আ আনতুম আশাদ্দুখালকান আমিছ ছামাউ বানা-হা-।উচ্চারণ
তোমাদের ১৩ সৃষ্টি করা বেশী কঠিন কাজ, না আকাশের? ১৪ আল্লাহই তাকে সৃষ্টি করেছেন, তাফহীমুল কুরআন
(হে মানুষ!) তোমাদেরকে সৃষ্টি করা বেশি কঠিন, না আকাশকে। #%১০%# আল্লাহ তা নির্মাণ করেছেন।মুফতী তাকী উসমানী
তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই এটা নির্মাণ করেছেন।মুজিবুর রহমান
তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি ? তিনিই এটা নির্মাণ করেছেন; ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনি তা বানিয়েছেন।আল-বায়ান
তোমাদের সৃষ্টি বেশি কঠিন না আকাশের? তিনি তো সেটা সৃষ্টি করেছেন।তাইসিরুল
তোমরা কি সৃষ্টিতে কঠিনতর, না মহাকাশ? তিনিই এ-সব বানিয়েছেন।মাওলানা জহুরুল হক
১৩
কিয়ামত ও মৃত্যুর পরের জীবন যে সম্ভব এবং তা যে সৃষ্টি জগতের পরিবেশ পরিস্থিতির যুক্তিসঙ্গত দাবী একথার যৌক্তিকতা এখানে পেশ করা হয়েছে।
১৪
এখানে সৃষ্টি করা মানে দ্বিতীয়বার মানুষ সৃষ্টি করা। আর আকাশ মানে সমগ্র ঊর্ধ্বজগত, যেখানে রয়েছে অসংখ্য গ্রহ, তারকা, অগণিত সৌরজগত, নীহারিকা ও ছায়াপথ। একথা বলার অর্থ হচ্ছেঃ তোমরা মৃত্যুর পর আবার জীবিত করাকে বড়ই অসম্ভব কাজ মনে করছো। বারবার বলছো, আমাদের হাড়গুলো পর্যন্ত যখন পচে গলে যাবে, সে অবস্থায় আমাদের শরীরের বিক্ষিপ্ত অংশগুলো আবার এক জায়গায় জমা করা হবে এবং তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা হবে, এটা কেমন করে সম্ভব? তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো, এই বিশাল বিশ্ব-জাহানের সৃষ্টি বেশী কঠিন কাজ, না তোমাদের একবার সৃষ্টি করার পর দ্বিতীয়বার সেই একই আকৃতিতে সৃষ্টি করা কঠিন? যে আল্লাহর জন্য প্রথমটি কঠিন ছিল না তাঁর জন্য দ্বিতীয়টি অসম্ভব হবে কেন? মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে এই যুক্তিটিই কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পেশ করা হয়েছে। যেমন সূরা ইয়াসিনে বলা হয়েছেঃ “আর যিনি আকাশ ও পৃথিবী তৈরী করেছেন, তিনি কি এই ধরনের জিনিসগুলোকে (পুনর্বার) সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন না? কেন নয়? তিনি তো মহাপরাক্রমশালী স্রষ্টা। সৃষ্টি করার কাজ তিনি খুব ভালো করেই জানেন।” (৮১ আয়াত) সূরা মু’মিনে বলা হয়েছেঃ “অবশ্যি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টির চাইতে অনেক বেশী বড় কাজ। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না। (৫৭ আয়াত)
আরবের কাফেরগণ মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার বিষয়টাকে অস্বীকার করত কেবল এ কারণে যে, তারা মৃত ব্যক্তিদের জীবিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করত। আল্লাহ তাআলা বলছেন, আসমান বা জগতের এ রকম আরও বড়-বড় বস্তু অপেক্ষা মানুষ সৃষ্টি করা অনেক সহজ। যদি তোমরা স্বীকার কর আসমানকে আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন, তবে মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হবে কেন?
২৭. তোমাদেরকে(১) সৃষ্টি করা কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনিই তা নির্মাণ করেছেন(২);
(১) কিয়ামত ও মৃত্যুর পরের জীবন যে সম্ভব এবং তা যে সৃষ্টি জগতের পরিবেশ পরিস্থিতির যুক্তিসংগত দাবী একথার যৌক্তিকতা এখানে পেশ করা হয়েছে। (ইবন কাসীর)
(২) এখানে মরে মাটিতে পরিণত হওয়ার পর পুনরুজ্জীবন কিরূপে হবে, কাফেরদের এই বিস্ময়ের জওয়াব দেওয়া হয়েছে। এখানে সৃষ্টি করা মানে দ্বিতীয়বার মানুষ সৃষ্টি করা। মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে এই যুক্তিটিই কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পেশ করা হয়েছে। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছেঃ “আর যিনি আকাশ ও পৃথিবী তৈরি করেছেন, তিনি কি এই ধরনের জিনিসগুলোকে (পুনর্বার) সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন না? কেন নয়? তিনি তো মহাপরাক্রমশালী স্রষ্টা। সৃষ্টি করার কাজ তিনি খুব ভালো করেই জানেন।” (সূরা ইয়াসীন: ৮১) অন্যত্র আরও বলা হয়েছেঃ “অবশ্যি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টির চাইতে অনেক বেশী বড় কাজ। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না। (সূরা গাফির: ৫৭ আয়াত) (ইবন কাসীর)
২৭। তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ? (1) যা তিনি নির্মাণ করেছেন।
(1) এই আয়াতে মক্কার কাফেরদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হল এই ধমক দেওয়া যে, যে আল্লাহ এত বড় আসমান এবং তার আশ্চর্যজনক বস্তুকে সৃষ্টি করতে পেরেছেন, তাঁর জন্য কি পুনর্বার মানুষকে জীবিত করা অসম্ভব কাজ?