ছানাদ‘উঝঝাবা-নিয়াহ।উচ্চারণ
আমি ডেকে নিই আযাবের ফেরেশতাদেরকে। ১৫ তাফহীমুল কুরআন
আমিও ডাকব জাহান্নামের ফেরেশতাদের। মুফতী তাকী উসমানী
আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে।মুজিবুর রহমান
আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকেমাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমিও আহ্বান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অচিরেই আমি ডেকে নেব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে।আল-বায়ান
আমিও ‘আযাবের ফেরেশতাদেরকে ডাকব,তাইসিরুল
আমরাও সঙ্গে সঙ্গে ডাকবো দুর্ধর্ষ বাহিনীকে।মাওলানা জহুরুল হক
১৫
মূলে ‘যাবানীয়াহ’ ( رَبانيت) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কাতাদাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি আরবী ভাষায় পুলিশের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর “যাবান” (زبن) শব্দের আসল মানে হচ্ছে, ধাক্কা দেয়া। রাজা বাদশাহদের দরবারে লাঠিধারী চোবদার থাকতো। তাদের কাজ হতো যার প্রতি বাদশাহ নারাজ হতেন তাকে ধাক্কা দিয়ে দরবার থেকে বের করে দেয়া। কাজেই এখানে আল্লাহর বাণীর অর্থ হচ্ছে, সে তার সমর্থকদেরকে ডেকে আনুক, আর আমি আমার পুলিশ বাহিনী তথা আযাবের ফেরেশতাদেরকে ডেকে আনি। এই আযাবের ফেরেশতারা তার সমর্থকদেরকে ঠাণ্ডা করে দিক।
প্রথমে আবু জাহল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামায পড়তে বাধা দিলে তিনি তাকে ধমক দিয়েছিলেন। তখন আবু জাহল বলেছিল, মক্কায় আমি একা নই, আমার মজলিসেই বেশি লোক সমাগম হয় এবং সকলেই আমার সাথে আছে। তার জবাবে এ আয়াতে বলা হয়েছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সে যদি তার লোকজনকে ডাকে, তবে আমিও জাহান্নামের ফেরেশতাদেরকে ডাকব। কোন কোন বর্ণনায় আছে, আবু জাহল তাঁকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সামনে অগ্রসর হয়েছিল, কিন্তু পরক্ষণেই থেমে যায়। তা না হলে ফেরেশতাগণ তার শরীর থেকে গোশত খসিয়ে ফেলত (আদ-দুররুল মানছুর)।
১৮. শীঘ্রই আমরা ডেকে আনব যাবানিয়াদেরকে।(১)
(১) এখানে যাবানিয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, জাহান্নামের প্রহরী কঠোর ফেরেশতাগণ। কাতাদাহ বলেন, আরবী ভাষায় الزبانية ‘যাবানিয়াহ’ শব্দের অর্থই হলো প্রহরী পুলিশ। এ ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি আরবী ভাষায় বিশেষ বাহিনীর প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর যাবান’ শব্দের আসল মানে হচ্ছে, ধাক্কা দেয়া। সে হিসেবে ‘যাবানিয়াহ’ এর অন্য অর্থ, প্ৰচণ্ডভাবে পাকড়াওকারী, প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা দিয়ে নিক্ষেপকারী। (ফাতহুল কাদীর)
১৮। আমিও অচিরে আহবান করব (জাহান্নামের) প্রহরীবর্গকে।(1)
(1) হাদীসে এসেছে যে, একদা নবী (সাঃ) কা’বাগৃহের পাশে নামায পড়ছিলেন। এমন সময় আবু জাহল তাঁর পাশ দিয়ে পার হয়ে বলল, ‘ওহে মুহাম্মাদ! আমি কি তোমাকে নামায পড়া হতে নিষেধ করিনি?’ অনুরূপ সে আরো তাঁর সাথে কঠিনভাবে ধমক দিয়ে কথা বলল। নবী (সাঃ) তার কথার কড়া জওয়াব দিলেন। তখন সে বলল, ‘হে মুহাম্মাদ! তুমি আমাকে কিসের ভয় দেখাচ্ছ? আল্লাহর কসম! এই উপত্যকায় সব থেকে আমার পারিষদ ও পৃষ্ঠপোষক বেশী আছে।’ তখন এই আয়াত নাযিল হয়।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, যদি আবু জাহল নিজের পারিষদবর্গকে আহবান করত, তাহলে তাদেরকে তখনই শাস্তিদাতা ফিরিশতাগণ পাকড়াও করতেন। (তিরমিযী, তাফসীর সূরা ইকরা পরিচ্ছেদ, মুসনাদে আহমাদ ১/৩২৯ ও তাফসীর ইবনে জারীর)
মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এইভাবে রয়েছে যে, সে অগ্রসর হয়ে তাঁর গর্দানে পা রাখার মনস্থ করেছিল। ইতি অবসরে সে উল্টা পা ফিরে গেল এবং নিজ হাত দ্বারা নিজেকে বাঁচাতে লাগল। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কি ব্যাপার? সে বলল, ‘আমার ও মুহাম্মাদের মাঝে আগুনের পরিখা, ভয়ংকর দৃশ্য এবং বহু পাখা দেখলাম!’ রসূল (সাঃ) বললেন, ‘‘যদি সে আমার নিকটবর্তী হত, তাহলে ফিরিশতাগণ তার এক একটা অঙ্গকে নুচে নিত।’’ (কিয়ামতের বিবরণ অধ্যায়)
الزَّبَانِية শব্দের অর্থ হল দারোগা এবং পুলিশ (বা প্রহরী)। অর্থাৎ, এমন শক্তিশালী সৈন্য যার কেউ মুকাবিলা করতে পারে না।