ইয়াকূ লুআহলাকতুমা-লাল লুবাদা-।উচ্চারণ
সে বলে, আমি প্রচুর ধন সম্পদ উড়িয়ে দিয়েছি। ৭ তাফহীমুল কুরআন
সে বলে, আমি অঢেল অর্থ-সম্পদ উড়িয়েছি। মুফতী তাকী উসমানী
সে বলেঃ আমি রাশি রাশি অর্থ উড়িয়ে দিয়েছি।মুজিবুর রহমান
সে বলেঃ আমি প্রচুর ধন-সম্পদ ব্যয় করেছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সে বলে, ‘আমি প্রচুর অর্থ নিঃশেষ করেছি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলে, ‘আমি প্রচুর ধন-সম্পদ নিঃশেষ করেছি’।আল-বায়ান
সে (গর্বের সঙ্গে) বলে যে, আমি প্রচুর ধন-সম্পদ উড়িয়েছি।তাইসিরুল
সে বলে -- "আমি প্রচুর সম্পদ নিঃশেষ করেছি।"মাওলানা জহুরুল হক
৭
اَنْفَقْتُ مَا لاًلٌّبَدًا “আমি প্রচুর ধন সম্পদ খরচ করেছি বলা হয়েনি। বরং বলা হয়েছে اَهْلَكَتُ مَالاًلٌّبَدًا“আমি প্রচুর ধন সম্পদ উড়িয়ে দিয়েছে। এই শব্দগুলোই প্রকাশ করে, বক্তা তার ধন সম্পদের প্রাচুর্যে কী পরিমাণ গর্বিত। যে বিপুল পরিমাণ ধন সে খরচ করেছে নিজের সামগ্রিক সম্পদের তুলনায় তার কাছে তার পরিমাণ এত সামান্য ছিল যে, তা উড়িয়ে বা ফুঁকিয়ে দেবার কোন পরোয়াই সে করেনি। আর এই সম্পদ সে কোনো কাজে উড়িয়েছে? কোন প্রকৃত নেকীর কাজে নয়, যেমন সামনের আয়াতগুলো থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। বরং এই সম্পদ সে উড়িয়েছে নিজের ধনাঢ্যতার প্রদর্শনী এবং নিজের অহংকারও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করার জন্য। তোশামোদকারী কবিদেরকে সে বিপুলভাবে পুরস্কৃত করেছে। বিবাহ ও শোকের মজলিসে হাজার হাজার লোককে দাওয়াত দিয়ে আহার করিয়েছে। জুয়া খেলায় গো-হারা হেরে বিপুল পরিমাণ অর্থ খুইয়েছে। জুয়ায় জিতে শত শত উট জবাই করে ইয়ার বন্ধুদের ভুরি ভোজন করিয়াছে। মেলায় ধূমধাম করে গিয়েছে এবং অন্যান্য সরদারদের চাইতে অনেক বেশী জাঁকজমক ও আড়ম্বর দেখিয়েছে। উৎসব অঢেল খাবার তৈরি করেছে এবং যে চায় সে এসে খেয়ে যেতে পারে বলে সব মানুষকে খাবার জন্য সাধারণ আহবান জানিয়েছে অথবা নিজের বাড়িতে প্রকাশ্য লঙ্গরখানা খুলে দিয়েছে, যাতে দূর-দূরান্তে একথা ছড়িয়ে পড়ে যে, অমুক ধনীর দানশীলতার তুলনা নেই। এসব এবং এই ধরনের আরো অনেক প্রদর্শনীমূলক ব্যয় বহর ছিল যেগুলোকে জাহেলীযুগে মানুষের দানশীলতাও ঔদার্যের নিদর্শন এবং তার শ্রেষ্ঠত্বের নিশানী মনেকরা হতো। এসবের জন্য তাদের প্রশংসার ডঙ্কা বাজতো, তাদের প্রশংসার কবিতা রচিত ও পঠিত হতো এবং তারা নিজেরাও এজন্য অন্যের মোকাবেলায় নিজেদের গৌরব করে বেড়াতো।
মক্কা মুকাররমায় কয়েকজন কাফের খুব বেশি পেশী শক্তির অধিকারী ছিল। তাদেরকে যখন আল্লাহ তাআলার শাস্তির ভয় দেখানো হত, বলত, আমাদেরকে কেউ কাবু করতে পারবে না। যেসব কাফের বিত্তবান ছিল তারা একে অন্যকে বলত, দেখ আমি প্রচুর অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে ফেলেছি। ব্যয় করাকে ‘উড়ানো’ শব্দে ব্যক্ত করে বোঝাতো যে, এই ব্যয়ে আমি কোন কিছু গ্রাহ্য করি না। তারা বিশেষভাবে গর্ব করত সেই ব্যয় নিয়ে, যা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতা ও শত্রুতার পেছনে করত।
৬. সে বলে, আমি প্রচুর অর্থ নিঃশেষ করেছি।(১)
(১) বলা হয়েছে সে বলে “আমি প্রচুর ধন-সম্পদ উড়িয়ে দিয়েছি”। এই শব্দগুলোই প্রকাশ করে, বক্তা তার ধন-সম্পদের প্রাচুর্যে কী পরিমাণ গর্বিত। যে বিপুল পরিমাণ ধন সে খরচ করেছে নিজের সামগ্রিক সম্পদের তুলনায় তার কাছে তার পরিমাণ এত সামান্য ছিল যে, তা উড়িয়ে বা ফুকিয়ে দেবার কোন পরোয়াই সে করেনি। আর এই সম্পদ সে কোন কাজে উড়িয়েছে? কোন প্রকৃত নেকীর কাজে নয়, যেমন সামনের আয়াতগুলো থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। বরং এই সম্পদ সে উড়িয়েছে নিজের ধনাঢ্যতার প্রদর্শনী এবং নিজের অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করার জন্য।
৬। সে বলে, ‘আমি রাশি রাশি অর্থ উড়িয়ে দিয়েছি।’ (1)
(1) لُبَد শব্দের অর্থ হল প্রচুর বা রাশি রাশি। অর্থাৎ, সে দুনিয়ার ব্যাপারে এবং ফালতু কাজে অনেকানেক পয়সা ব্যয় করে অতঃপর গর্বের সাথে লোকের কাছে তা বলে বেড়ায়। (অথবা সে দ্বীনের ব্যাপারে অর্থ ব্যয় করে, অতঃপর আক্ষেপের সাথে লোকের কাছে তা বলে বেড়ায়। -সম্পাদক)