1 Answers

অপরের সম্পত্তি প্রতারণা করে নিজ নামে দলিল করে বাগিয়ে নেওয়ার ঘটনা অহরহই হচ্ছে। আর এতে প্রকৃত মালিককে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। কিছু অসাধু লোক নানা কৌশলে জাল দলিল সৃষ্টি করে থাকেন। এর ভুক্তভোগী হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে আইনি মোকাবিলার পথ জানা থাকলে এমন প্রতারণা থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যাবে।

জাল দলিল সম্পর্কে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা বাতিলের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হবে। এ ছাড়া তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাল দলিল তৈরি সম্পর্কে জানার তিন বছরের মধ্যে এ মামলা করা যাবে।

দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করা হলে বিচারক বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করবেন এবং বিস্তারিত শুনে সাক্ষীর মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করবেন। এ ক্ষেত্রে জাল দলিলটি আদালতে উপস্থাপন করে ভুয়া প্রমাণ করা যায়।

জাল দলিল বাতিলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিধান অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে মামলা করা যায়। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারা অনুসারে দলিল আংশিক বাতিলের মামলাও করা যাবে। দলিল বাতিলের সঙ্গে সম্পত্তির দখল পাওয়ার মামলাও করা যায়। 

আদালত দলিল বাতিলের আদেশ/রায় দিলে ডিক্রির একটি কপি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পাঠাতে হবে। এর পর সেই কপির আলোকে রেজিস্ট্রি অফিস দলিল বাতিলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বালাম বইতে লিপিবদ্ধ করে রাখবে। 

দলিল বাতিলের মামলায় কোর্ট ফি আইনের দ্বিতীয় তফসিলের ১৭(৩) অনুচ্ছেদে বর্ণিত কোর্ট ফি দিতে হবে। যার স্বার্থ আছে, তিনিই কেবল দলিল বাতিলের মামলা করতে পারবেন।

জাল দলিল তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৩-৪৭৩ ধারায় মামলা করা যায়। বিচারক চাইলে সেই মামলা সরাসরি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিতে পারেন। তা ছাড়া মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠাতে পারেন। তদন্তে দলিল ভুয়া প্রমাণিত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিতে পারবেন আদালত। 

2467 views Answered

Related Questions

Next steps