ফাযাক্কির ইন নাফা‘আতিযযিকর-।উচ্চারণ
কাজেই তুমি উপদেশ দাও, যদি উপদেশ উপকারী হয় ১০ তাফহীমুল কুরআন
সুতরাং তুমি উপদেশ দিতে থাক, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়, মুফতী তাকী উসমানী
অতএব উপদেশ যদি ফলপ্রসু হয় তাহলে উপদেশ প্রদান কর।মুজিবুর রহমান
উপদেশ ফলপ্রসূ হলে উপদেশ দান করুন,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
উপদেশ যদি ফলপ্রসূ হয় তবে উপদেশ দাও; ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর উপদেশ দাও যদি উপদেশ ফলপ্রসু হয়।আল-বায়ান
কাজেই তুমি উপদেশ দাও যদি উপদেশ উপকার দেয়।তাইসিরুল
অতএব তুমি স্মরণ করিয়ে চলোচ নিশ্চয় স্মরণ করানোতে সুফল রয়েছে।মাওলানা জহুরুল হক
১০
সাধারণভাবে মুফাসসিরগণ এ দু’টি বাক্যকে পৃথক পৃথক অর্থে গ্রহণ করেছেন। তারা প্রথম বাক্যের অর্থ করেছেন, আমি তোমাদেরকে একটি সহজ শরীয়াত দিচিছ। এ শরীয়াত অনুযায়ী কাজ করা সহজ। আর দ্বিতীয় বাক্যটির অর্থ করেছেন, উপদেশ দাও, যদি তা কাজে লাগে। কিন্তু আমার মতে “ফাযাক্কির” (فَذَكِّرْ) শব্দটি উভয় বাক্যকে পরস্পর সংযুক্ত করে দিয়েছে এবং শেষের বাক্যটির বিষয়বস্তু প্রথম বাক্যটির বিষয়বস্তুর ওপরই সংস্থাপিত হয়েছে। তাই আল্লাহর এই বাণীটির অর্থ আমি যা বুঝেছি তা হচ্ছেঃ হে নবী! দ্বীন প্রচারের ব্যাপারে আমি তোমাকে কোন সংকটের মুখোমুখি করতে চাই না। যার শ্রবণশক্তি নেই তাকে শুনাতে হবে এবং যার দৃষ্টিশক্তি নেই তাকে দেখাতে হবে, এ ধরনের সংকটে তোমাকে ফেলতে চাই না। বরং তোমার জন্য একটি সহজ পথ তৈরি করে দিচ্ছি। সে পথটি হচ্ছে, যেখানে তুমি অনুভব করো কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে এবং তা থেকে উপকৃত হতে প্রস্তুত সেখানে উপদেশ দিতে থাকো। এখন কে উপদেশ থেকে উপকৃত হতে এবং কে উপকৃত না হতে চায়, তার সন্ধান পাওয়া যেতে পারে সাধারণ প্রচারের মাধ্যমেই। কাজেই সাধারণ প্রচার জারী রাখতে হবে। কিন্তু সেখানে তোমাদের উদ্দেশ্য হবে এমনসব লোকদের খুঁজে বের কর যারা এর সাহায্যে উপকৃত হয়ে সত্য সরল পথ অবলম্বন করবে। এসব লোকই তোমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অধিকার রাখে এবং এদের শিক্ষা-দীক্ষার প্রতি তোমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। এদেরকে বাদ দিয়ে এমন সব লোকের পেছনে পড়ার তোমাদের কোন প্রয়োজন নেই। যাদের ব্যাপারে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তোমরা জানতে পেরেছো যে, তারা উপদেশ গ্রহণ করতে চায় না। প্রায় এই একই ধরনের বিষয়বস্তুই সূরা আবাসায় অন্যভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছেঃ “যে ব্যক্তি বেপরোয়াভাব দেখায় তার প্রতি তুমি দৃষ্টি দিচ্ছো। অথচ সে সংশোধিত না হলে তোমার ওপর তার কী দায়িত্ব বর্তায়? আর যে ব্যক্তি নিজে তোমার কাছে দৌঁড়ে আসে এবং সে দৌঁড়রত রয়েছে, তার প্রতি তুমি অনাগ্রহ দেখাচ্ছো। এতো একটি উপদেশ, যে চায় এটা গ্রহণ করতে পারে।” (৫-১২ আয়াত)
‘যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়’ এ কথা বলার কারণ, উপদেশ দান কেবল তখনই অবশ্য কর্তব্য, যখন শ্রোতার পক্ষ হতে গ্রহণ করার সম্ভাবনা থাকে। সে সম্ভাবনা যেখানে বোধ হয় না, সেখানে নসীহত করা জরুরি নয়; বরং বেমওকা নসীহত অনেক সময় ক্ষতির কারণ হয়ে যায়। তাই এটা সকলের কাজও নয়। অবশ্য দীনের জরুরি বিষয়ের তাবলীগ এবং আল্লাহর আযাব সম্পর্কে সতর্কীকরণের ব্যাপারটা ভিন্ন। কেননা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা এবং অজ্ঞজনদের অজুহাত দেখানোর পথ বন্ধ করার জন্য সকলের ক্ষেত্রেই তা জরুরি। -অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী থেকে সংক্ষেপে
৯. অতঃপর উপদেশ যদি ফলপ্রসূ হয় তবে উপদেশ দিন(১);
(১) অর্থাৎ যেখানে স্মরণ করিয়ে দিলে কাজে লাগে সেখানে স্মরণ করিয়ে দিবেন। এর দ্বারা জ্ঞান দেয়ার আদব ও নিয়ম নীতি বোঝা যায়। সুতরাং যারা জ্ঞান গ্ৰহণ করার উপযুক্ত নয়, তাদের কাছে সেটা না দেয়া। যেমন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘তুমি যদি এমন কওমের কাছে কোন কথা বল যা তাদের বিবেকে ঢুকবে না, তাহলে সেটা তাদের কারও কারও জন্য বিপদের কারণ হবে। তারপর তিনি বললেন, মানুষ যা চিনে তা-ই শুধু তাদেরকে জানাও, তুমি কি চাও যে লোকেরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর মিথ্যারোপ করুক? (ইবন কাসীর)
৯। অতএব উপদেশ দাও; যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়। (1)
(1) অর্থাৎ, সেখানে ওয়ায-নসীহত কর, যেখানে অনুমান হয় যে, তা উপকারী হবে। এই আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ ওয়ায-নসীহত এবং শিক্ষাদানের একটি নীতি ও আদর্শ বর্ণনা করেছেন। (ইবনে কাসীর)
ইমাম শওকানী (রঃ) এর নিকট এর অর্থ হল এই যে, ‘তুমি উপদেশ দাও; যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয় অথবা না হয়।’ কেননা, সতর্কীকরণ ও তবলীগ উভয় অবস্থাতেই তাঁর জন্য জরুরী ছিল। অর্থাৎ (শওকানীর মতে), أو لم تنفع বাক্য এখানে উহ্য আছে।