ইয়াশহাদুহুল মুকাররবূন।উচ্চারণ
নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতারা এর দেখাশুনা করে। তাফহীমুল কুরআন
যা দেখে (আল্লাহর) সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ। মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহর সান্নিধ্য প্রাপ্তরা ওটা প্রত্যক্ষ করবে।মুজিবুর রহমান
আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা আল্লাহ্ র সান্নিধ্যপ্রাপ্ত তারা তা দেখে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নৈকট্যপ্রাপ্তরাই তা অবলোকন করে।আল-বায়ান
আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত (ফেরেশতারা) তার তত্ত্বাবধান করে।তাইসিরুল
নৈকট্যপ্রাপ্তরা তা দেখতে পাবে।মাওলানা জহুরুল হক
আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ যে মুমিনদের আমলনামা দেখে, তার মানে তারা তাকে বিশেষ সম্মান দেখায়, তাকে সমীহের চোখে দেখে, এটা এ কারণে যে, তাতে মুমিনদের পুণ্যসমূহ লিপিবদ্ধ থাকে। এ দেখার আরেক অর্থ হতে পারে, দেখাশোনা করা। অর্থাৎ সেই বিশিষ্ট ফেরেশতাগণ তা হেফাজত করে।
২১. (আল্লাহর) সান্নিধ্যপ্রাপ্তরাই তা অবলোকন করে।(১)
(১) يشهد শব্দটি شهود থেকে উদ্ভূত। شهود এর এক অর্থ প্রত্যক্ষ করা, তত্ত্বাবধান করা। তখন আয়াতের উদ্দেশ্য হবে এই যে, সৎকর্মশীলদের আমলনামার প্রতি আসমানের নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ দেখবে অর্থাৎ তত্ত্বাবধান ও হেফাযত করবে। (ইবন কাসীর) তাছাড়া شهود এর আরেক অর্থ উপস্থিত হওয়া। (উসাইমীন, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম)। তখন يشهده এর সর্বনাম দ্বারা ইল্লিয়্যীন বোঝানো হবে। আর এর অর্থ হবে, প্রতি আসমানের নৈকট্যপ্রাপ্তগণ সেখানে হাজির হবেন এবং সেটাকে হেফাযত করবেন; কেননা এটা নেক আমলকারীর জন্য জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা পত্র এবং জান্নাতে যাওয়ার সফলতার গ্যারান্টি। (আইসারুত তাফসীর)
এটা ঐ সময়ই হবে, যখন ইল্লিয়্যীন দ্বারা আমলনামা বোঝানো হবে। আর যদি ইল্লিয়্যীন দ্বারা নৈকট্যপ্রাপ্তদের রূহের স্থান ধরা হয়, তখন আয়াতের অর্থ হবে, নৈকট্যশীলগণের রূহ এই ইল্লিয়্যীন নামক স্থানে উপস্থিত হবে। সে হিসেবে ইল্লিয়্যীন ঈমানদারদের রুহের আবাসস্থল; যেমন সিজ্জীন কাফেরদের রূহের আবাসস্থল। এর স্বপক্ষে একটি হাদীস থেকে ধারণা পাওয়া যায়, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বৰ্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “শহীদগণের রূহ আল্লাহর সান্নিধ্যে সবুজ পাখিদের মধ্যে থাকবে এবং জান্নাতের বাগ-বাগিচা ও নহরসমূহে ভ্রমণ করবে। তাদের বাসস্থানে আরশের নিচে ঝুলন্ত প্ৰদীপ থাকবে।” (মুসলিম: ১৮৮৭)
এ থেকে বোঝা গেল যে, শহীদগণের রূহ আরশের নিচে থাকবে এবং জান্নাতে ভ্ৰমণ করতে পারবে। তাছাড়া পবিত্র কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, (عِندَ سِدْرَةِ الْمُنتَهَىٰ عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَىٰ) এ থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, জান্নাত সিদরাতুল মুনতাহার সন্নিকটে। সিদরাতুল মুনতাহা যে সপ্তম আকাশে, এ কথা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাই আত্মার স্থান ইল্লিয়্যীন জান্নাতের সংলগ্ন এবং আত্মাসমূহ জান্নাতের বাগিচায় ভ্ৰমণ করে। অতএব, আত্মার স্থান জান্নাতও বলা যায়। তাই কোন কোন মুফাস্সির ইল্লিয়্যীন এর ব্যাখ্যা করেছেন জান্নাত। (সা'দী)
২১। আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত (ফিরিশতা)গণ তা প্রত্যক্ষ করে।