وَإِنَّ لَنَا لَلۡأٓخِرَةَ وَٱلۡأُولَىٰ

ওয়া ইন্না লানা-লালআ-খিরতা ওয়ালঊলা-।উচ্চারণ

আর আসলে আমি তো আখেরাত ও দুনিয়া উভয়েরই মালিক। তাফহীমুল কুরআন

এবং অবশ্যই, আখেরাত ও দুনিয়া আমারই কর্তৃত্বাধীন। মুফতী তাকী উসমানী

আমিই মালিক পরলোকের ও ইহলোকের।মুজিবুর রহমান

আর আমি মালিক ইহকালের ও পরকালের।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি তো মালিক পরলোকের ও ইহলোকের। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর অবশ্যই আমার অধিকারে পরকাল ও ইহকাল।আল-বায়ান

আর পরকাল ও ইহকালের একমাত্র মালিক আমি।তাইসিরুল

আর নিঃসন্দেহ আমরাই তো মালিক পরকালের ও পূর্বকালের।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এ বক্তব্যটির কয়েকটি অর্থ হয়। সবগুলো অর্থই সঠিক। এক, দুনিয়া থেকে আখেরাত পর্যন্ত কোথাও তোমরা আমার নিয়ন্ত্রণ ও পাকড়াও এর বাইরে অবস্থান করছো না। কারণ আমিই উভয় জাহানের মালিক। দুই, তোমরা আমার দেখানো পথে চলো বা না চলো আসলে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ের ওপর আমার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। তোমরা ভুল পথে চললে তাতে আমার কোন ক্ষতি হবে না, তোমাদের ক্ষতি হবে। আর তোমরা সঠিক পথে চললে আমার কোন লাভ হবে না, তোমরাই লাভবান হবে। তোমাদের নাফরমানির কারণে আমার মালিকানায় কোন কমতি দেখা দেবে না এবং তোমাদের আনুগত্য তার মধ্যে কোন বৃদ্ধিও ঘটাতে পারবে না। তিন, আমিই উভয় জাহানের মালিক। দুনিয়া তথা বৈষয়িক স্বার্থ চাইলে তা আমার কাছ থেকেই তোমরা পাবে। আবার আখেরাতের কল্যাণ চাইলে তাও দেবার ক্ষমতা একমাত্র আমারই আছে। একথাটিই সূরা আলে ইমরানের ১৪৫ আয়াতে এভাবে বলা হয়েছেঃ

وَمَنۡ يُّرِدۡ ثَوَابَ الدُّنۡيَا نُؤۡتِهٖ مِنۡهَا‌ۚ وَمَنۡ يُّرِدۡ ثَوَابَ الۡاٰخِرَةِ نُؤۡتِهٖ مِنۡهَا‌ؕ

“যে ব্যক্তি দুনিয়ায় সওয়াব হাসিলের সংকল্পে কাজ করবে আমি তাকে দুনিয়া থেকেই দেবো আর যে ব্যক্তি আখেরাতের সওয়াব হাসিলের সংকল্পে কাজ করবে আমি তাকে আখেরাত থেকে দেবো।”

সূরা শুরা ২০ আয়াতে একথাটি নিম্নোক্তভাবে বলা হয়েছেঃ

مَنۡ كَانَ يُرِيۡدُ حَرۡثَ الۡاٰخِرَةِ نَزِدۡ لَهٗ فِىۡ حَرۡثِهٖ‌ۚ وَمَنۡ كَانَ يُرِيۡدُ حَرۡثَ الدُّنۡيَا نُؤۡتِهٖ مِنۡهَا وَمَا لَهٗ فِىۡ الۡاٰخِرَةِ مِنۡ نَّصِيۡبٍ‏

“যে ব্যক্তি আখেরাতের কৃষি চায় তার কৃষিকে আমি বাড়িয়ে দেই আর যে দুনিয়ার কৃষি চায় তাকে দুনিয়া থেকেই দান করি, কিন্তু আখেরাতে তার কোন অংশ নেই।”

আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আলে ইমরান ১০৫ টীকা এবং আশ শূরা ৩৫ টীকা।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সুতরাং আমারই এ অধিকার আছে যে, মানুষের প্রতি বিধি-বিধান আরোপ করব, যা দুনিয়ার জীবনে মেনে চলতে তারা বাধ্য থাকবে। যারা তা মানবে আখেরাতে তাদেরকে পুরস্কৃত করব আর যারা অমান্য করবে তাদেরকে শাস্তি দান করব।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩. আর আমরাই তো মালিক আখেরাতের ও প্রথমটির (দুনিয়ার)।(১)

(১) এ বক্তব্যটির অর্থ, দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের মালিক আল্লাহ তা'আলাই। উভয় জাহানেই আল্লাহ্ তা'আলার পূর্ণ মালিকানা ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত। তিনি যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করে দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্য প্ৰদান করেন, আর যাকে ইচ্ছা তিনি সৎপথ থেকে বঞ্চিত করেন। তাই একমাত্র তারই নিকটে হওয়া উচিৎ সকলের চাওয়া-পাওয়া, অন্য কোন সৃষ্টির নিকট নয়। (তাবারী, সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৩। আর ইহকাল ও পরকালের কর্তৃত্ব আমারই। (1)

(1) অর্থাৎ, উভয়ের মালিক আমিই। আমি যেভাবে চাই, সেভাবেই উভয়কে পরিচালনা করি। এই জন্য উভয়ের কিংবা তার একটির প্রার্থী যেন আমারই নিকট প্রার্থনা করে। কেননা, প্রত্যেক প্রার্থনাকারীকে আমিই আমার ইচ্ছানুযায়ী দান করে থাকি।