লাতারকাবুন্না তাবাকান ‘আন তাবাক।উচ্চারণ
তোমাদের অবশ্যি স্তরে স্তরে এক অবস্থা থেকে আর এক অবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ১১ তাফহীমুল কুরআন
তোমরা এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে আরোহণ করতে থাকবে। মুফতী তাকী উসমানী
নিশ্চয়ই তোমরা এক স্তর হতে অন্য স্তরে আরোহণ করবে,মুজিবুর রহমান
নিশ্চয় তোমরা এক সিঁড়ি থেকে আরেক সিঁড়িতে আরোহণ করবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অবশ্যই তোমরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করবে।আল-বায়ান
অবশ্যই তোমরা (আধ্যাত্মিক ও জাগতিক সর্বক্ষেত্রে) স্তরে স্তরে উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে উর্ধ্বে উঠবে।তাইসিরুল
যেন তোমরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করতে পারো।মাওলানা জহুরুল হক
১১
অর্থাৎ তোমরা একই অবস্থার ওপর অপরিবর্তিত থাকবে না। বরং যৌবন থেকে বার্ধক্য, বার্ধক্য থেকে মৃত্যু থেকে বরযখ (মৃত্যু ও কিয়ামতের মাঝখানের জীবন), বরযখ থেকে পুনরুজ্জীবন, পুনরুজ্জীবন থেকে হাশরের ময়দান তারপর হিসেব নিকেশ এবং শাস্তি ও পুরস্কারের অসংখ্য মনযিল তোমাদের অবশ্যি অতিক্রম করতে হবে। এবিষয়ে তিনটি জিনিসের কসম খাওয়া হয়েছে। সূর্য অস্ত যাবার পর পশ্চিম আকাশের লালিমার, দিনের পর রাত্রির আঁধারও তার মধ্যে দিনের বেলা যেসব মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী পৃথিবীর চারদিকে বিচরণ করে তাদের একত্রে হওয়ার এবং চাঁদের সরু কাস্তের মতো অবস্থা থেকে পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়ে পূর্ণ চন্দ্রে পরিণত হওয়ার। অন্য কথায় বলা যায়, এ জিনিসগুলো প্রকাশ্যে সাক্ষ্য প্রদান করছে যে, মানুষ যে বিশ্ব-জাহানে বসবাস করে সেখানে কোন স্থিতিশীলতা নেই। সেখানে সর্বত্র একটি নিরন্তর পরিবর্তন ও ধারাবাহিক অবস্থান্তর প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে। কাজেই শেষ নিঃশ্বাসটা বের হয়ে যাবার সাথে সাথে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে, মুশরিকদের এ ধারণা ঠিক নয়।
মানুষ তার যাপিত জীবনে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে থাকে। শৈশব, যৌবন, পৌড়ত্ব ও বার্ধক্য। তার চিন্তা-ভাবনার মধ্যেও অনবরত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এ সব রকমের ধাপ ও পরিবর্তনই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।
১৯. অবশ্যই তোমরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করবে।(১)
(১) استق শব্দটি وسق থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ একত্রিত করা, পূর্ণ করা। চন্দ্রের একত্রিত করার অর্থ তার আলোকে একত্রিত করা। এটা চৌদ্দ তারিখের রাত্রিতে হয়, যখন চন্দ্র পূর্ণ হয়ে যায়। (ইবন কাসীর) এখানে চন্দ্রের বিভিন্ন অবস্থার দিকে ইঙ্গিত রয়েছে। চন্দ্র প্রথমে খুবই সরু ধনুকের মতো দেখা যায়। এরপর প্রত্যহ এর আলো বৃদ্ধি পেতে পেতে পূর্ণিমার চাদ হয়ে যায়। অবিরাম ও উপর্যুপরি পরিবর্তনের সাক্ষ্যদাতা উপরোক্ত বস্তুগুলোর শপথ করে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “অবশ্যই তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করবে”। طبق এর অর্থ অবস্থা, স্তর, পর্যায় ইত্যাদি। (ইবন কাসীর) تَرْكَبُنَّ শব্দটি ركوب থেকে। এর অর্থ আরোহণ করা। অর্থ এই যে, হে মানুষ, তোমরা সর্বদাই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করতে থাকবে। উদ্দেশ্য এই যে, সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত মানুষ কোন সময় এক অবস্থায় স্থির থাকে না, বরং তার ওপর পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আসতে থাকে। স্বাভাবিকভাবে যে সমস্ত পরিবর্তন হয় তা তো লক্ষণীয়।
তাছাড়া মানুষ নিজেও আল্লাহর দেয়া সহজসরল দ্বীন থেকে বিমুখ হয়ে অন্যান্য বাতিল দ্বীনের অনুসরণে প্রবৃত্ত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা তোমাদের পূর্বের লোকদের হাতে হাতে বিঘাতে বিঘাতে অনুসরণ করতে থাকবে, এমনকি তারা যদি ষাণ্ডার গর্তে ঢুকে থাকে তোমরাও তাদের অনুসরণ করে তাতে ঢুকবে” সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহুদ ও নাসারা? তিনি বললেন, “তারা নয়তো কারা?” (বুখারী: ৭৩২০, মুসলিম: ২৬৬৯) (ইবন কাসীর)। এখানে ইবন জারীর আত-তাবারীর মত হচ্ছে, মানুষকে অবশ্যই কঠিন থেকে কঠিন পর্যায় অতিক্রম করতে হবে। আখেরাতের পর্যায়গুলোও উদ্দেশ্য হতে পারে। (তাবারী; ইবন কাসীর)
১৯। নিশ্চয়ই তোমরা এক পর্যায় হতে অন্য পর্যায়ে আরোহণ করবে। (1)
(1) طبق শব্দের মূল অর্থ হল কঠিনতা। এখানে সেই কঠিনতাকে বোঝানো হয়েছে যা কিয়ামতের দিন দেখা দেবে। সেদিন এক থেকে আর এক গুরুতর ভীষণ অবস্থা সৃষ্টি হবে। (ফাতহুল বারী, সূরা ইনশিক্বাক তাফসীর পরিচ্ছেদ) আর এটা হল কসমের জওয়াব।