سَنُقۡرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰٓ

ছানুকরিউকা ফালা-তানছা-।উচ্চারণ

আমি তোমাকে পড়িয়ে দেবো, তারপর তুমি আর ভুলবে না। তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) আমি তোমাকে দিয়ে পাঠ করাব, ফলে তুমি ভুলবে না,মুফতী তাকী উসমানী

অচিরেই আমি তোমাকে পাঠ করাব, ফলে তুমি বিস্মৃত হবেনা –মুজিবুর রহমান

আমি আপনাকে পাঠ করাতে থাকব, ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন নামাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নিশ্চয় আমি তোমাকে পাঠ করাব, ফলে তুমি বিস্মৃত হবে না, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমাকে পড়িয়ে দেব অতঃপর তুমি ভুলবে না।আল-বায়ান

আমি তোমাকে পড়িয়ে দেব, যার ফলে তুমি ভুলে যাবে না।তাইসিরুল

আমরা যথাশীঘ্র তোমাকে পড়াবো, ফলে তুমি ভুলবে না, --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

হাকেম হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াককাস (রা.) থেকে এবং ইবনে মারদুইয়া হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ ভুলে যাবার ভয়ে কুরআনের শব্দগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে থাকতেন। মুজাহিদ ও কালবী বলেন, জিব্রীল অহী শুনিয়ে শেষ করার আগেই ভুলে যাবার আশঙ্কায় রসূলুল্লাহ ﷺ গোড়ার দিক থেকে আবার পড়তে শুরু করতেন। এ কারণে আল্লাহ তাঁকে নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, অহী নাযিলের সময় তুমি নিরবে শুনতে থাকো। আমি তোমাকে তা এমন ভাবে পড়িয়ে দেবো যার ফলে চিরকালের জন্য তোমার মুখস্থ হয়ে যাবে। এর কোন একটি শব্দ তুমি ভুলে যাবে, এ ভয় করো না। এ নিয়ে তৃতীয়বার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অহী আয়ত্ব করার পদ্ধতি শেখানো হয়। এর আগে আরো দু’বার সূরা ‘ত্বা-হা’র ১১৪ আয়াতে এবং সূরা ‘কিয়ামাহ’র ১৬-১৯ আয়াতে এর আলোচনা এসেছে। এই আয়াত থেকে একথা প্রমাণিত হয়, কুরআন যেমন মু’জিযা হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর নাযিল করা হয়েছিল ঠিক তেমনি মুজিযা হিসেবেই তার প্রতিটি শব্দ তাঁর স্মৃতিতে সংরক্ষিত করে দেয়া হয়েছিল। এর কোন একটি শব্দ তিনি ভুলে যাবেন অথবা একটি শব্দের জায়গায় তাঁর সমার্থক অন্য একটি শব্দ তাঁর মুবারক কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হবে, এ ধরনের সকল সম্ভাবনার পথই বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. শীঘ্রই আমরা আপনাকে পাঠ করাব, ফলে আপনি ভুলবেন না(১),

(১) পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের জন্য তাঁর যে সমস্ত দুনিয়াবী নি'আমত প্রদান করেছেন সেগুলোর কিছু বর্ণনার পর এখন কিছু দ্বীনী নেয়ামত বর্ণনা করছেন। তন্মধ্যে প্রথমেই হচ্ছে কুরআন। (সা’দী) এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সুসংবাদ জানানো হচ্ছে যে, আল্লাহ তাকে এমন জ্ঞান দান করবেন যে, তিনি কুরআনের কোন আয়াত বিস্মৃত হবেন না। আপনার কাছে কিতাবের যে ওহী আমরা পাঠিয়েছি আমরা সেটার হিফাযত করব, আপনার অন্তরে সেটা গেথে দেব, ফলে তা ভুলে যাবেন না। (ইবন কাসীর; সা'দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৬। অচিরেই আমি তোমাকে পাঠ করাব, ফলে তুমি ভুলবে না।(1)

(1) জিবরীল (আঃ) যখন অহী (আল্লাহর প্রত্যাদেশ) নিয়ে আসতেন, তখন তা রসূল (সাঃ) তাড়াতাড়ি পড়তে শুরু করতেন; যাতে করে ভুলে না যান। আল্লাহ তাআলা বললেন, এত তাড়াতাড়ি করার প্রয়োজন নেই। অবতীর্ণকৃত অহী তোমাকে পাঠ করাবার দায়িত্ব আমার। অর্থাৎ, তোমার মুখে তা সঞ্চালিত করব; ফলে তুমি তা ভুলবে না। তবে আল্লাহ যা চাইবেন, তা ভুলে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এইরূপ চাননি। এই জন্য তাঁর সমস্ত মুখস্থ ছিল। কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হল এই যে, যা আল্লাহ মনসূখ (রহিত) করতে চাইবেন, তা তোমাকে ভুলিয়ে দিবেন। (ফাতহুল ক্বাদীর)