ওয়া বিলআছহা-রিহুম ইয়াছতাগফিরূন।উচ্চারণ
তারপর তারাই আবার রাতের শেষ প্রহরগুলোতে ক্ষমা প্রার্থনা করতো। ১৬ তাফহীমুল কুরআন
এবং তারা সাহরীর সময় ইস্তিগফার করত। মুফতী তাকী উসমানী
রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত,মুজিবুর রহমান
রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
রাত্রির শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা চাওয়ায় রত থাকত।আল-বায়ান
আর তারা রাত্রির শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত।তাইসিরুল
আর নিশিভোরে তারা পরিত্রাণ খুঁজত।মাওলানা জহুরুল হক
১৬
অর্থাৎ যারা তাদের রাতসমূহ পাপ-পঙ্কিলতা ও অশ্লীল কাজ-কর্মে ডুবে থেকে কাটায় এবং তারপরও মাগফিরাত প্রার্থনা করার চিন্তাটুকু পর্যন্ত তাদের মনে জাগে না এরা তাদের শ্রেনীভুক্ত ছিল না। পক্ষান্তরে এদের অবস্থা ছিল এই যে, তারা রাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আল্লাহর ইবাদাতে ব্যয় করতো এবং এরপরও রাতের শেষাংশে আপন প্রভুর কাছে এই বলে ক্ষমা প্রার্থনা করতো যে, তোমার যতটুকু ইবাদাত বন্দেগী করা আমাদের কর্তব্য ছিল তা করতে আমাদের ত্রুটি হয়েছে। هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ কথাটির মধ্যে এ বিষয়েও একটি ইঙ্গিত আছে যে, তাদের জন্য এ আচরণই শোভনীয় ছিল। তারাই ছিল আল্লাহর দাসত্বের এরূপ পরাকষ্ঠা দেখাবার যোগ্য যে আল্লাহর বন্দেগীতে জীবনপাতও করবে এবং ত সত্ত্বেও এজন্য কোন রকম গর্বিত হওয়া এবং নিজের নেক কাজের জন্য অহংকার করার পরিবর্তে নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমার জন্য বিনীতভাবে প্রার্থনা করবে। যারা গোনাহ করার পরও বুকটান করে চলে সে নির্লজ্জ পাপীদের আচরণ এরূপ হতে পারতো না।
অর্থাৎ রাতের বেশির ভাগ ইবাদতে কাটানোর পরও তারা নিজেদের আমল নিয়ে অহংকার বোধ করে না, বরং না-জানি ইবাদতের ভেতর কত ভুল-ত্রুটি হয়ে গেছে, যদ্দরুণ তা আল্লাহ তাআলার কাছে কবুলের উপযুক্ত হবে না, এই চিন্তা তাদের ভেতর কাজ করে। ফলে সাহরীকালে আল্লাহ তাআলার দরবারে বিনয় প্রকাশ করে ও কাকুতি-মিনতির সাথে ইস্তিগফার করে।
১৮. আর রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত(১),
(১) অর্থাৎ মুমিন মুত্তাকীগণ রাত্রির শেষ প্রহরে গোনাহের কারণে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। তারা রাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আল্লাহর ইবাদাতে ব্যয় করতো এবং এরপরও রাতের শেষাংশে আপন প্রভুর কাছে এই বলে ক্ষমা প্রার্থনা করতো যে, আপনার যতটুকু ইবাদাত বন্দেগী করা আমাদের কর্তব্য ছিল তা করতে আমাদের ত্রুটি হয়েছে। (ইবনে কাসীর) রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমাপ্রার্থনা করার ফযীলত অন্য এক আয়াতেও বর্ণিত হয়েছেঃ (وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ) (সূরা আলে ইমরান: ১৭)
হাদীসে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। তখন তিনি ঘোষণা করেনঃ কোন তওবাকারী আছে কি, যার তওবা আমি কবুল করব? কোন ক্ষমাপ্রার্থনাকারী আছে কি, যাকে আমি ক্ষমা করব? (বুখারী: ১১৪৫, ৬৩২১, ৭৪৯৪ মুসলিম: ৭৫৮)
(১৮) রাত্রির শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত, (1)
(1) ভোরের সময়টি দু’আ গ্রহণের অন্যতম উত্তম সময়। হাদীসে এসেছে যে, ‘‘যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তখন মহান আল্লাহ প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং ডাক দিয়ে বলেন যে, কেউ তাওবাকারী আছে কি, যার তওবা আমি কবুল করব? কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি, যাকে আমি ক্ষমা করব? কেউ কিছু চায় কি, যাকে আমি দান করব? এইভাবে ফজর উদয় হয়ে যায়।’’ (মুসলিমঃ সালাতুল মুসাফিরীন অধ্যায়)