وَإِنَّهُۥ لِحُبِّ ٱلۡخَيۡرِ لَشَدِيدٌ

ওয়া ইন্নাহূলিহুব্বিল খাইরি লাশাদীদ।উচ্চারণ

অবশ্য সে ধন দৌলতের মোহে খুব বেশী মত্ত। তাফহীমুল কুরআন

এবং বস্তুত সে ধন-সম্পদের ঘোর আসক্ত মুফতী তাকী উসমানী

এবং অবশ্যই সে ধন সম্পদের আসক্তিতে অত্যন্ত কঠিন।মুজিবুর রহমান

এবং সে নিশ্চিতই ধন-সম্পদের ভালবাসায় মত্ত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং অবশ্যই সে ধন-সম্পদের আসক্তিতে প্রবল।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় ধন-সম্পদের লোভে সে প্রবল।আল-বায়ান

আর ধন-সম্পদের প্রতি অবশ্যই সে খুবই আসক্ত।তাইসিরুল

আর নিঃসন্দেহ সে ধনসম্পদের মোহে দুরন্ত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

কুরআনের মূল শব্দগুলো হচ্ছেঃ (وَاِنَّهٗ لِحُبِّ الۡخَيۡرِ لَشَدِيۡدٌؕ‏) এর শাব্দিক তরজমা হচ্ছে, “সে ভালোর প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করে।” কিন্তু আরবী ভাষায় 'খাইর' শব্দটি কেবলমাত্র ভালো ও নেকীর প্রতিশব্দ হিসেবেই ব্যবহৃত হয় না বরং ধন-দৌলত অর্থেও এর ব্যবহার প্রচলিত। সূরা আল বাকারার ১৮০ আয়াতে “খাইর” শব্দটি ধন-সম্পদ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও পরিবেশ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে কোথায় এ শব্দটি নেকী অর্থে এবং কোথায় ধন-সম্পদ অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে তা অনুধাবন করা যায়। এই আয়াতটির পূর্বাপর আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হচ্ছে যে, এখানে “খাইর” বলতে ধন-সম্পদ বুঝানো হয়েছে, নেকী বুঝানো হয়নি। কারণ যে ব্যক্তি নিজের রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ এবং নিজের কার্যকলাপের মাধ্যমে নিজের অকৃতজ্ঞতার স্বপক্ষে সাক্ষ্য পেশ করছে তার ব্যাপারে কখনো একথা বলা যেতে পারেনা যে, সে নেকী ও সৎবৃত্তির প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা অর্থ-সম্পদের এমন আসক্তি বোঝানো হয়েছে, যা দীনী দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে বাধা হয় বা গুনাহে লিপ্ত হতে উৎসাহ যোগায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮. আর নিশ্চয় সে ধন-সম্পদের আসক্তিতে প্রবল(১)।

(১) خير এর শাব্দিক অর্থ মঙ্গল। এখানে ব্যাপক অর্থ ত্যাগ করে আরবের বাকপদ্ধতি অনুযায়ী এ আয়াত ধন-সম্পদকে خير বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। যেমন, অন্য এক আয়াতে আছে (إِنْ تَرَكَ خَيْرًا) “যদি কোন সম্পদ ত্যাগ করে যায়”। (সূরা আল বাকারাহ: ১৮০) এ আয়াতটির অর্থও দুরকম হতে পারে। এক. সে সম্পদের আসক্তির কারণে প্রচণ্ড কৃপণ; দুই. সম্পদের প্রতি তার আসক্তি অত্যন্ত প্রবল। দ্বিতীয় অর্থটির মধ্যেই মূলত প্রথমটি চলে আসে; কেননা সম্পদের প্রতি প্রচণ্ড আসক্তিই কৃপণতার কারণ। (আদওয়াউল বায়ান)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৮। এবং অবশ্যই সে ধন-সম্পদের আসক্তিতে অত্যন্ত প্রবল। (1)

(1) خَير থেকে মাল-ধনকে বুঝানো হয়েছে। যেমন, আল্লাহর বাণী (إن تَرَكَ خَيرًا الوَصِيّة) সূরা বাক্বারাহ ১৮০নং আয়াতে ঐ শব্দ স্পষ্টভাবে মাল-ধনের অর্থেই ব্যবহূত হয়েছে। অর্থ হল, মানুষ ধন-সম্পদের ব্যাপারে অতি লালসা রাখে ও কৃপণতা বা বখীলী করে; যা মালের প্রতি মহব্বত ও আসক্তি রাখার অনিবার্য পরিণতি।