মা-খালাকনা-হুমাইল্লা বিলহাক্কিওয়ালা-কিন্না আকছারহুম লা-ইয়া‘লামূন।উচ্চারণ
এসবই আমি যথাযথ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না। ৩৪ তাফহীমুল কুরআন
আমি তা সৃষ্টি করেছি যথার্থ উদ্দেশ্যে। #%১৪%# কিন্তু তাদের অধিকাংশেই বোঝে না।মুফতী তাকী উসমানী
আমি এ দু’টি অযথা সৃষ্টি করিনি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা জানেনা।মুজিবুর রহমান
আমি এগুলো যথাযথ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বোঝে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি এই দুইটি অযথা সৃষ্টি করি নাই, কিন্তু এদের অধিকাংশই এটা জানে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি এ দু’টোকে যথাযথভাবেই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।আল-বায়ান
আমি ওদু’টিকে সত্যিকার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু তাদের অধিকাংশই (তা) জানে না।তাইসিরুল
আমরা এদুটিকে সত্যের জন্য ভিন্ন সৃষ্টি করি নি, কিন্ত তাদের অধিকাংশই জানে না।মাওলানা জহুরুল হক
৩৪
এটা তাদের আপত্তির দ্বিতীয় জবাব। এর সারমর্ম হচ্ছে, যে ব্যক্তিই মৃত্যুর পরের জীবন এবং আখেরাতের প্রতিদান ও শাস্তিকে অস্বীকার করে প্রকৃতপক্ষে সে এই বিশ্ব সংসারকে খেলনা এবং তার স্রষ্টাকে নির্বোধ শিশু মনে করে। তাই সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে, মানুষ এই পৃথিবীতে সব কিছু করে একদিন এমনি মাটিতে মিশে যাবে এবং তার ভাল বা মন্দ কাজের কোন ফলাফল দেখা দেবে না। অথচ এই বিশ্বজাহান কোন খেলোয়াড়ের সৃষ্টি নয়, এক মহাজ্ঞানী স্রষ্টার সৃষ্টি। মহাজ্ঞানী সত্তা কোন অর্থহীন কাজ করবেন তা আশা করা যায় না। আখেরাত অস্বীকৃতির জবাবে কুরআনের বেশ কয়েকটি স্থানে এই যুক্তি পেশ করা হয়েছে এবং আমরা তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও পেশ করেছি (দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, আল আনয়াম, টীকা ৪৬; ইউনুস, টীকা ১০ ও ১১; আল আম্বিয়া, টীকা ১৬ ও ১৭; আল মু’মিনুন, টীকা ১০১ ও ১০২; আর রূম, টীকা ৪ থেকে ১০)।
আখেরাতকে অস্বীকার করা হলে তার অর্থ দাঁড়ায়, এমন কোনদিন আসবে না, যে দিন সৎকর্মশীলদেরকে তাদের সৎকর্মের পুরস্কার এবং অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধের শাস্তি দেওয়া হবে আর তার ফলাফল হয় এই যে, আল্লাহ তাআলা বিশ্ব-জগতকে এমনিই তামাশা স্বরূপ সৃষ্টি করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)। [এ আয়াতে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, না, আমি বিশ্ব-জগতকে তামাশা করার জন্য সৃষ্টি করিনি; বরং এর যথাযথ এক উদ্দেশ্য আছে। তা হল, মানুষকে পরীক্ষা করা, সে এখানে স্বেচ্ছায় ভালো কাজ করে, না মন্দ কাজ। তারপর একদিন আসবে, যখন তাকে তার ভালো-মন্দ কাজ অনুসারে ফলাফল দেওয়া হবে। ভালো লোক যাবে জান্নাতে এবং মন্দ লোক জাহান্নামে -অনুবাদক]।
৩৯. আমরা এ দু'টিকে যথাযথভাবেই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
(৩৯) আমি এ দুটিকে যথার্থরূপেই সৃষ্টি করেছি; (1) কিন্তু ওদের অধিকাংশই তা জানে না। (2)
(1) যথাযথ বা যথার্থ উদ্দেশ্য এটাই যে, মানুষকে পরীক্ষা করা হবে এবং সৎলোকদেরকে তাদের সৎকর্মের প্রতিদান এবং অসৎ লোকদেরকে তাদের অসৎ কর্মের শাস্তি দেওয়া হবে।
(2) অর্থাৎ, এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ব্যাপারে তারা উদাসীন ও বেখবর। যার কারণে আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার ব্যাপারে বেপরোয়া এবং পার্থিব সুখ-সামগ্রীর খোঁজেই সদা ব্যস্ত।