قَالُوٓاْ إِنَّكُمۡ كُنتُمۡ تَأۡتُونَنَا عَنِ ٱلۡيَمِينِ

ক-লূইন্নাকুম কুনতুম তা’তূনানা-‘আনিল ইয়ামীন।উচ্চারণ

(আনুগত্যকারীরা তাদের নেতাদেরকে) বলবে, “তোমরা তো আমাদের কাছে আসতে সোজা দিক দিয়ে।” ১৮ তাফহীমুল কুরআন

(অধীনস্থরা তাদের নেতৃবর্গকে) বলবে, তোমরাই তো অত্যন্ত শক্তিমানরূপে আমাদের কাছে আসতে। মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলবেঃ তোমরাতো তোমাদের শক্তি নিয়ে আমাদের নিকট আসতে।মুজিবুর রহমান

বলবে, তোমরা তো আমাদের কাছে ডান দিক থেকে আসতে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা বলবে, ‘তোমরা তো তোমাদের শক্তি নিয়ে আমাদের নিকট আসতে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা বলবে, ‘তোমরাই তো আমাদের কাছে আসতে ধর্মীয় দিক থেকে’।*আল-বায়ান

তারা (তাদের ক্ষমতাশালীদেরকে) বলবে, ‘‘তোমরা তো তোমাদের ক্ষমতা নিয়ে আমাদের কাছে আসতে।’তাইসিরুল

তারা বলবে -- "তোমরাই তো নিশ্চয়ই আমাদের কাছে আসতে ডান দিকে থেকে।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৮

মূলে বলা হয়েছেঃ كُنْتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ الْيَمِينِ “তোমরা আমাদের কাছে আসতে ইয়ামীনের পথে।” ইয়ামীন শব্দটি আরবী ভাষায় বিভিন্ন অর্থে বলা হয়। যদি একে শক্তি অর্থে বলা হয়, তাহলে এর অর্থ হবে আমরা দুর্বল ছিলাম, তোমরা আমাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছিলে তাই তোমরা নিজেদের শক্তি ব্যবহার করে আমাদের গোমরাহীর দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। যদি একে কল্যাণ অর্থে নেয়া হয়, তাহলে এর অর্থ হবে, তোমরা কল্যাণকামী সেজে আমাদের ধোঁকা দিয়েছো। তোমরা আমাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছিলে, যে পথে তোমরা আমাদের চালাচ্ছো এটিই সত্য ও কল্যাণের পথ। তাই আমরা ধোঁকায় পড়ে গিয়েছিলাম। আর যদি একে কসম অর্থে গ্রহণ করা হয়, তাহলে এর অর্থ হবে তোমরা কসম খেয়ে খেয়ে আমাদের নিশ্চিন্ত করতে যে, তোমরা যা পেশ করছো তা-ই সত্য।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে যেন আমরা কিছুতেই ঈমান না আনি। (আরবীতে اليمين শব্দটি শক্তি ও ক্ষমতা অর্থেও ব্যবহৃত হয়।)

তাফসীরে জাকারিয়া

২৮. তারা বলবে, তোমরা তো তোমাদের শপথ নিয়ে আমাদের কাছে আসতে।(১)

(১) এ আয়াতের কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক. তোমরা তোমাদের শপথ নিয়ে এসে বলতে যে, তোমরা হকের উপর আছ, তাই আমরা তোমাদেরকে বিশ্বাস করেছিলাম। তোমরা এমনভাবে আসতে যে, আমরা তোমাদেরকে নিরাপদ মনে করতাম। ফলে আমরা তোমাদের অনুসরণ করেছিলাম। অর্থাৎ তোমরাই আমাদেরকে পথভ্ৰষ্ট করেছ। (জালালাইন) দুই. অন্য অর্থ হচ্ছে, তোমরা দ্বীন ও হকের লেবাস পরে আসতে, আর আমাদেরকে শরীআতের বিধি-বিধান সম্পর্কে উদাসীন করে দিতে। তা থেকে দূরে রাখতে। আর আমাদের কাছে ভ্ৰষ্ট পথকে শোভিত করে দেখাতে। (তাবারী; মুয়াসসার) তিন. তোমরা তোমাদের শক্তি ও প্রভাব নিয়ে আমাদেরকে প্রভাবিত করতে, ফলে আমরা তোমাদের অনুসরণ করতাম। (সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৮) ওরা বলবে, ‘তোমরা তো ডান দিক হতে আমাদের নিকট আসতে।’ (1)

(1) এর অর্থ হল যে দ্বীন এবং হকের নাম দিয়ে আসত অর্থাৎ বলত যে, এটাই আসল দ্বীন এবং এটাই সত্য পথ। অনেকের নিকট এর অর্থ হল, চতুর্দিক থেকে আসত; এখানে والشِّمَالِ শব্দ ঊহ্য আছে। যেমন শয়তান বলেছিল, অতঃপর আমি অবশ্যই তাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, ডান ও বাম দিক হতে (সর্বদিক হতে) তাদের নিকট আসব (এবং পথভ্রষ্ট করব)। (সূরা আ’রাফ ১৭ আয়াত)