وَفِرۡعَوۡنَ ذِي ٱلۡأَوۡتَادِ

ওয়া ফির‘আউনা যীল আওতা-দ।উচ্চারণ

আর কীলকধারী ফেরাউনের সাথে? তাফহীমুল কুরআন

এবং (কী আচরণ করেছেন) পেরেকওয়ালা ফির‘আউনের প্রতি?মুফতী তাকী উসমানী

এবং বহু সৈন্য শিবিরের অধিপতি ফির‘আউনের প্রতি –মুজিবুর রহমান

এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথেমাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং বহু সৈন্য-শিবিরের অধিপতি ফির‘আওনের প্রতি ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর ফির‘আউন, সেনাছাউনীর অধিপতি?আল-বায়ান

এবং (সেনা ছাউনী স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত) কীলক-এর অধিপতি ফেরাউনের প্রতি?তাইসিরুল

আর ফিরআউনের প্রতি, যার ছিল দুর্ধর্ষ সেনাদল,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

ফেরাউনের জন্য ‘যুল আউতাদ’ (কীলকধারী) শব্দ এর আগে সুরা সাদের ১২ আয়াতেও ব্যবহার করা হয়েছে। এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। তার সেনাবাহিনীকে কীলকের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং সেই অর্থে কীলকধারী মানে সেনাবাহিনীর অধিকারী। কারণ তাদেরই বদৌলতে তার রাজত্ব এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল যেমন কীলকের সাহায্যে তাঁবু মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে। এর অর্থ সেনা দলের সংখ্যাধিক্যও হতে পারে। এক্ষেত্রে এর অর্থ হবে, তার সেনাদল যেখানে গিয়ে তাঁবু গাঁড়তো সেখানেই চারদিকে শুধু তাঁবুর কীলকই পোঁতা দেখা যেতো। আবার এর অর্থ সেই কীলকও হতে পারে যা মানুষের শরীরে গেঁড়ে দিয়ে সে তাদেরকে শাস্তি দিতো। এও হতে পারে, মিসরের পিরামিডগুলোকে কীলকের সাথে তুলনা করা হয়েছে। কারণ সেগুলো ফেরাউনদের পরাক্রম ও শান শওকতের নিদর্শন হিসেবে হাজার হাজার বছর থেকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

ফির‘আউনকে ‘পেরেকওয়ালা’ বলা হয়েছে এ কারণে যে, সে মানুষকে শাস্তি দানের জন্য তাদের হাতে-পায়ে পেরেক গেঁথে দিত। [কারও মতে এর দ্বারা সৈন্যদের শিবির বোঝানো হয়েছে যা বড় বড় পেরেক দ্বারা স্থাপন করা হত। সে হিসেবে এর ভাবার্থ হল বিশাল সেনাবাহিনীওয়ালা। বলদর্পী ফিরআউনের সৈন্য-সামন্ত ছিল প্রচুর। তাদের দ্বারা সে মিশরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল -অনুবাদক]

তাফসীরে জাকারিয়া

১০. এবং কীলকওয়ালা ফিরআউনের প্রতি?(১)

(১) أوْتَاد শব্দটি وتد এর বহুবচন। এর অর্থ কীলক। ফিরআউনের জন্য ‘যুল আউতাদ’। (কীলকধারী) শব্দ এর আগে সূরা সাদের ১২ আয়াতেও ব্যবহার করা হয়েছে। ফিরআউনকে কীলকওয়ালা বলার বিভিন্ন কারণ তাফসীরবিদগণ বর্ণনা করেছেন। কারও কারও মতে এর দ্বারা যুলুম নিপীড়ন বোঝানোই উদ্দেশ্য। কারণ, ফিরআউন যার উপর ক্রোধান্বিত হত, তার হাত-পা চারটি পেরেকে বেঁধে অথবা চার হাত পায়ে পেরেক মেরে রৌদ্ৰে শুইয়ে রাখত। বা কোন গাছের সাথে পেরেক মেরে রাখত। অথবা পেরেক মেরে দেহের উপর সাপ-বিচ্ছু ছেড়ে দিত। কোনো কোনো তাফসীরবিদ বলেন, এখানে তার সেনাবাহিনীকেই কীলকের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং সেই অর্থে কীলকধারী মানে সেনাবাহিনীর অধিকারী। কারণ তাদেরই বদৌলতে তার রাজত্ব এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল যেমন কীলকের সাহায্যে তাবু মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাছাড়া এর অর্থ সেনা দলের সংখ্যাধিক্যও হতে পারে। এক্ষেত্রে এর অর্থ হবে, তার সেনাদল যেখানে গিয়ে তাবু গাড়তো সেখানেই চারদিকে শুধু তাবুর কীলকই পোঁতা দেখা যেতো। কারও কারও মতে, এর দ্বারা ফিরআউনের প্ৰাসাদ-অট্টালিকা বোঝানো হয়েছে। এসবের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। ফিরআউন মূলত: এসবেরই অধিকারী ছিল। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১০। এবং বহু সৈন্য শিবিরের অধিপতি ফিরাউনের সাথে? (1)

(1) ذي الأوتاد এর আসল অর্থঃ গোঁজ বা কীলক-ওয়ালা। এর মর্মার্থ এই যে, ফিরআউন বিশাল সংখ্যক সেনাবাহিনীর অধিপতি ছিল। যার ছিল অনেক অনেক শিবির বা তাঁবু; যা মাটিতে কীলক গেড়ে টাঙ্গানো হত। অথবা এর দ্বারা তার অত্যাচার ও যুলুমবাজির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। যেহেতু সে কীলক বা পেরেক দ্বারা মানুষকে শাস্তি দিত। (ফাতহুল কাদীর)