ফানাবাযনা-হু বিল‘আরই ওয়া হুওয়া ছাকীম।উচ্চারণ
শেষ পর্যন্ত আমি তাঁকে বড়ই রুগ্ন অবস্থায় একটি তৃণলতাহীণ বিরান প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম ৮২ তাফহীমুল কুরআন
অতঃপর আমি তাকে পীড়িত অবস্থায় একটি উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম। #%২৯%#মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর তাকে আমি নিক্ষেপ করলাম এক তৃণহীন প্রান্তরে এবং সে ছিল রুগ্ন।মুজিবুর রহমান
অতঃপর আমি তাঁকে এক বিস্তীর্ণ-বিজন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, তখন তিনি ছিলেন রুগ্ন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরপর ইউনুসকে আমি নিক্ষেপ করলাম এক তৃণহীন প্রান্তরে এবং সে ছিল রুগ্ন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর আমি তাকে তৃণলতাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম এবং সে ছিল অসুস্থ।আল-বায়ান
অতঃপর আমি তাকে তৃণলতাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, আর সে ছিল রুগ্ন।তাইসিরুল
তারপর আমরা তাঁকে এক বৃক্ষলতা শূন্য উপকূলে ফেলে দিলাম, আর তিনি ছিলেন অসুস্থ।মাওলানা জহুরুল হক
৮২
অর্থাৎ হযরত ইউনুস (আ) যখন তাঁর অপরাধ স্বীকার করে নিলেন এবং একজন মু’মিন ও ধৈর্যশীল বান্দার ন্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা গাইতে লাগলেন তখন আল্লাহর হুকুমে মাছ তাঁকে উপকূলে উদগীরণ করলো। উপকূলে ছিল একটি বিরাণ প্রান্তর। সেখানে সবুজের কোন চিহ্ন ছিল না এবং এমন কোন জিনিসও ছিল না যা হযরত ইউনুসকে ছায়াদান করতে পারে। সেখানে খাদ্যেরও কোন সংস্থান ছিল না।
এখানে এসে অনেক বুদ্ধি ও যুক্তিবাদের দাবীদারকে একথা বলতে শুনা গেছে যে, মাছের পেটে ঢুকে যাবার পর কোন মানুষের জীবিত বের হয়ে আসা অসম্ভব। কিন্তু বিগত শতকের শেষের দিকে এ তথাকথিত বুদ্ধিবাদ ও যুক্তিবাদিতার কেন্দ্র ভূমির (ইংল্যাণ্ড) উপকূলের সন্নিকটে একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাটি তাদের দাবী খণ্ডন করে। “১৮৯১ সালের আগষ্ট মাসে Star of the East নামক জাহাজে চড়ে কয়েকজন মৎস্য শিকারী তিমি শিকারের উদেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায়। সেখানে তারা ২০ ফুট লম্বা, ৫ ফুট চওড়া ও ১০০ টন ওজনের একটি বিশাল মাছকে আহত করে। কিন্তু তার সাথে লড়াই করার সময় জেমস বার্ডলে নামক একজন মৎস্য শিকারীকে তার সাথীদের চোখের সামনেই মাছটি গিলে ফেলে। একদিন পরে জাহাজের লোকেরা মাছটিকে মৃত অবস্থায় পায়। বহু কষ্টে সেটিকে তারা জাহাজে ওঠায় এবং তারপর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তার পেট কাটলে জেমস তার মধ্য থেকে জীবিত বের হয়ে আসে। এ ব্যক্তি মাছের পেটে পুরা ৬০ ঘণ্টা থাকে।” (উর্দূ ডাইজেষ্ট, ফেব্রুয়ারী ১৯৬৪) চিন্তার ব্যাপার হচ্ছে, সাধারণ অবস্থায় প্রাকৃতিকভাবে যদি এমনটি হওয়া সম্ভবপর হয়ে থাকে, তাহলে অস্বাভাবিক অবস্থায় আল্লাহর মু’জিযা হিসেবে এমনটি হওয়া কেমন করে অসম্ভব হতে পারে?
তাসবীহ পাঠের বরকতে আল্লাহ তাআলা মাছকে হুকুম দিলেন যেন হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে একটি খোলা মাঠের কিনারায় নিয়ে ফেলে দেয়। সুতরাং তাই হল। তখন তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। কোন-কোন বর্ণনায় আছে, তার শরীরে তখন আর কোন পশম বাকি ছিল না। আল্লাহ তাআলা একটি বৃক্ষ উদগত করে তার উপর বিস্তার করে দিলেন। কোন-কোন বর্ণনায় আছে, সেটি ছিল লাউ গাছ। তিনি তার ছায়া লাভ করছিলেন এবং সম্ভবত তার ফলকে তার জন্য ঔষধও বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে একটি বকরীও পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তার দুধ খেতে থাকেন এবং এক সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।
১৪৫. অতঃপর ইউনুসকে আমরা নিক্ষেপ করলাম এক তৃণহীন প্রান্তরে(১) এবং তিনি ছিলেন অসুস্থ।
(১) এটি কাতাদাহ এর মত। ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত, এর অর্থ: নদীর তীরে। (তাবারী)
(১৪৫) অতঃপর ইউনুসকে আমি গাছ-পালাহীন সৈকতে নিক্ষেপ করলাম। (1)
(1) যেরূপ ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় মানুষ বা জন্তুর বাচ্চার অবস্থা হয়, সেইরূপ দুর্বল অবস্থায়।