ওয়াজা‘আলূবাইনাহূওয়া বাইনাল জিন্নাতি নাছাবাওঁ ওয়ালাকাদ ‘আলিমাতিল জিন্নাতু ইন্নাহুম লামুহদারূন।উচ্চারণ
তারা আল্লাহ ও ফেরেশ্তাদের ৮৯ মধ্যে আত্মীয় সম্পর্ক স্থাপন করে রেখেছে। অথচ ফেরেশ্তারা ভালো করেই জানে তাদেরকে অপরাধী হিসেবে উপস্থিত করা হবে তাফহীমুল কুরআন
তারা আল্লাহ ও জিনদের মধ্যেও বংশীয় সম্পর্ক স্থির করেছে। #%৩২%# অথচ স্বয়ং জিনরোও জানে, তাদেরকে অপরাধীরূপে হাজির করা হবে।মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহ ও জিন জাতির মধ্যে তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করেছে; অথচ জিনেরা জানে যে, তাদেরকেও উপস্থিত করা হবে শাস্তির জন্য।মুজিবুর রহমান
তারা আল্লাহ ও জ্বিনদের মধ্যে সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা আল্লাহ্ ও জিন জাতির মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করেছে, অথচ জিনেরা জানে তাদেরকেও নিশ্চয়ই উপস্থিত করা হবে শাস্তির জন্যে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তারা আল্লাহ ও জিন জাতির মধ্যে একটা বংশসম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জিন জাতি জানে যে, নিশ্চয় তাদেরকেও উপস্থিত করা হবে।আল-বায়ান
তারা আল্লাহ ও জ্বিন জাতির মাঝে একটা বংশ সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জ্বিনেরা ভালভাবে জানে যে, তাদেরকেও শাস্তির জন্য অবশ্যই হাজির করা হবে।তাইসিরুল
আর তারা তাঁর মধ্যে ও জিনদের মধ্যে একটা সম্পর্ক দাঁড় করিয়েছে। আর জিনরা তো জেনেই ফেলেছে যে তাদের অবশ্যই উপস্থাপিত করা হবে।মাওলানা জহুরুল হক
৮৯
মূলে ‘মালাইকা’র (ফেরেশতাবৃন্দ) পরিবর্তে ‘আল জিন্নাহ’ (اَلْجَنَّة) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু কোন কোন শ্রেষ্ঠ তাফসীকারের মতে এখানে ‘জিন’ শব্দটি তার আভিধানিক অর্থের (অর্থাৎ গুপ্ত সৃষ্টি) প্রেক্ষিতে ‘মালাইকা’ তথা ফেরেশতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ ফেরেশতাও আসলে একটি গোপন জীবই। পরবর্তী বিষয়বস্তু এখানে জিন শব্দটি ফেরেশতা অর্থে ব্যবহার করারই দাবী জানায়।
এর দ্বারা মুশরিকদের আরেকটি বেহুদা বিশ্বাস খণ্ডন করা হয়েছে। তারা বলত, জিনদের যারা সর্দার, তাদের কন্যাগণ হল ফেরেশতাদের মা’, যেন তারা আল্লাহ তাআলার স্ত্রী নাউযুবিল্লাহ।
১৫৮. তারা আল্লাহ ও জিন জাতির মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করেছে(১), অথচ জিনেরা জানে, নিশ্চয় তাদেরকে উপস্থিত করা হবে (শাস্তির জন্য)।
(১) এটা মুশরিকদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের বর্ণনা যে, জিন সরদার দুহিতারা ফেরেশতাগণের জননী। কাজেই (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহ তা'আলা ও জিন সরদার-দুহিতাদের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের ফলেই ফেরেশতাগণ জন্মলাভ করেছে। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, মুশরিকরা যখন ফেরেশতাগণকে আল্লাহর কন্যা সাব্যস্ত করল, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে তাদের জননী কে? তারা জওয়াবে বলল, জিন সরদার-দুহিতারা। অপর এক বর্ণনায় এসেছে, কোন কোন আরববাসীর বিশ্বাস ছিল যে, (নাউযুবিল্লাহ) ইবলীস আল্লাহর ভ্রাতা। আল্লাহ মঙ্গলের স্রষ্টা আর সে অমঙ্গলের স্রষ্টা। এখানে তাদের বাতিল বিশ্বাস খণ্ডন করা হয়েছে। (দেখুন: ইবন কাসীর)
(১৫৮) ওরা আল্লাহ এবং জ্বিন জাতির মধ্যে বংশীয় সম্পর্ক স্থির করেছে,(1) অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তাদেরকেও (শাস্তির জন্য) উপস্থিত করা হবে।(2)
(1) এখানে মুশরিকদের ঐ বিশ্বাসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যাতে তারা মনে করে যে, আল্লাহ ও জ্বিনদের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল, যার ফলে কন্যাসন্তান জন্ম গ্রহণ করে। এরাই আল্লাহর মেয়ে, ফিরিশতা। এইভাবে আল্লাহ ও জ্বিনদের মাঝে (বৈবাহিক সম্বন্ধ ) আত্মীয়তার বন্ধন স্থাপিত হয়েছে!
(2) অথচ এই উক্তি কিভাবে সত্য হতে পারে? যদি তাই হতো, তাহলে জ্বিনদেরকে আল্লাহ তাআলা শাস্তি দিতেন কেন? তিনি কি আপন আত্মীয়তার খেয়াল রাখতেন না? আর যদি তা না হয়, বরং খোদ জ্বিনরাও ভালভাবে অবগত আছে যে, তাদেরকেও (অবাধ্যতার কারণে) আল্লাহর শাস্তি ভোগ করার জন্য অবশ্যই জাহান্নামে যেতে হবে, তাহলে আল্লাহ এবং জ্বিনদের মাঝে আত্মীয়তা কিভাবে হতে পারে?