‘আল্লামাল ইনছা-না-মা-লাম ইয়া‘লাম।উচ্চারণ
মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন, যা সে জানতো না। ৬ তাফহীমুল কুরআন
মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না। মুফতী তাকী উসমানী
তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতনা।মুজিবুর রহমান
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে, যা সে জানত না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।আল-বায়ান
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না,তাইসিরুল
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতোই না।মাওলানা জহুরুল হক
৬
অর্থাৎ মানুষ আসলে ছিল সম্পূর্ণ জ্ঞানহীন। আল্লাহর কাছ থেকে সে যা কিছু জ্ঞান লাভ করেছে। আল্লাহ যে পর্যায়ে মানুষের জন্য জ্ঞানের দরজা যতটুকু খুলতে চেয়েছেন ততটুকুই তার জন্য খুলে গিয়েছে। আয়াতুল কুরসীতে একথাটি এভাবে বলা হয়েছেঃ وَلَا يُحِيۡطُوۡنَ بِشَىۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَۚ“আর লোকেরা তাঁর জ্ঞান থেকে তিনি যতটুকু চান তার বেশী কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না।” (আল বাকারাহ ২৫৫) যেসব জিনিসকে মানুষ নিজের তাত্বিক আবিষ্কার বলে মনে করে সেগুলো আসলে প্রথমে তার জ্ঞানের আওতায় ছিল না। আল্লাহ যখন চেয়েছেন তখনই তার জ্ঞান তাকে দিয়েছেন। মানুষ কোনক্রমেই অনুভব করতে পারেনি যে, আল্লাহ তাকে এ জ্ঞান দান করছেন।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সর্বপ্রথম যে আয়াতগুলো নাযিল হয়েছিল সেগুলোর আলোচনা এখান পর্যন্ত শেষ। যেমন হযরত আয়েশার (রা.) হাদীস থেকে জানা যায়ঃ এই প্রথম অভিজ্ঞতাটি খুব বেশী কঠিন ছিল। রসূলুল্লাহ ﷺ এর চাইতে বেশী বরদাশত করতে পারতেন না। তাই তখন কেবল এতটুকু বলাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে যে, তিনি যে রবকে প্রথম থেকে জানেন ও মানেন তিনি সরাসরি তাঁকে সম্বোধন করছেন। তাঁর পক্ষ থেকে অহীর সিলসিলা শুরু হয়ে গেছে এবং তাঁকে তিনি নিজের নবী বানিয়ে নিয়েছেন। এর বেশ কিছুকাল পরে সূরা আল মুদদাসসিরের প্রথম দিকের আয়াতগুলো নাযিল হয়। সেখানে তাঁকে বলা হয়েছে, নবুওয়াত লাভ করার পর এখন কি কি কাজ করতে হবে। (আরো ব্যাখ্যার জন্য পড়ুন তাফহীমুল কুরআন আল মুদদাসসিরের ভূমিকা)।
এ কথার ভেতর ইঙ্গিত রয়েছে, যদিও শিক্ষা দানের সাধারণ নিয়ম কলম দ্বারা লিখিত কোন কিছু পড়ানো, কিন্তু আল্লাহ তাআলা এ ছাড়াও চাইলে কাউকে শিক্ষাদান করতে পারেন। সুতরাং উম্মী হওয়া সত্ত্বেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন জ্ঞান দান করা হয়েছে, যা লেখাপড়া জানা লোকের কল্পনায়ও আসে না।
৫. শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।(১)
(১) পূর্বের আয়াতে ছিল কলমের সাহায্যে শিক্ষা দানের বর্ণনা। এ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রকৃত শিক্ষাদাতা আল্লাহ তা'আলা। মানুষ আসলে ছিল সম্পূর্ণ জ্ঞানহীন। আল্লাহর কাছ থেকেই সে যা কিছু জ্ঞান লাভ করেছে। (সা’দী) কলমের সাহায্যে যা শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তিনি এমন সব বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা মানুষ জানত না। কেউ কেউ বলেন, এখানে মানুষ বলে আদম আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাকে বিভিন্ন বস্তুর নাম ও গুণাগুণ শিক্ষা দিয়েছেন। যেমনটি সূরা আল-বাকারায় বর্ণনা করা হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর)
৫। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।