান স্বাধীনতার অপব্যবহার করলেন।শয়তানের কথা শুনে তাঁরা ঈশ্বরের অবাধ্য হলেন।এভাবে আদি পিতা-মাতার পতন হলো।পাপের কারণে মানুষের জীবনে মৃত্যু প্রবেশ করুনল।ঈশ্বর তাঁদের শাস্তি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন ।পৃথিবীতে এসে তারা কষ্টকরুন জীবনযাপন করতে লাগলেন।
(রেফারেন্স ষষ্ঠ শ্রেণি বৌদ্ধধর্ম বই চতুর্থ অধ্যায়ের)
শয়তানের প্ররোলোভনে মানুষের পতন ঘটেছিল যেভাবে তা আলোচনা করা হলো: সৃষ্টি কর্তা মানুষকে সৃষ্টি করে অনেক আরামে রেখেছিলেন কিন্তু মানুষের সেই সুখ স্থায়ী হয়নি কারণ শয়তান তাকে প্ররোচনা দিয়েছিল। শয়তান মানুষকে প্ররোচনা ও প্ররোলোভন দেখিয়ে নিষিদ্ধ গাছের ফল খাইয়ে দেয় ।তার শাস্তি স্বরূপ বেহেশত হতে মানুষকে বিতাড়িত হতে হয়। এভাবে মানুষের পতন হয়।