মানুষ মারা গেলে কবর দেয়া হয়। এই কবরেই কি তার শাস্তি হয় বা এই কবরেই কি রুহু আসে? রুহু তো আল্লাহর কাছে চলে যায়। তাহলে যাদের মাটিই দেয়া হয় না যেমন দূরভিক্ষে অনেক লোক মারা গেছিলো বা  যায় তাদের দেহ শকুন , শেয়াল খেয়ে শেষ করে।।।  সেক্ষেত্রে কি হয়? এই ব্যাপারটা যারা সঠিকভাবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে জানেন তারা বলেন প্লীজ।

2947 views

1 Answers



মানুষ মারা গেলে কবর দেয়া হয় এবং এই কবরেই তার শাস্তি হয়। কিন্তু কবরে রুহ আসে না।

মৃত্যুর পর ইমানদার সৎকর্মশীল মানুষের রুহ ‘ইল্লিয়্যিন’ নামক জায়গায় অবস্থান করে। আর অবিশ্বাসী ও পাপী লোকদের রুহ ‘সিজ্জিন’ নামক জায়গায় অবস্থান করে। (রেফারেন্স: সুরা মুতাফিফফীন : ৭-১৮)।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা মতে, কবরের আজাব সত্য। মুমিন ও সালেহ ব্যক্তিরা যেমন কবরে শান্তি পায় এবং কিয়ামত পর্যন্ত এভাবে থাকে তেমনি কাফির ও পাপকারীরা কবরের শাস্তি ভোগ করে।

কোনো ব্যক্তির যখন মৃত্যু হয়ে যায়, এর অর্থ হচ্ছে দুনিয়ার সঙ্গে তার যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটা আত্মিক সম্পর্ক হোক অথবা শারীরিক সম্পর্ক হোক, কোনো সম্পর্কই সেখানে আর অবশিষ্ট থাকে না। তার আত্মার কোনো ধরনের আগমন, বহির্গমন, সংযোজন, অর্থাৎ যেকোনো ধরনের তৎপরতা অবশিষ্ট থাকে না।

সুতরাং আত্মা স্বাধীনভাবে যে ঘোরাফেরা করবে অথবা আসবে-যাবে, ব্যাপারটা এমন নয়। মৃত্যুর পরে মানুষ চলে যায় আল্লাহর বারজাখি জিন্দেগিতে এবং বারজাখি জিন্দেগি হচ্ছে এমন যে বারজাখের একটা অর্থই হচ্ছে, এখান থেকে আর কোনোভাবেই বের হওয়ার সুযোগ নেই।

তাই বারজাখি জিন্দেগিতে যারা চলে গিয়েছে, তারা একটা আড়ালে চলে গিয়েছে। সম্পূর্ণরূপে আড়ালের একটা জিন্দেগিতে চলে গিয়েছে, দুনিয়ার জগতে তাদের আর আগমন হবে না। যেমনিভাবে তারা দুনিয়াতে আগমন করতে পারবে না, ঠিক তেমনিভাবে তারা আখিরাতের যে জিন্দেগি রয়েছে, পরবর্তী জীবন সে জীবনেও যেতে পারবে না। এখানেই তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, এই বারজাখে তাদের অবস্থান করতে হবে, ওই পরবর্তী পুনরুত্থান পর্যন্ত, ওই দিবস পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।’ পুনরুত্থান পর্যন্ত সেখান থেকে তাদের কোনো ধরনের আগমন, বহির্গমন অথবা কোনো ধরনের তৎপরতা করার অধিকার তাদের থাকবে না।

সুরা মুমিনুন : ৯৯-১০৩ নাম্বার আয়াত দ্বারা সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে কোনো মানুষের পক্ষে মৃত্যুর পর পুনরায় দুনিয়াতে আগমন সম্ভব নয়।

যাদের মাটি দেয়া হয় না যাদের দেহ শকুন শেয়াল খেয়ে শেষ করে। অথবা যাদের মৃতদেহ সমাহিত করা হয়নি, চিতায় ভস্মীভূত করা হয়েছে অথবা বাঘের পেটে বা হাঙ্গরের উদরে হজম হয়ে গেছে, তাদের তো কবর নেই, তাদের কবর আজাব হবে কোথায়?

মৃত্যুর পর মৃতদেহ যেখানেই রাখা হোক না কেন কিংবা যেভাবেই রাখা হোক না কেন, সে কবরের অধিবাসী হয়ে যায়। বদকার হলে তার ওপর আজাব শুরু হয়ে যায়।

আর নেককার হলে তার জন্য জান্নাতের আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করা হয়। কবর মূলত কোনো গর্তের নাম নয়। বরং লাশকে যেখানেই দাফন করা হবে সেটাই তার কবর। আজাব হয় রুহের ওপর। আর দেহ সে আজাবের কষ্ট ভোগ করতে থাকে।

হাশরের ময়দানে বিচারের আগে দুনিয়াতে মৃত্যুর আগে এবং মৃত্যুর পর বারজাখী জিন্দেগীতে যে কোন অপরাধীকে যে কোন অবস্থায় শাস্তি দেয়ার অধিকার ও ক্ষমতা আল্লাহর অবশ্যই আছে।

কবর মানে সমাধি। ইসলামি বিধানমতে, মৃত ব্যক্তির দেহ দাফন বা সমাধিস্থ করা হয়। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত তথা হাশর নাশর ও বিচার ফয়সালার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে বারজাখ বা অন্তর্বর্তী সময় বলা হয়। বারজাখ জীবনকে সাধারণভাবে কবর জীবন বলা হয়ে থাকে। কারণ, স্বাভাবিক অবস্থায় মৃতদেহ বা লাশ কবর দেওয়া হয়ে থাকে। যাদের বিশেষ কোনো কারণে কবর বা দাফন করা হবে না, তাদেরও বারজাখ জীবন একই রকম হবে। যদিও কবর বারজাখের সমার্থক নয়, তবু বারজাখ জীবন বোঝাতে কবর শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
2947 views

Related Questions