إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُۚ إِنَّهُۥ يَعۡلَمُ ٱلۡجَهۡرَ وَمَا يَخۡفَىٰ

ইল্লা-মা-শাআল্লা-হু ইন্নাহূইয়া‘লামুল জাহর ওয়ামা-ইয়াখফা-।উচ্চারণ

তবে আল্লাহ‌ যা চান তা ছাড়া। তিনি জানেন প্রকাশ্য এবং যা কিছু গোপন আছে তাও। তাফহীমুল কুরআন

আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য বিষয়াবলীও জানেন এবং গুপ্ত বিষয়াবলীও।মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ যা ইচ্ছা করবেন তদ্ব্যতীত, নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য ও গুপ্ত বিষয় জ্ঞাত আছেন,মুজিবুর রহমান

আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি জানেন প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করবেন তা ব্যতীত। তিনি জানেন যা প্রকাশ্য ও যা গোপনীয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ যা চান তা ছাড়া। নিশ্চয় তিনি জানেন, যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন থাকে।আল-বায়ান

তবে ওটা বাদে যেটা আল্লাহ (রহিত করার) ইচ্ছে করবেন। তিনি জানেন যা প্রকাশ্য আর যা গোপন।তাইসিরুল

শুধু যা-কিছু আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি জানেন প্রকাশ্য এবং যা গুপ্ত রয়েছে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এই বাক্যটির দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, সমগ্র কুরআনের প্রতিটি শব্দ তোমার স্মৃতিতে সংরক্ষিত হয়ে যাওয়ার পেছনে তোমার নিজের শক্তির কোন কৃতিত্ব নেই। বরং এটি আল্লাহর মেহেরবানী এবং তাঁর তাওফীকের ফল। নয়তো আল্লাহ চাইলে এগুলো তোমার স্মৃতি থেকে উধাও করে দিতে পারেন। এ বক্তব্যটি কুরআনের অন্যত্রও নিম্নোক্তভবে বলা হয়েছেঃ وَلَءِنْ شِءْنَا لَنَذْ هَبَنَّ بِا لَّذِيْآ اَوْحَيْنَلآ اَليْكَ “আমি চাইলে অহীর মাধ্যমে তোমাকে যা কিছু দিয়েছি সব ছিনিয়ে নিতে পারি।” (বনি ইসরাঈল ৮৬) দুই, কখনো সাময়িকভাবে তোমার ভুলে যাওয়া এবং কোন আয়াত বা শব্দ তোমার কোন সময় ভুলে যাওয়া এই ওয়াদার ব্যতিক্রম। যে ব্যাপারে ওয়াদা করা হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, তুমি স্থায়ীভাবে কুরআনের কোন শব্দ ভুলে যাবে না। সহী বুখারীর নিম্নোক্ত হাদীসটিকে এ অর্থের সমর্থনে পেশ করা যেতে পারেঃ একবার ফজরের নামাযে রসূলুল্লাহ ﷺ সূরা পড়ার সময় মাঝখানে একটি আয়াত বাদ দিয়ে যান। নামাযের পর হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) এ আয়াতটি মানসূখ (রহিত) হয়েছে কিনা জিজ্ঞেন করেন। জবাবে রসূল্লাল্লাহ ﷺ বলেন, আমি ভুলে গিয়েছিলাম।

এমনিতে এ শব্দগুলো সাধারণভাবে ব্যবহৃত এবং তার অর্থ এই যে, আল্লাহ গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই জানেন। কিন্তু যে বক্তব্য প্রসঙ্গে একথাগুলো এখানে বলা হয়েছে তা সামনে রাখলে এর যা অর্থ দাঁড়ায় তা হচ্ছেঃ তুমি জিব্রীলের (আ) সাথে সাথে যে কুরআন পড়ে চলেছো। তা আল্লাহ জানেন এবং ভুলে যাবার ভয়ে যে এমনটি করছো তাও আল্লাহ জানেন। তাই তাঁকে নিশ্চয়তা দান করে বলা হচ্ছে, তোমার ভুলে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পাছে কুরআন মাজীদের কোন অংশ ভুলে যান এই চিন্তা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব সময়ই থাকত। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে তাঁকে আশ্বস্ত করছেন যে, আমি আপনাকে ভুলতে দেব না। তবে আল্লাহ তাআলা যেসব বিধান রহিত করতে চান, তা আপনি ভুলে যেতে পারেন, যেমন সূরা বাকারায় (২ : ১০৬) বলা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া।(১) নিশ্চয় তিনি জানেন যা প্ৰকাশ্য ও যা গোপনীয়।

(১) এই বাক্যটির কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক. কুরআনের কিছু আয়াত রহিত করার এক সুবিদিত পদ্ধতি হচ্ছে প্রথম আদেশের বিপরীতে পরিষ্কার দ্বিতীয় আদেশ নাযিল করা। এর আরেকটি পদ্ধতি হলো সংশ্লিষ্ট আয়াতটিই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সকল মুসলিমের স্মৃতি থেকে মুছে দেয়া। এ সম্পর্কে এক আয়াতে আছে, (مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا) অর্থাৎ “আমরা কোন আয়াত রহিত করি অথবা আপনার স্মৃতি থেকে উধাও করে দেই।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১০৬) তাই “আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া” বলে রহিত আয়াতগুলোর কথা বলা হয়েছে। দুই, অথবা আয়াতের উদ্দেশ্য, কখনো সাময়িকভাবে আপনার ভুলে যাওয়া এবং কোন আয়াত বা শব্দ আপনার কোন সময় ভুলে যাওয়া এই ওয়াদার ব্যতিক্রম। যে ব্যাপারে ওয়াদা করা হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, আপনি স্থায়ীভাবে কুরআনের কোন শব্দ ভুলে যাবেন না।

হাদীসে আছে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন একটি সূরা তেলাওয়াত করলেন এবং মাঝখান থেকে একটি আয়াত বাদ পড়ল। ওহী লেখক উবাই ইবনে কা'ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মনে করলেন যে, আয়াতটি বোধ হয় মনসুখ হয়ে গেছে। কিন্তু জিজ্ঞাসার জওয়াবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ মনসুখ হয়নি, আমিই ভুলক্রমে পাঠ করিনি। (মুসনাদে আহমাদ: ৩/৪০৭) অন্য হাদীসে এসেছে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সাহাবীকে কোন আয়াত পড়তে শোনে বললেন, আল্লাহ তাকে রহমত করুন, আমাকে এ আয়াতটি ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল এখন মনে পড়েছে। (মুসলিম: ৭৮৮) অতএব, উল্লিখিত ব্যতিক্রমের সারমর্ম এই যে, সাময়িকভাবে কোন আয়াত ভুলে যাওয়া অতঃপর তা স্মরণে আসা বর্ণিত প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী নয়। (দেখুন: কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৭। আল্লাহ যা ইচ্ছা করবেন তা ব্যতীত, নিশ্চয়ই তিনি ব্যক্ত ও গুপ্ত বিষয় পরিজ্ঞাত আছেন। (1)

(1) এ কথাটি ব্যাপক। ‘ব্যক্ত’ কুরআনের ঐ অংশকেও বলা যায়; যা নবী (সাঃ) মুখস্থ করে নেন। আর যা তাঁর অন্তর থেকে মুছে দেওয়া হয়, তা হল ‘গুপ্ত’ বিষয়। অনুরূপভাবে যা সশব্দে পড়া হয়, তা ‘ব্যক্ত’ এবং যা নিঃশব্দে পড়া হয়, তা ‘গুপ্ত’ এবং যে কাজ প্রকাশ্যে করা হয় তা ‘ব্যক্ত’ এবং যে কাজ গোপনে করা হয়, তা ‘গুপ্ত’ এ সকল বিষয়ের খবর আল্লাহ রাখেন।