سَأَلَ سَآئِلُۢ بِعَذَابٖ وَاقِعٖ

ছাআলা ছাইলুম বি‘আযা-বিওঁ ওয়াকি‘।উচ্চারণ

এক প্রার্থনাকারী আযাব প্রার্থনা করেছে তাফহীমুল কুরআন

এক যাচক যাচনা করল সেই শাস্তি, মুফতী তাকী উসমানী

এক ব্যক্তি চাইল সংঘটিত হোক শাস্তি যা অবধারিত –মুজিবুর রহমান

একব্যক্তি চাইল, সেই আযাব সংঘটিত হোক যা অবধারিত-মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এক ব্যক্তি চাইল সংঘটিত হোক শাস্তি, যা অবধারিত- ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এক প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করল এমন আযাব সম্পর্কে, যা আপতিত হবে-*আল-বায়ান

এক ব্যক্তি চাইল সে ‘আযাব যা অবশ্যই সংঘটিত হবে।তাইসিরুল

এক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করছে অবধারিত শাস্তি সম্পর্কে --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

মূল আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ হলো سَأَلَ سَائِلٌ (ছায়ালা ছাইলুন)। কোন কোন মুফাস্সির এখানে ছায়ালা اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ (الانفال : 32) শব্দটিকে জিজ্ঞেস করা অর্থে গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে আয়াতের অর্থ হলো একজন জিজ্ঞেসকারী জানতে চেয়েছে যে, তাদেরকে যে আযাব সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে তা কার ওপর অপতিত হবে? আল্লাহ‌ তা'আলা এ প্রশ্নের জওয়াব দিয়েছেন এই বলে যে, তা কাফেরদের ওপর পতিত হবেই। তবে অধিকাংশ মুফাস্সির এক্ষেত্রে চাওয়াকে দাবী করা অর্থ গ্রহণ করেছেন। নাসায়ী এবং আরো কিছু সংখ্যক মুহাদ্দিস ইবনে আব্বাস থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাদ্দিস হাকেম এটিকে সহীহ হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি হলো নাদর ইবনে হারেস ইবনে কালাদা বলেছিলঃ

اَلّلهُمَّ اِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْعِنْدِكَ فَاَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِّنَالسَّمَاءِ اَوِئتِنَا بِعَذَابٍ اَلِيْمٍ (الانفالঃ ٣٢)

"হে আল্লাহ, এটি যদি সত্যিই তোমার পক্ষ থেকে আসা একটা সত্য বাণী হয়ে থাকে, তাহলে আসমান থেকে আমাদের ওপর পাথর বর্ষণ করো অথবা আমাদেরকে ভীষণ কষ্টদায়ক শাস্তি দাও।”

এটি ছাড়াও কুরআন মজীদের আরো অনেক স্থানে মক্কার কাফেরদের এ চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করা হয়েছে যে, তুমি আমাদের যে আযাবের ভয় দেখাচ্ছো তা নিয়ে আসছো না কেন? উদাহরণস্বরূপ নীচে উল্লেখিত স্থানসমূহ দেখুন। সূরা ইউনুস, আয়াত ৪৬ থকে ৪৮; সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৩৬ থেকে ৪১; সূরা আন নামল আয়াত ৬৭ থেকে ৭২; সূরা সাবা আয়াত ২৬ থেকে ৩০; ইয়াসীন, আয়াত, ৪৫থেকে ৫২ এবং সূরা মূলক ২৪ থেকে ২৭।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

জনৈক কাফের ইসলামকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে বলেছিল, যদি এ কুরআন ও ইসলাম সত্য হয়, তবে তুমি আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ কর অথবা অন্য কোন কঠিন শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে ধ্বংস করে দাও, যেমন সূরা আনফালে (৮ : ৩২) বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, এই ব্যক্তির নাম ছিল নাযর ইবনে হারিছ। এখানে তার কথাই বলা হয়েছে যে, সে শাস্তি প্রার্থনা করছে, যদিও তার আসল উদ্দেশ্য শাস্তি চাওয়া নয়, বরং শাস্তিকে বিদ্রূপ করা ও তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা। অথচ সে শাস্তি নিশ্চিত সত্য এবং যখন তা আসবে কেউ ঠেকাতে পারবে না।

তাফসীরে জাকারিয়া

১. এক ব্যক্তি চাইল, সংঘটিত হোক শাস্তি যা অবধারিত(১)—

(১) سأل শব্দটি কখনও তথ্যানুসন্ধান ও জিজ্ঞেস করার অর্থে আসে। তখন আরবী ভাষায় এর সাথে عن অব্যয় ব্যবহৃত হয়। সে অনুসারে আয়াতের অর্থ হলো একজন জিজ্ঞেসকারী জানতে চেয়েছে যে, তাদেরকে যে আযাব সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে তা কার ওপর আপতিত হবে? আল্লাহ তা'আলা এ প্রশ্নের জওয়াব দিয়েছেন এই বলে যে, তা কাফেরদের ওপর পতিত হবেই। আবার কখনও এ শব্দটি আবেদন ও কোন কিছু চাওয়া বা দাবী করার অর্থে আসে। আয়াতে এই অর্থে আসার কারণে এর সাথে باء অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর) অধিকাংশ মুফাসসির এ অর্থই গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন বর্ণনায় ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এসেছে, নদর ইবনে হারেস এই আযাব চেয়েছিল। (নাসায়ী; তাফসীর ২/৪৬৩, নং ৬৪০, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫০২)

সে কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি মিথ্যারোপ করতে গিয়ে ধৃষ্টতাসহকারে আল্লাহ তা'আলার কাছে আযাব চেয়েছিল। এটি ছাড়াও কুরআন মজীদের আরো অনেক স্থানে মক্কার কাফেরদের এ চ্যালেঞ্জেরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আপনি আমাদের যে আযাবের ভয় দেখাচ্ছেন তা নিয়ে আসছেন না কেন? যেমন, সূরা ইউনুস: ৪৬–৪৮; সূরা আল আম্বিয়া: ৩৬–৪১; সূরা আন-নামল: ৬৭–৭২; সূরা সাবা: ২৬–৩০; ইয়াসীন: ৪৫–৫২ এবং সূরা আল-মূলক: ২৪–২৭৷

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১) এক ব্যক্তি(1) চাইল, সংঘটিত হোক অবধারিত শাস্তি।

(1) বলা হয় যে, এই ব্যক্তি ছিল নাযর বিন হারেস অথবা আবূ জাহল যে বলেছিল, {اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ} অর্থাৎ, হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার পক্ষ থেকে (আগত) সত্য দ্বীন হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদের উপর বেদনাদায়ক শাস্তি অবতীর্ণ কর।’’ (সূরা আনফাল ৩২ আয়াত) সুতরাং এই লোকটি বদরের যুদ্ধে মারা পড়ল। কেউ কেউ বলেন, এ থেকে রসূল (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। যিনি স্বীয় গোত্রের জন্য বদ্দুআ করেছিলেন। যার ফলে মক্কাবাসীর উপর দুর্ভিক্ষ এসেছিল।