وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ

ওয়া আম্মাছ ছাইলা ফালা-তানহার।উচ্চারণ

প্রার্থীকে তিরস্কার করো না। ১০ তাফহীমুল কুরআন

এবং যে সওয়াল করে, তাকে দাবড়ি দিও না মুফতী তাকী উসমানী

আর সওয়ালকারীকে ভৎর্সনা করনা।মুজিবুর রহমান

সওয়ালকারীকে ধমক দেবেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং প্রার্থীকে ভর্ৎসনা কর না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর ভিক্ষুককে তুমি ধমক দিওনা।আল-বায়ান

এবং ভিক্ষুককে ধমক দিবে না।তাইসিরুল

আর সাহায্যপ্রার্থীর ক্ষেত্রে -- তুমি তবে হাঁকিয়ে দিয়ো না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০

এর দু’টি অর্থ হয়। যদি প্রার্থীকে সাহায্য প্রার্থনাকরী অভাবী হিসেবে ধরা হয় তাহলে এর অর্থ হয়, তাকে সাহায্য করতে পারলে করো আর না করতে পারলে কোমল স্বরে তাকে নিজের অক্ষমতা বুঝিয়ে দাও। কিন্তু কোনক্রমে তার সাথে রূঢ় ব্যবহার করো না। এই অর্থের দিক দিয়ে নির্দেশটিকে আল্লাহর সেই অনুগ্রহের জবাবে দেয়া হয়েছে বলা যেতে পারে, যাতে বলা হয়েছে “তুমি অভাবী ছিলে তারপর আল্লাহ‌ তোমাকে ধনী করে দিয়েছেন। আর যদি প্রার্থীকে জিজ্ঞেসকারী অর্থাৎ দ্বীনের কোন বিষয় বা বিধান জিজ্ঞেসকারী অর্থে ধরা হয় তাহলে এর অর্থ হয়, এই ধরনের লোক যতই মূর্খ ও অজ্ঞ হোক না কেন এবং যতই অযৌক্তিক পদ্ধতিতে সে প্রশ্ন করুক বা নিজের মানসিক সংকট উপস্থাপন করুক না কেন, সকল অবস্থায়ই স্নেহশীলতা ও কোমলতা সহকারে তাকে জবাব দাও এবং জ্ঞানের অহংকারে বদমেজাজ লোকদের মতো ধমক দিয়ে বা কড়া কথা বলে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ো না। এই অর্থের দিক দিয়ে এই বাণীটিকে আল্লাহর সেই অনুগ্রহের জবাবে দেয়া হয়েছে বলা যেতে পারে, যাতে বলা হয়েছে---“তুমি পথের খোঁজ জানতে না তারপর তিনিই তোমাকে পথনির্দেশনা দিয়েছে।” হযরত আবু দারদা(রা.), হাসান বসরী (র), সুফিয়ান সওরী (র) এবং অন্যান্য কয়েকজন মনীষী এই দ্বিতীয় অর্থটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ তাদের মতে বক্তব্য বিন্যাসের দিক দিয়ে বিচার করলে এ বক্তব্যটি ( وَوَجَدَكَ ضَآلاًّ فَهَدٰى) এর জবাবেই দেয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘সওয়ালকারী’ দ্বারা সেই ব্যক্তিকেও বোঝানো হতে পারে, যে অর্থ সাহায্য প্রার্থনা করে এবং সেই ব্যক্তিকেও, যে সত্য জানার আগ্রহে দীন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। উভয়কেই দাবড়ি দিতে ও ভর্ৎসনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কোন ওজর থাকলে নম্র ভাষায় অপারগতা প্রকাশ করা উচিত।

তাফসীরে জাকারিয়া

১০. আর প্রার্থীকে ভর্ৎসনা করবেন না।(১)

(১) দ্বিতীয় নির্দেশ হচ্ছে, অর্থগত ও জ্ঞানগত প্রার্থীকে ধমক বা ভর্ৎসনা করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিষেধ করা হয়েছে। যদি ‘প্রার্থী’ বলে এখানে সাহায্য প্রার্থনাকারী অভাবী ধরা হয় তাহলে এর অর্থ হয়, তাকে সাহায্য করতে পারলে করুক আর না করতে পারলে কোমল স্বরে তাকে নিজের অক্ষমতা বুঝিয়ে দিন। কিন্তু কোনক্রমে তার সাথে রূঢ় ব্যবহার করবেন না। এই অর্থের দিক দিয়ে এই নির্দেশটিকে আল্লাহর সেই অনুগ্রহের জবাবে দেয়া হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে “আপনি অভাবী ছিলেন তারপর আল্লাহ আপনাকে ধনী করে দিয়েছেন।” আর যদি ‘প্রার্থীকে’ জিজ্ঞেসকারী অর্থাৎ দ্বীনের কোন বিষয় বা বিধান জিজ্ঞেসকারী অর্থে ধরা হয় তাহলে এর অর্থ হয়, এই ধরনের লোক যতই মূর্খ ও অজ্ঞ হোক না কেন এবং যতই অযৌক্তিক পদ্ধতিতে সে প্রশ্ন করুক বা নিজের মানসিক সংকট উপস্থাপন করুক না কেন, সকল অবস্থায়ই স্নেহশীলতা ও কোমলতা সহকারে তাকে জবাব দিন এবং ধমক দিয়ে বা কড়া কথা বলে তাদেরকে তাড়িয়ে দিবেন না। এই অর্থের দিক দিয়ে এই বাণীটিকে আল্লাহর সেই অনুগ্রহের জবাবে দেয়া হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে “আপনি পথের খোঁজ জানতেন না তারপর তিনিই আপনাকে পথনির্দেশনা দিয়েছেন।” আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, সাহায্য প্রার্থীকে কিছু দিয়ে বিদায় করা এবং দিতে না পারলে নরম ভাষায় অক্ষমতা প্রকাশ করা উচিত। এমনিভাবে যে ব্যক্তি কোন শিক্ষণীয় বিষয় জানতে চায় তার জওয়াবেও কঠোরতা ও দুর্ব্যবহার করা নিষেধ। (দেখুন: সা’দী; আদওয়াউল বায়ান)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১০। এবং ভিক্ষুককে ধমক দিও না। (1)

(1) তার প্রতি কোন প্রকার কঠোরতা প্রদর্শন করো না এবং অহংকারও নয়। কর্কশ ও কড়া ভাষা ব্যবহার করো না। বরং (ভিক্ষা না দিয়ে) জওয়াব দিলেও স্নেহ ও মহব্বতের সাথে (মিষ্টি কথায়) জওয়াব দাও।