2 Answers
ইমাম আবু হানিফা ইরাকের কুফা নগরীতে ৫ সেপ্টেম্বর ৬৯৯ খ্রিস্টাব্দ বা ৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি যা লিখেছেন তার সত্যতা যাচাই করুন কুরআন ও হাদিস দিয়ে।
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার কোন কথা যদি আল্লাহর কিতাবের বিপরীত হয় তথন আমরা কি করব?
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বললেন , কুরআনের মুকাবেলায় আমার কথা প্রত্যাখ্যান করবে।
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) তিনি বলেছেন, যখন কোনো সহীহ হাদীস সাব্যস্ত হবে ঐ সহীহ হাদীস-ই আমার মাযহাব। (রদ্দুল মুহতার ১ম খন্ড , ৪৬২ পৃঃ)।
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) আরো বলতেন , আমার কোন কথা গ্রহণ করা কোন লোকের জন্য বৈধ হবে না, যে পর্যন্ত সে না জানে যে আমি কোথা থেকে ওটা বলেছি। (বাহরুর রায়েক ৬ষ্ট খন্ড, ২৯৩ পৃঃ, মুকাদ্দমায়ে হিদায়া ১ম খন্ড, ৯৩ পৃঃ)।
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বলেন, তোমরা যদি আমার কোন কথা কুরআন ও সুন্নাহর বিপরীতে দেখতে পাও তাহলে তোমরা কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশ পালন করো এবং আমার কথা প্রাচীরের উপর ছুড়ে মারো। (মীযান কুবরা ১ম খন্ড, পৃঃ ৫৭)।
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) তিনি বলেছেন, আমি সকালে এক কথা বলি বিকালে আরেক কথা বলি আমার কথা লিখে রেখো না, আমি কোথা থেকে ফতোয়া দিচ্ছি তার উৎস জানা না পর্যন্ত কারো জন্য আমার ফতোয়া গ্রহণ জায়েজ নয়। যদি আমার কথার বিপরীতে সহীহ হাদিস পাওয়া যায় অথবা কোনো সাহাবীর কথা পাওয়া যায় তবে আমার কথাকে দেয়ালে ছুড়ে ফেল এবং সহীহ হাদিস বা সাহাবীর কথাকে গ্রহণ কর। যখন কোনো হাদিস সহীহ সাব্যস্ত হবে সেটাই আমার মত।
ইমাম আবু হানিফা ইরাকের কুফায় ৫ সেপ্টেম্বর ৬৯৯ ইংরেজী মোতাবেক ৮০ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন।এবং ১৪ জুন ৭৬৭ ইংরেজী ১৫০ হিজরী ইন্তেকাল করেন।
আমরা আবু হানীফা রাহ.-এর সাথে একটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতাম। এরপর যখন তিনি সিদ্ধান্ত দিতেন এবং তার সঙ্গীরাও একমত হতেন তখন আমি কুফার শায়েখগণের কাছে যেতাম তার সিদ্ধান্তের সমর্থনে আরো কোনো হাদীস বা আছর পাই কিনা। কখনো দুইটি বা তিনটি হাদীস পেতাম। তাঁর কাছে পেশ করার পর তিনি কোনোটি গ্রহণ করতেন আবার কোনোটি এই বলে বর্জন করতেন যে, এটি সহীহ নয় বা মারুফ নয়। অথচ তা তার সিদ্ধান্তের অনুকূলে। আমি বলতাম, এ সম্পর্কে আপনার ইলম কীরূপ। তিনি বলতেন, আমি কূফা নগরীর ইলমের ধারক।
এই ঘটনা বর্ণনা করার পর আবু ইসমা যা বলেছেন তার সারকথা এই যে, ‘ইমাম রাহ. সত্য বলেছেন। সত্যি তিনি ছিলেন কুফার মনীষীগণের কাছে সংরক্ষিত ইলমের ধারক। শুধু তাই নয় (হাদীস আছার এবং কুরআন-সুন্নাহর) অন্যান্য শহরের অধিকাংশ ইলমেরও তিনি ধারক ছিলেন। এর প্রমাণ পেতে চাইলে তাঁর কিতাবসমূহ দেখ, তাঁর সঙ্গীদের কাছে সংরক্ষিত তাঁর বর্ণনাসমূহ দেখ, কিতাবুস সালাত থেকে শুরু করে এক একটি অধ্যায় এবং প্রতি অধ্যায়ের এক একটি মাসআলা পাঠ করতে থাক, তাহলেই দেখতে পাবে, কীভাবে তিনি হাদীস ভিত্তিক জবাব দিয়ে চলেছেন এবং চিন্তা কর, হাদীস ও সালাফের আছারের সাথে তার জবাবসমূহ কত সামঞ্জস্যপূর্ণ।’’