ٱلَّذِينَ هُمۡ عَلَىٰ صَلَاتِهِمۡ دَآئِمُونَ

আল্লাযীনা হুম ‘আলা-সালা-তিহিম দাইমূন।উচ্চারণ

যারা নামায আদায়ের ব্যাপারে সবসময় নিষ্ঠাবান। ১৫ তাফহীমুল কুরআন

যারা তাদের নামায আদায় করে নিয়মিত।মুফতী তাকী উসমানী

যারা তাদের সালাতে সদা নিষ্ঠাবান।মুজিবুর রহমান

যারা তাদের নামাযে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা তাদের সালাতে সদা প্রতিষ্ঠিত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা তাদের সালাতের ক্ষেত্রে নিয়মিত।আল-বায়ান

যারা তাদের নামাযে স্থির সংকল্পতাইসিরুল

যারা তাদের নামাযের প্রতি স্বতঃনিষ্ঠাবান,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৫

অর্থাৎ কোন প্রকার অলসতা, আরামপ্রিয়তা, ব্যস্ততা, কিংবা আকর্ষণ তাদের নামাযের ক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। নামাযের সময় হলে সে সবকিছু ফেলে রেখে তার প্রভুর ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হয়। عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ এর আর একটি অর্থ বর্ণনা করেছেন হযরত উকবা ইবনে আমের। তাহলো, সে পূর্ণ প্রশান্তি এবং বিনয় ও নিষ্ঠাসহ নামায পড়ে, কাকের মত ঠোকর মারে না। ঠোকর মেরেই কোন রকমে নামায শেষ করার চেষ্টা করে না। আবার নামাযের মধ্যে এদিক সেদিক তাকিয়েও দেখেনা। প্রচলিত আরবী বাক রীতিতে বদ্ধ বা স্থির পানিকে ماء دائم মায়ে দায়েম বলা হয়। এরই আলোকে এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২৩. যারা তাদের সালাতে সর্বদা প্রতিষ্ঠিত(১),

(১) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাছে প্রবেশ করে এক মহিলা দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ মহিলা কে? তিনি বললেন, অমুক (অন্য বর্ণনায় এসেছে, তার নাম ছিল হাওলা বিনতে তুয়াইত) তারপর তিনি তার প্রচুর সালাত আদায়ের কথা বলছিলেন - তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, থাম, তোমরা যা (সব সময়) করতে সক্ষম হবে ততটুকুই নিজের উপর ঠিক করে নিবে। আল্লাহর শপথ, যতক্ষণ তোমরা নিজেরা ক্লান্ত হবে না। ততক্ষণ আল্লাহও দিতে ক্ষান্ত হবেন না।” আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সেই কাজটি সবচেয়ে প্রিয় ছিল যা কেউ সব সময় করে। (বুখারী: ৪৩, মুসলিম: ৭৮৫, মুসনাদে আহমাদ: ৬/৫১, ২৩১)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শা'বান মাস ব্যতীত আর কোন মাসে এত বেশী সাওম পালন করতেন না। তিনি পুরো শা'বান মাসই সাওম পালন করতেন। তিনি বলতেন, “তোমরা যে কাজ (সর্বদা) করতে সক্ষম হবে তাই করবে: কেননা, তোমরা বিরক্ত হলেও আল্লাহ্ (প্রতিদান প্রদানে) ক্ষান্ত হন না।” (অথবা হাদীসের অর্থ, তোমরা বিরক্ত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ বিরক্ত হন না। তখন বিরক্ত হওয়া আল্লাহর একটি গুণ হিসেবে বিবেচিত হবে, তবে যেভাবে তা তাঁর সম্মানের সাথে উপযোগী সেভাবে তা সাব্যস্ত করতে হবে। (মাজুমু ফাতাওয়া ইবন উসাইমীন: ১/১৭৪)) আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সে সালাতই সবচেয়ে প্রিয় ছিল যার আদায়কারী তা সর্বক্ষণ করতে থাকত। যদিও তার পরিমাণ কম হয়। তিনি নিজেও কোন কাজ করলে সেটা সব সময় করতেন।” (বুখারী: ১৯৭০)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৩) যারা তাদের নামাযে সদা নিষ্ঠাবান,(1)

(1) এ থেকে পরিপূর্ণ মু’মিন ও তাওহীদবাদীকে বুঝানো হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লিখিত চারিত্রিক দুর্বলতা থাকে না। বরং এরা প্রশংসনীয় গুণে গুণান্বিত হয়। ‘নামাযে সদা নিষ্ঠাবান’ কথার মানে হল, তারা নামাযের ব্যাপারে অবহেলা করে না। প্রতিটি নামাযকে তার সঠিক সময়ে বড়ই যত্নের সাথে আদায় করে। কোন ব্যস্ততা তাদেরকে নামায থেকে বিরত রাখতে পারে না এবং দুনিয়ার কোন স্বার্থ তাদেরকে নামায হতে উদাসীন করতে পারে না।