وَٱلشَّمۡسِ وَضُحَىٰهَا

ওয়াশ শামছি ওয়াদু হা-হা-।উচ্চারণ

সূর্যের ও তার রোদের কসম। তাফহীমুল কুরআন

শপথ সূর্যের ও তার বিস্তৃত রোদের। মুফতী তাকী উসমানী

শপথ সূর্যের যখন সে আচ্ছন্ন করে,মুজিবুর রহমান

শপথ সূর্যের ও তার কিরণের,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শপথ সূর্যের এবং এর কিরণের, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কসম সূর্যের ও তার কিরণের।আল-বায়ান

শপথ সূর্যের ও তার (উজ্জ্বল) কিরণের,তাইসিরুল

ভাবো সূর্যের আর তার সকাল বেলাকার কিরণের কথা,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

মূলে দুহা (ضُحَى) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। দুহা মানে সূর্যের আলো ও তাপ দু’টোই। আরবী ভাষায় এর পরিচিত মানে হচ্ছে চাশতের সময়, যখন সূর্য উদয়ের পরে যথেষ্ট উপরে উঠে যায় কিন্তু উপরে ওঠার পরে কোন আলোই বেড়ে যায় না, তাপও বিকীরণ করতে থাকে। তাই ‘দুহা’ শব্দটি যখন সূর্যের সাথে সম্পর্কিত হয়, তখন তার আলো বা তার বদৌলতে যে দিনের উদয় হয় তা থেকে তার পুরোপুরি অর্থ প্রকাশ হয় না। বরং এর তুলনায় রোদ শব্দটি তার সঠিক ও পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

الشمس (শামস) মানে সূর্য। সূরাটির প্রথমে ‘শামস’-এর শপথ করা হয়েছে। এ থেকেই সূরাটির নাম হয়েছে সূরা শামস। এ সূরায় মৌলিকভাবে বলা হয়েছে যে, মানুষের ভেতর সৃষ্টিগতভাবেই পাপ ও পুণ্য উভয়ের আগ্রহ রাখা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে কোনটা পাপ ও কোনটা পুণ্য সেই জ্ঞানও তাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন মানুষের কাজ হল পুণ্যের আগ্রহকে বাস্তবায়িত করা ও পাপের চাহিদাকে দমন করা। এ বিষয়টা বলার জন্য আল্লাহ তাআলা সূর্য, চন্দ্র, দিন ও রাতের শপথ করেছেন। সম্ভবত এর দ্বারা ইশারা করা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা যেভাবে সূর্য ও চন্দ্রের আলো এবং রাতের অন্ধকার সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তিনি মানুষকে ভালো কাজেরও যোগ্যতা দিয়েছেন এবং মন্দ কাজেরও, যা তার আত্মার জন্য আলো ও অন্ধকার তুল্য।

তাফসীরে জাকারিয়া

১. শপথ সূর্যের এবং তার কিরণের(১),

(১) এখানে ضحى শব্দটি شمس এর বিশেষণ। এ শব্দের কয়েকটি অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ হলো দিন, দিনের প্রথমভাগ। (মুয়াসসার, তাবারী) এর আরেকটি অর্থ হতে পারে, তা হলো, আর শপথ সূর্যের কিরণ বা আলোর। (সা’দী, জালালাইন)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১ । শপথ সূর্যের এবং তার (দিনের প্রথম ভাগের) কিরণের। (1)

(1) চাশতের সময় অথবা সূর্যের কিরণের কসম। অথবা ‘য্বুহা’ বলতে দিনকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, সূর্য এবং দিনের কসম।