وَأَمَّا بِنِعۡمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثۡ

ওয়া আম্মা-বিনি‘মাতি রব্বিকা ফাহাদ্দিছ।উচ্চারণ

আর নিজের রবের নিয়ামত প্রকাশ করো। ১১ তাফহীমুল কুরআন

এবং তোমার প্রতিপালকের যে নি‘আমত (পেয়েছ), তার চর্চা করতে থাক। মুফতী তাকী উসমানী

তুমি তোমার রবের অনুগ্রহের কথা ব্যক্ত করতে থাকো।মুজিবুর রহমান

এবং আপনার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা প্রকাশ করুন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা জানিয়ে দাও।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমার রবের অনুগ্রহ তুমি বর্ণনা কর।আল-বায়ান

আর তুমি তোমার রব-এর নি‘মাতকে (তোমার কথা, কাজকর্ম ও আচরণের মাধ্যমে) প্রকাশ করতে থাক।তাইসিরুল

আর তোমার প্রভুর অনুগ্রহের ক্ষেত্রে -- তুমি তবে ঘোষণা করতে থাকো।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১১

নিয়ামত শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক। এর অর্থ এমন সব নিয়ামত হয়, যা এই সূরাটি নাযিল হওয়ার সময় পর্যন্ত আল্লাহ‌ তাঁর রসূলকে দান করেছিলেন। আবার এমন সব নিয়মিতও হয়, যা এই সূরায় প্রদত্ত নিজের ওয়াদা এবং পরবর্তীকালে তা পূর্ণতা দান প্রসঙ্গে তিনি রসূলকে প্রদান করেছিলেন। এর ওপর আবার হুকুম দেয়া হয়েছে, হে নবী! আল্লাহ‌ তোমাকে যেসব নিয়মিত দান করেছেন তার প্রত্যেকটির কথা স্মরণ কর। এ নিয়ামত বিশেষ আকারে নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। সামগ্রিকভাবে সমস্ত নিয়ামত প্রকাশের পদ্ধতি নিম্নরূপঃ মুখে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবেএবং একথার স্বীকৃতি দিতে হবে যে, আমি যেসব নিয়ামত লাভ করেছি সবই আল্লাহর মেহেরবানীও অনুগ্রহের ফল। নয়তো এর মধ্যে কোনো একটিও আমার নিজের ব্যক্তিগত উপার্জনের ফসল নয়। দাওয়াতও তাবলীগের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করে নবুওয়াতের নিয়ামত প্রকাশ করা যেতে পারে। লোকদের মধ্যে বেশী বেশী করে কুরআন প্রচার করে এবং তার শিক্ষাবলীর সাহায্যে মানুষের হৃদয়দেশ আলোকিত করে কুরআনের নিয়ামত প্রকাশ করা যেতে পারে। পথহারা মানুষদের সরল সত্য পথ দেখিয়ে দিয়ে এবং সবরের সাহায্যে এই কাজের যাবতীয় তিক্ততা ও কষ্টের মোকাবেলা করে হেদায়েত লাভের নিয়ামত প্রকাশ করা যেতে পারে। এতিম অবস্থায় সাহায্য-সহায়তা দান করে আল্লাহ‌ যে অনুগ্রহ দেখিয়েছেন এতিমদের সাথে ঠিক তেমনি অনুগ্রহপূর্ণ ব্যবহারকরে এই নিয়ামতটি প্রকাশ করা যেতে পারে। দারিদ্র্য ও অভাব থেকে সচ্ছলতাও ধনাঢ্যতা দান করার জন্য যে অনুগ্রহ আল্লাহ‌ করেছেন অভাবী মানুষদের সাহায্য করেই সেই নিয়ামত প্রকাশ করা যেতে পারে। মোটকথা, আল্লাহ‌ তাঁর অনুগ্রহ ও নিয়ামতসমূহ বর্ণনা করার পর একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যের মাধ্যমে তাঁর রসূলকে এই গভীর ও ব্যাপক অর্থপূর্ণ হেদায়াত দান করেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অনুগ্রহকারীর অনুগ্রহের কথা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রচার করলে তাতে শরীয়তে কোন দোষ নেই বরং তা প্রশংসনীয় কাজ। সুতরাং আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যেসব অনুগ্রহ করেছেন, এ আয়াতে তাঁকে তা প্রচার করার হুকুম দেওয়া হয়েছে। বিশেষত ৭নং আয়াতে যে হেদায়েত ও শরীয়ত দানের নি‘আমতের কথা বর্ণিত হয়েছে, তার প্রচার করা তো নবী হিসেবে তাঁর দায়িত্বও বটে (-অনুবাদক তাফসীরে উছমানী থেকে গৃহীত)।

তাফসীরে জাকারিয়া

১১. আর আপনি আপনার রবের অনুগ্রহের কথা জানিয়ে দিন।(১)

(১) তৃতীয় নির্দেশ হচ্ছে, মানুষের সামনে আল্লাহর নেয়ামতসমূহ বৰ্ণনা করুন, স্মরণ করুন। নিয়ামত শব্দটি ব্যাপক অৰ্থবোধক। এর অর্থ দুনিয়ার নিয়ামতও হতে পারে আবার এমন-সব নিয়ামতও হতে পারে যা আল্লাহ তা'আলা আখেরাতে দান করবেন। (সা’দী) এ নিয়ামত প্ৰকাশ করার পদ্ধতি বিভিন্ন হতে পারে। সামগ্রিকভাবে সমস্ত নিয়ামত প্রকাশের পদ্ধতি হলো আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, স্বীকৃতি দেয়া যে, আমি যেসব নিয়ামত লাভ করেছি সবই আল্লাহর মেহেরবানী ও অনুগ্রহের ফল। নবুওয়াতের এবং অহীর নিয়ামত প্রকাশ করা যেতে পারে দ্বীনের প্রচার ও প্রসার করার মাধ্যমে। এ-ছাড়া, একজন অন্যজনের প্রতি যে অনুগ্রহ করে, তার শোকর আদায় করাও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক পন্থা। হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি অপরের অনুগ্রহের শোকর আদায় করে না, সে আল্লাহ তা’আলারও শোকর আদায় করে না। (আবু দাউদ: ৪৮১১, তিরমিযী: ১৯৫৫, মুসনাদে আহমাদ: ২/৫৮) (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১১। আর তুমি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা ব্যক্ত কর।(1)

(1) অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা তোমার উপর যা অনুগ্রহ করেছেন। যেমন, তিনি তোমাকে হিদায়াত, রিসালত ও নবুঅত দান করেছেন, এতীম হওয়া সত্ত্বেও তিনি তোমার তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা করেছেন, তোমাকে অল্পে তুষ্ট করেছেন ও অভাবমুক্ত করেছেন প্রভৃতি। এই সমস্ত অনুগ্রহসমূহের কথা কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়ার সাথে বয়ান কর। এ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহের কথা চর্চা এবং প্রকাশ করাকে তিনি পছন্দ করেন। কিন্তু তা অহংকার ও গর্বের সাথে নয়। বরং আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া এবং তাঁর এহসানিতে ডুবে থেকে এবং আল্লাহর কুদরত ও শক্তিকে এই ভয় করে তা ব্যক্ত করতে হবে যে, তিনি যেন আমাদেরকে ঐ সকল নিয়ামত হতে বঞ্চিত না করে দেন।