وَشَاهِدٖ وَمَشۡهُودٖ

ওয়া শা-হিদিওঁ ওয়া মাশহূদ।উচ্চারণ

আর যে দেখে তার এবং সেই জিনিসের যা দেখা যায়। তাফহীমুল কুরআন

এবং যে উপস্থিত হয় তার এবং যার নিকট উপস্থিত হয় তারমুফতী তাকী উসমানী

শপথ দ্রষ্টা ও দৃষ্টের।মুজিবুর রহমান

এবং সেই দিবসের, যে উপস্থিত হয় ও যাতে উপস্থিত হয়মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শপথ দ্রষ্টা ও দৃষ্টের-ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর কসম সাক্ষ্যদাতার এবং যার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়া হবে তার,আল-বায়ান

আর যে দেখে আর যা দেখা যায় তার শপথতাইসিরুল

আর সাক্ষ্যদাতার ও যাদের জন্য সাক্ষ্য দেওয়া হবে তাদের কথা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

যে দেখে এবং যা দেখা যায়--- এ ব্যাপারে মুফাসসিরগণের বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যায়। কিন্তু আমার মতে বক্তব্যের ধারাবাহিকতার সাথে যে কথাটি সম্পর্ক রাখে সেটি হচ্ছে, যে দেখে বলতে এখানে কিয়ামতের দিন উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তিকে এবং যা দেখা যায় বলতে কিয়ামতকেই বুঝানো হয়েছে। কিয়ামতের ভয়াবহ ও লোমহর্ষক ঘটনাবলী সেদিন যারা দেখে তারা প্রত্যেকেই দেখবে। এটি মুজাহিদ, ইকরামা, যাহহকা, ইবনে নুজাইহ্ এবং অন্যান্য কতিপয় মুফাসসিরের বক্তব্য।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কুরআন মাজীদে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ‘শাহিদ’ ও ‘মাশহুদ’। ‘শাহিদ’-এর তরজমা করা হয়েছে ‘যে উপস্থিত হয়’ আর ‘মাশহুদ’-এর ‘যার কাছে উপস্থিত হয়’। এর বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেমন (ক) ‘শাহিদ’ হল জুমুআর দিন আর ‘মাশহুদ’ আরাফার দিন। তিরমিযী শরীফের একটি হাদীছ দ্বারা এর সমর্থন পাওয়া যায়। হাদীসটি হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তবে ইমাম তিরমিযী (রহ.) হাদীসটিকে যয়ীফ (দুর্বল) বলেছেন। তাছাড়া তাবারানী শরীফে হযরত আবু মালিক আশরাফী (রাযি.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসও এর সমর্থন করে। কিন্তু হায়ছামী (রহ.) এটিকেও যয়ীফ বলে মন্তব্য করেছেন। (খ) শাহিদ হল মানুষ আর মাশহুদ কিয়ামত দিবস। কেননা প্রতিটি মানুষ সে দিন আল্লাহ তাআলার সামনে উপস্থিত হবে। হাফেজ ইবনে জারীর (রহ.) এ ব্যাখ্যা হযরত মুজাহিদ (রহ.), হযরত দাহহাক (রহ.) প্রমূখ থেকে বর্ণনা করেছেন। (গ) ‘শাহিদ’-এর এক অর্থ সাক্ষীও করা যেতে পারে আর ‘মাশহুদ’ সেই, যার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। কিয়ামতের দিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদের ঈমান সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবেন। কাজেই আয়াতের ইশারা এদিকেও হতে পারে। হাফেজ ইবনে জারীর (রহ.) সবগুলো ব্যাখ্যা উল্লেখ করার পর বলেন, কুরআন মাজীদের শব্দের মধ্যে এসবগুলো ব্যাখ্যারই অবকাশ আছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. এবং দ্রষ্টা ও দৃষ্টের(১)—

(১) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (وَالْيَوْمِ الْمَوْعُودِ) বা প্রতিশ্রুত দিনের অর্থ কেয়ামতের দিন। আর مَشْهُود এর অর্থ আরাফার দিন এবং شاهد এর অর্থ শুক্রবার দিন। জুম'আর দিনের চেয়ে উত্তম কোন দিনে কোন সূর্য উদিত হয়নি এবং ডুবেওনি। সেদিন এমন একটি সময় আছে, কোন মুমিন বান্দা যখনই কোন কল্যাণের দো'আ করে তখনই তার দো'আ কবুল করা হয়। অথবা যদি কোন অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয় তখনই তাকে আল্লাহ তা থেকে আশ্রয় দেয়।” (তিরমিযী: ৩৩৩৯)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩। শপথ দ্রষ্টার ও দৃষ্টের। (1)

(1) شاهد এবং مشهُود শব্দের ব্যাখ্যায় বহু মতভেদ রয়েছে। (شهد এর অর্থঃ দর্শন করা, সাক্ষ্য দেওয়া বা উপস্থিত হওয়া।) ইমাম শাওকানী হাদীস এবং আসারসমূহের ভিত্তিতে বলেন, شَاهد বলতে জুমআর দিনকে বোঝানো হয়েছে। এই দিনে যে ব্যক্তি যা আমল করবে তার জন্য কিয়ামতের দিন ঐ আমলসমূহ সাক্ষী দেবে। আর مشهود বলে আরাফার (৯ যিলহজ্জের) দিনকে বোঝানো হয়েছে যে দিনে লোকেরা হজ্জের উদ্দেশ্যে জমায়েত হয়।