إِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرٗا

ইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছর-।উচ্চারণ

আসলে সংকীর্ণতার সাথে আছে প্রশস্ততাও। তাফহীমুল কুরআন

নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে মুফতী তাকী উসমানী

অবশ্যই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।মুজিবুর রহমান

নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অবশ্য কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে সুখ।আল-বায়ান

নিঃসন্দেহে কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।তাইসিরুল

নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গে আরাম রয়েছে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

একথাটি দু’বার বলা হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পুরোপুরি সান্ত্বনা দেয়াই এর উদ্দেশ্য। সে সময় তিনি যে কঠিন অবস্থা ও পর্যায় অতিক্রম করেছিলেন তা বেশীক্ষণ স্থায়ী থাকবে না বরং এরপর শিগগির ভালো অবস্থা শুরু হবে, একথা তাঁকে বুঝিয়ে দেয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। আপাত দৃষ্টিতে সংকীর্ণতার সাথে প্রশস্ততা এবং দারিদ্র্যের সাথে সচ্ছলতা এ দু’টি পরস্পর বিরোধী জিনিস একই সময় একসাথে জমা হতে পারে না। কিন্তু তবুও সংকীর্ণতার পর প্রশস্ততা না বলে সংকীর্ণতার সাথে প্রশস্ততা এই অর্থে বলা হয়েছে যে, প্রশস্ততার যুগ এত বেশী নিকটবর্তী যেন মনে হয় সে তার সাথেই চলে আসছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হচ্ছে যে, রিসালাতের দায়িত্ব পালনে এ যাবৎ যে কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হতে হয়েছে, অচিরেই তার অবসান হবে এবং দায়িত্ব পালনের পথ সুগম হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে সমস্ত মানুষকে মূলনীতি হিসেবে একটি বাস্তবতার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে যে, দুনিয়ায় কোন কষ্ট-ক্লেশ দেখা দিলে বুঝতে হবে তার পর স্বস্তির সময়ও আসবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।(১)

(১) আরবী ভাষার একটি নীতি এই যে, আলিফ ও লামযুক্ত শব্দকে যদি পুনরায় আলিফ ও লাম সহকারে উল্লেখ করা হয়, তবে উভয় জায়গায় একই বস্তুসত্তা অর্থ হয়ে থাকে এবং আলিফ ও লাম ব্যতিরেকে পুনরায় উল্লেখ করা হলে উভয় জায়গায় পৃথক পৃথক বস্তুসত্তা বোঝানো হয়ে থাকে। আলোচ্য আয়াতে العسر শব্দটি যখন পুনরায় العسر উল্লেখিত হয়েছে, তখন বোঝা গেল যে, উভয় জায়গায় একই عسر অর্থাৎ কষ্ট বোঝানো হয়েছে। পক্ষান্তরে يسر শব্দটি উভয় জায়গায় আলিফ ও লাম ব্যতিরেকে উল্লেখিত হয়েছে। এতে নিয়মানুযায়ী বোঝা যায় যে, দ্বিতীয় يسر তথা স্বস্তি প্রথম يسر তথা স্বস্তি থেকে ভিন্ন। অতএব আয়াতে (إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا) এর পুনরুল্লেখ থেকে জানা গেল যে, একই কষ্টের জন্যে দুটি স্বস্তির ওয়াদা করা হয়েছে। দু’এর উদ্দেশ্যও এখানে বিশেষ দু’এর সংখ্যা নয়; বরং উদ্দেশ্য অনেক। অতএব সারকথা এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি কষ্টের সাথে তাকে অনেক স্বস্তি দান করা হবে। হাদীসে এসেছে, “নিশ্চয় বিপদের সাথে মুক্তি আছে, আর নিশ্চয় কষ্টের সাথে আছে স্বস্তি”। (মুসনাদ আহমাদ: ১/৩০৭) হাসান বসরী ও কাতাদাহ বলেন, ‘এক কষ্ট দুই স্বস্তির উপর প্রবল হতে পারে না’। (ফাতহুল কাদীর, তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৬। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি। (1)

(1) এ হল নবী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাগণের জন্য শুভসংবাদ যে, তোমরা ইসলামের পথে যা কিছু দুঃখ-কষ্ট সহ্য করছ এ ব্যাপারে চিন্তিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই; যেহেতু এর পরেই আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য অবসর ও স্বস্তি এনে দেবেন। সুতরাং এইরূপই হয়েছিল; যা সারা পৃথিবীর লোকেরা অবগত।