ইন্নাল ইনছা-না খুলিকা হালূ‘আ- ।উচ্চারণ
মানুষকে ছোট মনের অধিকারী করে সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৩ তাফহীমুল কুরআন
বস্তুত মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে লঘুচিত্ত রূপেমুফতী তাকী উসমানী
মানুষতো সৃষ্টি হয়েছে অতিশয় অস্থির চিত্ত রূপে।মুজিবুর রহমান
মানুষ তো সৃজিত হয়েছে ভীরুরূপে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মানুষ তো সৃজিত হয়েছে অতিশয় অস্থিরচিত্তরূপে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থির করে।আল-বায়ান
মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে খুবই অস্থির-মনা করে,তাইসিরুল
নিঃসন্দেহ মানুষের বেলা -- তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে ব্যস্তসমস্ত করে,মাওলানা জহুরুল হক
১৩
যে বিষয়টিকে আমরা আমাদের ভাষায় এভাবে বলে থাকি, “এটি মানুষের প্রকৃতিগত অথবা এটা তার সহজাত দুর্বলতা” সে বিষয়টিকে আল্লাহ এভাবে বর্ণনা করেন যে, “মানুষকে সৃষ্টিই করা হয়েছে এভাবে।” এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার যে, কুরআন মজীদের বহু জায়গায় মানব জাতির সাধারণ নৈতিক দুর্বলতা উল্লেখ করার পর ঈমান ও সত্যের পথ অনুসরণকারীদের তা থেকে ব্যতিক্রম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী আয়াতে এ বিষয়টিই বর্ণনা করা হয়েছে। এভাবে এ সত্যটি আপনা থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, মানুষের জন্মগত এসব দুর্বলতা অপরিবর্তনীয় নয়।  বরং আল্লাহর দেয়া হিদায়াত গ্রহণ করে মানুষ যদি আত্মশুদ্ধির জন্য সত্যিকার প্রচেষ্টা চালায় তাহলে সে এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারে। পক্ষান্তরে যদি সে তার প্রবৃত্তিকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেয় তাহলে দূর্বলতাগুলো তার মধ্যে দৃঢ়মূল হয়ে যায়।  (আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, সূরা আম্বিয়া, টীকা ৪১;সূরা আয যুমার, টীকা ২৩ থেকে ২৮ এবং সূরা আশ শূরা, টীকা ৭৫)
১৯. নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় অস্থিরচিত্তরূপে।(১)
(১) هلوع এর শাব্দিক অর্থ ভীষণ লোভী ও অতি ভীরু ব্যক্তি। (কুরতুবী) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এখানে অর্থ নিয়েছেন সেই ব্যক্তি, যে হারাম ধন-সম্পদ লোভ করে। সাঈদ ইবনে জুবাইর রাহেমাহুল্লাহ বলেন, এর অর্থ কৃপণ। মুকাতিল বলেন, এর অর্থ সংকীর্ণমনা ব্যক্তি। এসব অর্থ কাছাকাছি। স্বয়ং আল্লাহই কুরআনে এর পরবর্তী দু' আয়াতে এ শব্দের ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। (বাগাভী) এখানে মানুষের খারাপ কর্মকাণ্ড ও স্বভাব উল্লেখ করে বলেন যে, সে “যখন দুঃখ কষ্ট সম্মুখীন হয়, তখন হা-হুতাশ শুরু করে দেয়। পক্ষান্তরে কোন সুখ শান্তি ও আরাম লাভ করে, তখন কৃপণ হয়ে যায়।”। অতঃপর সাধারণ মানুষদের এই বদ-অভ্যাস থেকে সৎকর্মী সালাত আদায়কারী মুমিনদের ব্যতিক্রম প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা এরূপ সৎকর্ম করে, তারা অতিশয় ভীরু ও লোভী নয়। (তাবারী)
(১৯) মানুষ তো সৃজিত হয়েছে অতিশয় অস্থিরচিত্তরূপে। (1)
(1) অত্যধিক লোভী এবং বেশী হা-হুতাশকারীকে هَلُوعٌ বলা হয়। কেননা, এমন ব্যক্তিই কৃপণ ও লোভী হয় এবং খুব বেশী হা-হুতাশ করে। পরের আয়াতে তারই গুণ বর্ণিত হয়েছে।