قُمِ ٱلَّيۡلَ إِلَّا قَلِيلٗا

কুমিল্লাইলা ইল্লা- কালীলা- ।উচ্চারণ

রাতের বেলা নামাযে রত থাকো। তবে কিছু সময় ছাড়া তাফহীমুল কুরআন

রাতের কিছু অংশ ছাড়া বাকি রাত (ইবাদতের জন্য) দাঁড়িয়ে যাও, মুফতী তাকী উসমানী

রাত জাগরণ কর কিছু অংশ ব্যতীত।মুজিবুর রহমান

রাত্রিতে দন্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে;মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

রাত্রি জাগরণ কর, কিছু অংশ ব্যতীত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাতে সালাতে দাঁড়াও কিছু অংশ ছাড়া।আল-বায়ান

রাতে নামাযে দাঁড়াও তবে (রাতের) কিছু অংশ বাদে,তাইসিরুল

তুমি উঠে দাঁড়াও রাতেরবেলা অল্পসময় ব্যতীত, --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এর দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, নামাযে দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করো এবং রাতের অল্প কিছু সময় মাত্র ঘুমে কাটাও। দুই, তোমার কাছে সমস্ত রাতই নামায পড়ে কাটিয়ে দেয়ার দাবী করা হচ্ছে না। বরং তুমি বিশ্রামও করো এবং রাতের একটি ক্ষুদ্র অংশ ইবাদত-বন্দেগীতেও ব্যয় করো। কিন্তু পরবর্তী বিষয়বস্তুর সাথে প্রথমোক্ত অর্থটাই অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূরা দাহরের ২৬ নং আয়াত থেকে একথারই সমর্থন পাওয়া যায়। উক্ত আয়াতে বলা হয়েছেঃ

وَمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ لَهُ وَسَبِّحْهُ لَيْلًا طَوِيلًا

"রাতের বেলা আল্লাহর সামনে সিজদায় পড়ে থাকো এবং রাতের বেশীর ভাগ সময় তাঁর তাসবীহ ও প্রশংসায় অতিবাহিত করো। “

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ আয়াতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাহাজ্জুদের নামায পড়তে হুকুম করা হয়েছে। অধিকাংশের মতে প্রথম দিকে কেবল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরই নয়; বরং সাহাবীগণের উপরও তাহাজ্জুদের নামায ফরয করে দেওয়া হয়েছিল এবং এর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল রাতের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় এ নির্দেশ এক বছর পর্যন্ত বলবৎ ছিল। পরবর্তীকালে এ সূরারই ২০নং আয়াত নাযিল করা হয় এবং এর মাধ্যমে তাহাজ্জুদের ‘ফরযিয়াত’ রহিত করে দেওয়া হয়, যেমন সামনে আসছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২. রাতে সালাতে দাঁড়ান(১), কিছু অংশ ছাড়া,

(১) এখানে বিশেষভঙ্গিতে সম্বোধন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে তাহাজ্জুদের আদেশ করা হয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে, আলোচ্য আয়াতসমূহ ইসলামের শুরুতে এবং কুরআন অবতরণের প্রাথমিক যুগে অবতীর্ণ হয়েছে। তখন পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয ছিল না। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মে'রাজের রাত্ৰিতে ফরয হয়েছিল। এই আয়াতে তাহাজ্জুদের সালাত কেবল ফরযই করা হয়নি; বরং তাতে রাত্রির কমপক্ষে এক চতুর্থাংশ মশগুল থাকাও ফরয করা হয়েছে। আয়াতের মূল আদেশ হচ্ছে কিছু অংশ বাদে সমস্ত রাত্ৰি সালাতে মশগুল থাকা। এই আদেশ পালনার্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম অধিকাংশ রাত্রি তাহাজ্জুদের সালাতে ব্যয় করতেন। ফলে তাদের পদদ্বয় ফুলে যায় এবং আদেশটি বেশ কষ্টসাধ্য প্রতীয়মান হয়। পূর্ণ এক বছর পর এই সূরার শেষাংশ (فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ) অবতীর্ণ হলে দীর্ঘক্ষণ সালাতে দন্ডায়মান থাকার বাধ্যবাধকতা রহিত করে দেয়া হয় এবং বিষয়টি ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিয়ে ব্যক্ত করা হয় যে, যতক্ষণ সালাত আদায় করা সহজ মনে হয়, ততক্ষণ সালাত আদায় করাই তাহাজ্জুদের জন্যে যথেষ্ট। (ইমাম মুসলিম এই বিষয়বস্তু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, হাদীস নং: ৭৪৬)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২) রাত্রি জাগরণ কর, কিছু অংশ ব্যতীত।