ইয আবাকা ইলাল ফুলকিল মাশহূন।উচ্চারণ
স্মরণ করো যখন সে একটি বোঝাই নৌকার দিকে পালিয়ে গেলো, ৭৮ তাফহীমুল কুরআন
যখন পালিয়ে একটি বোঝাই নৌকায় পৌঁছল। #%২৮%#মুফতী তাকী উসমানী
স্মরণ কর, যখন সে পালিয়ে বোঝাই নৌযানে পৌঁছল।মুজিবুর রহমান
যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, যখন সে পলায়ন করে বোঝাই নৌযানে পৌঁছিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন সে একটি বোঝাই নৌযানের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল।আল-বায়ান
স্মরণ কর, যখন সে পালিয়ে বোঝাই নৌকায় পৌঁছেছিল।তাইসিরুল
স্মরণ করো! তিনি বোঝাই করা জাহাজে গিয়ে উঠেছিলেন।মাওলানা জহুরুল হক
৭৮
মূলে ابق শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আরবী ভাষায় এ শব্দটি কেবলমাত্র তখনই ব্যবহার করা হয় যখন গোলাম তার প্রভুর কাছ থেকে পালিয়ে যায়। الاباق هرب العبد من سيده অর্থাৎ “ইবাক অর্থ হচ্ছে প্রভুর কাছ থেকে গোলামের পালিয়ে যাওয়া।” (লিসানুল আরব)
হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা সূরা ইউনুসেও (১০ : ৯৮) সংক্ষেপে চলে গেছে এবং কিছুটা সূরা আম্বিয়ায়ও (২১ : ৮৭)। তিনি ইরাকের ‘নিনেভা’ অঞ্চলে প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন পর্যন্ত নিজ কওমকে দাওয়াত দিতে থাকেন। কিন্তু কিছুতেই যখন তারা তাঁর কথায় কর্ণপাত করল না, তখন তিনি তাদেরকে সাবধান করে দিলেন, তিন দিনের ভেতরেই তোমাদের উপর আযাব আসবে। কওমের লোক বলাবলি করল, হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তো কখনও মিথ্যা কথা বলেন না, কাজেই তিনি যদি এলাকা ছেড়ে চলে যান, বুঝবে তিনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলার হুকুমে বসতি ছেড়ে চলে গেলেন। এদিকে বসতির লোকে যখন দেখল তিনি সেখানে নেই এবং শাস্তির কিছু পূর্বাভাসও নজরে পড়ল, তখন তারা অনুতপ্ত হল ও তাওবা করল। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের আযাব সরিয়ে নিলেন। তাদের তাওবার কথা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের জানা ছিল না। তিনি যখন দেখলেন তিন দিন গত হওয়ার পরও আযাব আসল না, তখন ভয় পেয়ে গেলেন এবং আশঙ্কা বোধ করলেন এলাকায় ফিরে গেলে কওমের লোক তাকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করবে, এমনকি তারা তাকে হত্যাও করে ফেলতে পারে। এই আশঙ্কায় তিনি আল্লাহ তাআলার হুকুম আসার আগেই সাগরের দিকে অগ্রসর হলেন। এলাকায় আর ফিরে আসলেন না। সাগর পার হওয়ার জন্য তিনি একটি নৌকায় চড়লেন। নৌকাটি ছিল যাত্রীতে বোঝাই। তিনি যেহেতু আল্লাহ তাআলার এক মহা মর্যাদাবান নবী, তাই আদেশ পাওয়ার আগেই তাঁর এলাকা ত্যাগ আল্লাহ তাআলার পছন্দ হল না। জানা কথা, বড় মানুষের তুচ্ছ ভুলও ধরা হয়ে থাকে। সুতরাং তাঁকেও ধরা হল। যাত্রী বেশী হওয়ার কারণে নৌকাটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কাজেই বোঝা হালকা করার জন্য দরকার পড়েছিল একজনকে নৌকা থেকে ফেলে দেওয়ার। কিন্তু কাকে ফেলা হবে এটা নিষ্পত্তির জন্য লটারী ধরা হল। কয়েক বারই তা ধরা হল, কিন্তু প্রতিবারই নাম উঠছিল হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের। অগত্যা তাকেই পানিতে ফেলে দেওয়া হল। যেখানে ফেলা হয়েছিল আল্লাহ তাআলার হুকুমে সেখানে একটি মাছ তাঁর অপেক্ষায় ছিল। মাছটি সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গিলে ফেলল। তিনি কিছুকাল তার পেটে থাকলেন। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায় তার মেয়াদ ছিল তিন দিন। কোন কোন বর্ণনায় কয়েক ঘণ্টার কথাও বলা হয়েছে, যেমন সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে। তিনি মাছের পেটে তাসবীহ পড়ছিলেন لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ ‘তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তুমি মহান, পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি একজন অপরাধী’।
১৪০. স্মরণ করুন, যখন তিনি বোঝাই নৌযানের দিকে পালিয়ে গেলেন,
(১৪০) স্মরণ কর, যখন সে পলায়ন করে বোঝাই জলযানে পৌঁছল,