ক-নূকালীলাম মিনাল্লাইলি মা-ইয়াহজা‘ঊন।উচ্চারণ
রাতের বেলা তারা কমই ঘুমাতো। ১৫ তাফহীমুল কুরআন
তারা রাতের অল্প সময়ই ঘুমাতমুফতী তাকী উসমানী
তারা রাতের সামান্য অংশই অতিবাহিত করত নিদ্রায়,মুজিবুর রহমান
তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা রাত্রির সামান্য অংশই অতিবাহিত করত নিদ্রায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাতো।আল-বায়ান
তারা রাত্রিকালে খুব কমই শয়ন করত।তাইসিরুল
তারা রাতের সামান্য সময়ই ঘুমিয়ে কাটাত।মাওলানা জহুরুল হক
১৫
মুফাসসিরদের এক দল এ আয়াতের যে অর্থ গ্রহণ করেছেন তা হচ্ছে তারা শুধু শুয়ে শুয়ে সারারাত কাটিয়ে দিত এবং রাতের প্রারম্ভে, মধ্যভাগে বা শেষভাগে কম হোক বা বেশী হোক কিছু সময় জেগে আল্লাহর ইবাদাত করে কাটাতো না, এমন খুব কমই ঘটতো। হযরত ইবনে আব্বাস, আনাস ইবনে মালেক, মুহাম্মাদ আল বাকের, মাতরাফ ইবনে আবদুল্লাহ, আবুল আলিয়া, মুজাহিদ, কাতাদা, রাবী’ ইবনে আনাস প্রমুখ থেকে সামান্য শাব্দিক তারতম্য সহ এ তাফসীরই বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয় দল এর অর্থ বর্ণনা করেছেন এই যে, তারা রাতের বেশীর ভাগ সময়ই মহান আল্লাহর ইবাদাতে কাটাতেন এবং অল্প সময় ঘুমাতেন। এটা হযরত হাসান বাসরী, আহনাফ ইবনে কায়েস এবং ইবনে শিহাব যুহরীর বক্তব্য। পরবর্তীকালের মুফাস্সির ও অনুবাদকগণ এ ব্যাখ্যাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ, আয়াতের শব্দসমূহ এবং তার প্রয়োগের ক্ষেত্র বিবেচনায় এ ব্যাখ্যই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়। সুতরাং অনুবাদেও আমরা এই অর্থ গ্রহণ করেছি।
১৭. তারা রাতের সামান্য অংশই অতিবাহিত করত নিদ্রায়(১),
(১) يَهْجَعُونَ শব্দটি هجوع থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ রাত্রিতে নিদ্রা যাওয়া। এখানে মুমিন মুত্তাকীদের এই গুণ বৰ্ণনা করা হয়েছে যে, তারা আল্লাহ তা'আলার ইবাদতে রাত্রি অতিবাহিত করে, কম নিদ্রা যায় এবং অধিক জাগ্রত থাকে। যারা তাদের রাতসমূহ পাপ-পঙ্কিলতা ও অশ্লীল কাজ-কর্মে ডুবে থেকে কাটায় এবং তারপরও মাগফিরাত প্রার্থনা করার চিন্তাটুকু পর্যন্ত তাদের মনে জাগে না এরা তাদের শ্রেণীভুক্ত ছিল না। কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে ما শব্দটি ‘না’ বোধক অর্থ দেয় এবং আয়াতের অর্থ এই যে, তারা রাত্রির অল্প অংশে নিদ্রা যায় না এবং সেই অল্প অংশে সালাত, দো'আ ইত্যাদি ইবাদতে অতিবাহিত করে। এই অর্থের দিক দিয়ে যে ব্যক্তি রাত্রির শুরুতে অথবা শেষে অথবা মধ্যস্থলে যে কোন অংশে ইবাদত করে নেয় সে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে ব্যক্তি মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে সালাত পড়ে সে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।” (আবু দাউদ: ১৩২২) ইমাম আবু জাফর বাকের রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি এশার সালাতের পূর্বে নিদ্ৰা যায় না, আয়াতে তাকেও বোঝানো হয়েছে। (ইবনে কাসীর)
(১৭) তারা রাত্রির সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত। (1)
(1) هُجُوْعٌ এর অর্থ রাতে ঘুমানো। مَا يَهْجَعُوْنَ এ مَا তাকীদ স্বরূপ ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, তারা রাতে কম ঘুমাত। অর্থ হল, সারা রাত ঘুমিয়ে এবং আমোদ-প্রমোদে কাটাত না। বরং রাতের কিছু অংশ আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর সমীপে অনুনয়-বিনয়ের মাধ্যমে অতিবাহিত করত। যেমন হাদীসেও ‘কিয়ামুল লাইল’ তথা রাত জেগে ইবাদত করার তাকীদ এসেছে। উদাহরণ স্বরূপ একটি হাদীসে (নবী করীম (সাঃ) ) বলেছেন, ‘‘লোকদেরকে খাদ্য দান কর, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ, সালাম প্রচার কর এবং রাতে উঠে নামায পড়; যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে তোমরা নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবে।’’ (মুসনাদ আহমাদ ৫/৪৫১)