فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ

ফাবিআইয়ি আ-লাই রব্বিকা তাতামা-র-।উচ্চারণ

তাই, ৪৭ হে শ্রোতা, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করবে? ৪৮ তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং (হে মানুষ!) তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নি‘আমতে সন্দেহ পোষণ করবে? #%৩০%#মুফতী তাকী উসমানী

তুমি তোমার রবের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে?মুজিবুর রহমান

অতঃপর তুমি তোমার পালনকর্তার কোন অনুগ্রহকে মিথ্যা বলবে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহলে তুমি তোমার রবের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে?আল-বায়ান

অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন নি‘মাতে সন্দেহ পোষণ করবে?তাইসিরুল

অতএব তোমার প্রভুর কোন অনুগ্রহ সম্পর্কে তুমি বাদানুবাদ করবে?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৭

কোন কোন মুফাসসিরের মতে একথাটিও ইবরাহীম ও মূসার সহীফাসমূহের একটি বাক্যাংশ। কিন্তু কোন কোন মুফাসসিরের মতে فَغَشَّاهَا مَا غَشَّى পর্যন্তই সহীফাসমূহের বাক্য শেষ হয়েছে এবং এখান থেকে অন্য বিষয় শুরু হচ্ছে। পরবর্তী কথার প্রতি লক্ষ্য করলে প্রথমোক্ত বক্তব্যই সঠিক বলে মনে হয়। কারণ, পরবর্তী এই বাক্যঃ “এটি একটি সাবধান বাণী-ইতিপূর্বে আগত সাবধানবাণীসমূহের মধ্য থেকে” এ বিষয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করে যে, পূর্ববর্তী সবগুলো বাক্যই হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও মূসার (আঃ) সহীফাসমূহে উদ্ধৃত হয়েছে। আর এগুলো সবই পূর্বেকার সাবধান বাণীসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

৪৮

মূল আয়াতে تَتَمَارَى শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ সন্দেহপোষণ এবং ঝগড়া করা উভয়টিই। এখানে প্রত্যেক শ্রোতাকে সম্বোধন করা হয়েছে। যে ব্যক্তিই এ বাণী শুনছে তাকেই সম্বোধন করে বলা হচ্ছে, আল্লাহ‌ তা’আলার নিয়ামতসমূহ অস্বীকার করা এবং তা নিয়ে নবী-রসূলদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়ার যে পরিণতি মানব ইতিহাস দেখেছে তা সত্ত্বেও কি তুমি সেই নির্বুদ্ধিতার কাজ করবে? অতীত জাতিসমূহও তো এ একই সন্দেহপোষণ করেছিলো যে, তারা এ পৃথিবীতে যেসব নিয়ামত ভোগ করছে তা একমাত্র আল্লাহ‌র নিয়ামত না, তা সরবরাহের কাজে অন্য কেউ শরীক আছে? অথবা এসব কারো সরবরাহকৃত নিয়ামত নয়, বরং আপনা থেকেই পাওয়া গিয়েছে। এ সন্দেহের কারণেই তারা নবী-রসূলদের বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছিল। নবী-রসূলগণ তাদের বলতেন, আল্লাহ‌ এবং এক আল্লাহ‌ই তোমাদেরকে এসব নিয়ামতের সবগুলো দান করেছেন। তাই তোমাদের উচিত তাঁরই প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া এবং তাঁরই দাসত্ব করা। কিন্তু তারা একথা মানতো না এবং এ বিষয়টি নিয়েই নবী-রসূলদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হতো। এখন কথা হলো, এসব জাতি তাদের এ সন্দেহ ও বিবাদের কি পরিণাম দেখেছে তা কি তুমি ইতিহাসে দেখতে পাও না? যে সন্দেহ-সংশয় ও বিবাদ অন্যদের জন্য ধ্বংসাত্মক প্রমাণিত হয়েছে তুমিও কি সেই সন্দেহ-সংশয় ও ঝগড়ায় লিপ্ত হবে?

এক্ষেত্রে আরো লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আদ, সামূদ এবং নূহের কওমের লোকেরা হযরত ইবরাহীমের (আঃ) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছিলো এবং লূতের কওম হযরত ইবরাহীমের (আঃ) সময়েই আযাবে নিপতিত হয়েছিল। তাই এ বাক্যটি যে ইবরাহীমের সহীফার অংশ সে ব্যাপারে কোন অস্পষ্টতা বা জটিলতা নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ হে মানুষ! আল্লাহ তোমাদেরকে সেই শাস্তি হতে রক্ষা করে যেসব নি‘আমতের মধ্যে তোমাদেরকে রেখেছেন, তারপর তোমাদের হেদায়েতের জন্য কুরআন মাজীদ বিচিত্র বর্ণনাধারায় যেভাবে তোমাদেরকে বোঝাচ্ছে ও সতর্ক করছে, সেই সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মহব্বত ও দরদের সাথে বুঝিয়ে-সমঝিয়ে তোমাদেরকে আযাব থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, এসব বড়-বড় নি‘আমতের মধ্যে কোনটার ব্যাপারে তুমি সন্দেহ করবে?

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৫. সুতরাং (হে মানুষ!) তুমি তোমার রবের কোন অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে?(১)

(১) تَمَارَىٰ শব্দের এক অর্থ, সন্দেহ পোষণ করা। আরেক অর্থ বিবাদ ও বিরোধিতা করা। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৫) সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে? (1)

(1) বা বিতর্ক করবে ও সেগুলোকে মিথ্যা মনে করবে? কারণ, সেগুলো এত ব্যাপক ও সুস্পষ্ট যে, না সেগুলো অস্বীকার করা সম্ভব, আর না গোপন করা।