تَتۡبَعُهَا ٱلرَّادِفَةُ

তাতবা‘উহার র-দিফাহ।উচ্চারণ

এবং তারপর আসবে আর একটি ধাক্কা। তাফহীমুল কুরআন

তার পেছনে আসবে পরবর্তীটি। মুফতী তাকী উসমানী

ওকে অনুসরণ করবে পরবর্তী শিঙ্গাধ্বনি।মুজিবুর রহমান

অতঃপর পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী;মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

একে অনুসরণ করবে পরবর্তী শিংগাধ্বনি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী কম্পনকারী।*আল-বায়ান

তারপর আসবে আরেকটি ভূকম্পন।তাইসিরুল

পরবর্তী ঘটনা তাকে অনুসরণ করবেই।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

প্রথম ধাক্কা বলতে এমন ধাক্কা বুঝানো হয়েছে, যা পৃথিবী ও তার মধ্যকার সমস্ত জিনিস ধ্বংস করে দেবে। আর দ্বিতীয় ধাক্কা বলতে যে ধাক্কায় সমস্ত মৃতরা জীবিত হয়ে যমীনের মধ্য থেকে বের হয়ে আসবে তাকে বুঝানো হয়েছে। সূরা যুমারে এ অবস্থাটি নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ “আর শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে। তখন পৃথিবী ও আকাশসমূহে যা কিছু আছে সব মরে পড়ে যাবে, তবে কেবলমাত্র তারাই জীবিত থাকবে যাদের আল্লাহ‌ (জীবিত রাখতে) চাইবেন। তারপর দ্বিতীয়বার ফুঁক দেয়া হবে। তখন তারা সবাই আবার হঠাৎ উঠে দেখতে থাকবে।” (৬৮ আয়াত)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা শিঙ্গার দ্বিতীয় ফুঁ বোঝানো হয়েছে। প্রথম ফুঁৎকারে সকলের মৃত্যু ঘটবে আর দ্বিতীয় ফুঁৎকারে সকলে জীবিত হয়ে হাশরের মাঠে একত্র হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী কম্পনকারী(১),

(১) প্রথম প্রকম্পনকারী বলতে এমন প্রকম্পন বুঝানো হয়েছে, যা পৃথিবী ও তার মধ্যকার সমস্ত জিনিস ধ্বংস করে দেবে। আর দ্বিতীয় প্রকম্পন বলতে যে কম্পনে সমস্ত মৃতরা জীবিত হয়ে যমীনের মধ্য থেকে বের হয়ে আসবে তাকে বুঝানো হয়েছে। (মুয়াস্‌সার) অন্যত্র এ অবস্থাটি নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ “আর শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে। তখন পৃথিবী ও আকাশসমূহে যা কিছু আছে সব মরে পড়ে যাবে, তবে কেবলমাত্র তারাই জীবিত থাকবে যাদের আল্লাহ (জীবিত রাখতে) চাইবেন। তারপর দ্বিতীয়বার ফুঁক দেয়া হবে। তখন তারা সবাই আবার হঠাৎ উঠে দেখতে থাকবে।” (সূরা আয-যুমার: ৬৮) এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত্রির দুই তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলে দাঁড়িয়ে বলতেন, হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর যিকর কর, তোমরা আল্লাহর যিকর কর। ‘রাজেফাহ’ (প্রকম্পণকারী) তো এসেই গেল (প্রায়), তার পিছনে আসবে ‘রাদেফাহ’ (পশ্চাতে আগমনকারী), মৃত্যু তার কাছে যা আছে তা নিয়ে হাজির, মৃত্যু তার কাছে যা আছে তা নিয়ে হাজির।

সাহাবী উবাই ইবনে কা'ব বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশী বেশী সালাত (দরুদ) পাঠ করি। এ সালাত পাঠের পরিমান কেমন হওয়া উচিত? তিনি বললেন, তোমার যা ইচ্ছা। আমি বললাম, (আমার যাবতীয় দোআর) এক চতুর্থাংশ? তিনি বললেন, যা তোমার ইচ্ছা। তবে যদি এর থেকেও বেশী কর তবে সেটা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম, অর্ধেকাংশ? তিনি বললেন, যা তোমার ইচ্ছা। তবে যদি এর থেকেও বেশী কর তবে সেটা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম, দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, যা তোমার ইচ্ছা। তবে যদি এর থেকেও বেশী কর তবে সেটা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম, তাহলে আমি আপনার জন্য আমার সালাতের সবটুকুই নির্ধারণ করব, (অর্থাৎ আমার যাবতীয় দোআ হবে আপনার উপর সালাত বা দরুদ প্রেরণ) তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে তা তোমার যাবতীয় চিন্তা দূর করে দিবে এবং তোমার গোনাহ ক্ষমা করে দিবে।” (তিরমিযী: ২৪৫৭, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫১৩, দ্বিয়া: আল-মুখতারাহ: ৩/৩৮৮, ৩৯০)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৭। তার অনুগামী হবে পরবর্তী (পুনরুত্থানের) শিংগাধ্বনি। (1)

(1) এটা হবে শিংগায় দ্বিতীয় ফুৎকার। যার ফলে সমস্ত লোক জীবিত হয়ে কবর থেকে বের হবে। এই দ্বিতীয় ফুৎকারটি প্রথম ফুৎকারের চল্লিশ বছর পর ঘটবে। তাকে رادفة বা পরবর্তী শিংগাধ্বনি এই জন্য বলা হয়েছে যে, এটা প্রথম ফুৎকারের পরে ঘটবে তাই। অর্থাৎ, দ্বিতীয় ফুৎকারটি হল প্রথম ফুৎকারের অনুগামী।