إِذَا ٱلشَّمۡسُ كُوِّرَتۡ

ইযাশশামছুকুওবিরত।উচ্চারণ

যখন সূর্য গুটিয়ে নেয়া হবে। তাফহীমুল কুরআন

যখন সূর্যকে ভাঁজ করা হবে মুফতী তাকী উসমানী

সূর্য যখন নিস্প্রভ হবে,মুজিবুর রহমান

যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সূর্যকে যখন নি®প্রভ করা হবে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে।আল-বায়ান

যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবেতাইসিরুল

যখন সূর্য অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

সূর্যকে আলোহীন করে দেবার জন্য এটা একটা অতুলনীয় উপমা। আরবী ভাষায় তাকভীর মানে হচ্ছে গুটিয়ে নেয়া। মাথায় পাগড়ী বাঁধার জন্য “তাকভীরুল আমামাহ” বলা হয়ে থাকে। কারণ আমামা তথা পাগড়ী লম্বা কাপড়ের হয়ে থাকে এবং মাথার চারদিকে তা জড়িয়ে নিতে হয়। এই সাদৃশ্য ও সম্পর্কের কারণে সূর্য থেকে যে আলোক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে সমগ্র সৌরজগতে ছড়িয়ে পড়ে তাকে পাগড়ীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন এই বিছিয়ে থাকা পাগড়ীটি সূর্যের গায়ে জাড়িয়ে দেয়া হবে। অর্থাৎ তার আলোক বিচ্ছুরণ বন্ধ হয়ে যাবে‌।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখান থেকে ১৪ নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে কিয়ামত ও আখেরাতের বিভিন্ন অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। সূর্যকে ভাঁজ করার ধরনটা কি রকমের হবে তা আল্লাহ তাআলাই জানেন, তবে এতটুকু বিষয় তো পরিষ্কার যে, তার ফলে সূর্যের আলো শেষ হয়ে যাবে। তাই কেউ কেউ আয়াতের অর্থ করেছেন, ‘যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে’। ভাঁজ করাকে আরবীতে ‘তাকবীর’ (تكوير) বলে। তাই এ সূরার নাম সূরা তাকবীর। প্রথম আয়াতে ব্যবহৃত كورت শব্দটি এর থেকেই উৎপন্ন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১. সূর্যকে যখন নিষ্প্রোভ করা হবে(১),

(১) আরবী ভাষায় তাকভীর মানে হচ্ছে গুটিয়ে নেয়া। মাথায় পাগড়ী বঁধার জন্য ‘তাকভীরুল ইমামাহ’ বলা হয়ে থাকে। কারণ ইমাম তথা পাগড়ী লম্বা কাপড়ের হয়ে থাকে এবং মাথার চারদিকে তা জড়িয়ে নিতে হয়। এই সাদৃশ্য ও সম্পর্কের কারণে সূর্য থেকে যে আলোক রশ্মি বিছুরিত হয়ে সমগ্র সৌরজগতে ছড়িয়ে পড়ে তাকে পাগড়ীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন এই সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে। অর্থাৎ তার আলোক বিচ্ছুরণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাছাড়া كُوِّرَتْ এর অপর অর্থ নিক্ষেপ করাও হয়ে থাকে। হাদীসে এসেছে, “চাঁদ ও সূর্যকে কিয়ামতের দিন পেচিয়ে রাখা হবে।” (বুখারী: ৩২০০) (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১। সূর্য যখন লেপটানো (নিষ্প্রভ) হবে, (1)

(1) অর্থাৎ, যেমন, মাথায় পাগড়ী লেপটানো হয় ঠিক তেমনি সূর্যের অস্তিত্বকে লেপটিয়ে ফেলে দেওয়া হবে। যার কারণে তার কিরণ আপনা আপনি শেষ হয়ে যাবে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, সূর্য ও চন্দ্রকে কিয়ামত দিবসে গুটিয়ে নেওয়া হবে। (সহীহ বুখারী সৃষ্টির প্রারম্ভ অধ্যায়, সূর্য ও চন্দ্র কক্ষপথে আবর্তনের পরিচ্ছেদ) অন্যান্য বর্ণনা হতে বুঝা যায় যে, সূর্য ও চন্দ্রকে গুটিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। যাতে সেই মুশরিকরা অধিকভাবে লাঞ্ছিত হয় যারা এ সবের উপাসনা করত। (ফতহুল বারী)