আওয়ালাম ইয়াকুল্লাহুম আ-য়াতান আইঁ ইয়া‘লামাহূ‘উলামাউ বানীইছরঈল।উচ্চারণ
এটা কি এদের (মক্কাবাসীদের) জন্য কোন নিদর্শন নয় যে, বনী ইসরাইলের আলেম সমাজ একে জানে? ১২৩ তাফহীমুল কুরআন
বনী ইসরাঈলের উলামা এ সম্পর্কে অবগত আছে এটা কি তাদের জন্য একটা প্রমাণ নয়? #%৫৭%#মুফতী তাকী উসমানী
বানী ইসরাঈলের পন্ডিতরা এটা অবগত আছে, এটা কি তাদের জন্য নিদর্শন নয়?মুজিবুর রহমান
তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী-ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বনী ইস্রাঈলের পণ্ডিতগণ এটা অবগত আছে-এটা কি এদের জন্যে নিদর্শন নয় ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এটা কি তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় যে, বনী ইসরাঈলের পন্ডিতগণ তা জানে?আল-বায়ান
এটা কি তাদের জন্য নিদর্শন নয় যে, বানী ইসরাঈলের পন্ডিতগণ তা জানত (যে তা সত্য)।তাইসিরুল
একি তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় যে ইসরাইলের বংশধরদের পন্ডিতগণ এটি জানে?মাওলানা জহুরুল হক
১২৩
অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের আলেমরা একথা জানে যে, কুরআন মজীদে যে শিক্ষা দেয়া হয়েছে তা ঠিক সেই একই শিক্ষা যা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোতে দেয়া হয়েছিল। মক্কাবাসীরা কিতাবের জ্ঞান না রাখলেও আশেপাশের এলাকায় বনী ইসরাঈলের বিপুল সংখ্যক আলেম ও বিদ্বান রয়েছে। তারা জানে, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আজ প্রথমবার তাদের সামনে কোন অভিনব ও অদ্ভূত ‘কথা’ রাখেননি বরং হাজার হাজার বছর থেকে আল্লাহর নবীগণ এই একই কথা বারবার এনেছেন। এ নাযিলকৃত বিষয়ও সেই একই রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এসেছে যিনি পূর্ববর্তী কিতাবগুলো নাযিল করেছিলেন, এ কথাটি কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ততা অর্জন করার জন্য যথেষ্ট নয়?
সীরাতে ইবনে হিশাম থেকে জানা যায়, এ আয়াতগুলো নাযিল হবার কাছাকাছি সময়ে হাবশা (বর্তমানে ইথিয়োপিয়া) থেকে হযরত জা’ফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর দাওয়াত শুনে ২০ জনের একটি প্রতিনিধি দল মক্কায় আসে। তারা মসজিদে হারামে কুরাইশ বংশীয় কাফেরদের সামনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহিত মোলাকাত করে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন আপনি কি শিক্ষা নিয়ে এসেছেন? তিনি জবাবে কুরআনের কিছু আয়াত শুনান। এগুলো শুনে তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে এবং তারা তখনই তাঁর প্রতি ঈমান আনে। তারপর যখন তারা তাঁর কাছ থেকে উঠে যায় তখন আবু জাহেল কয়েকজন কুরাইশকে সাথে নিয়ে তাদের সাথে দেখা করে এবং তাদেরকে কঠোরভাবে তিরষ্কার করে। সে বলে “তোমাদের চেয়ে বেশী নির্বোধ কাফেলা কখনো এখানে আসেনি। হে হতভাগার দল! তোমাদের দেশের লোকেরা তোমাদের এখানে পাঠিয়েছিল এ ব্যক্তির অবস্থা অনুসন্ধান করে তাদের কাছে সঠিক তথ্য নিয়ে যাবার জন্য। কিন্তু তোমরা তো তাঁর সাথে সাক্ষাত করার সাথে সাথেই নিজেদের ধর্ম বিসর্জন দিয়ে বসলে?” তারা ছিল ভদ্র ও শরীফ লোক। আবু জাহেলের এ নিন্দাবাদ ও ভর্ৎসনায় বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে তারা সালাম দিয়ে সরে গেল এবং বলতে থাকলোঃ আমরা আপনার সাথে বিতর্ক করতে চাই না। আপনার ধর্ম আপনার ইচ্ছা ও আপনার ক্ষমতার আওতাধীন এবং আমাদের ধর্মও আমাদের ইচ্ছা ও আমাদের ক্ষমতার আওতাধীন। যে জিনিসের মধ্যে নিজেদের কল্যাণ দেখেছি সেটিই আমরা গ্রহণ করে নিয়েছি। (দ্বিতীয় খণ্ড, ৩২ পৃষ্ঠা) সূরা কাসাসে এ ঘটনার আলোচনা এভাবে এসেছেঃ
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِهِ هُمْ بِهِ يُؤْمِنُونَ - وَإِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ قَالُوا آمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّنَا إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ ................... وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ وَقَالُوا لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ
“এর আগে যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম তারা এ কুরআনের প্রতি ঈমান আনে এবং যখন তাদেরকে তা শুনানো হয় তখন বলে, আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি। এ হচ্ছে আমাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য। আমরা এর আগেও এই দ্বীন ইসলামের ওপর ছিলাম। .........আর যখন তারা অর্থহীন কথাবার্তা শুনলো তখন বিতর্ক এড়িয়ে গেলো এবং বললো আমাদের কাজ আমাদের জন্য এবং তোমাদের কাজ তোমাদের জন্য। তোমাদের সালাম জানাই। আমরা মূর্খদের পদ্ধতি পছন্দ করি না। (অর্থাৎ তোমরা আমাদের দু’টি কথা শুনালে জবাবে আমরাও তোমাদের দু’টি কথা শুনালাম)
বনী ইসরাঈলের যে ভাগ্যবান ব্যক্তিবর্গ ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারা তো স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করতই যে, ইয়াহুদী ও নাসারাদের কিতাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন সম্পর্কে সুসংবাদ জানানো হয়েছে এবং তাঁর আলামতসমূহও উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বনী ইসরাঈলের যে সকল আলেম ইসলাম গ্রহণ করেনি, তারাও মাঝে-মধ্যে একান্ত আলাপচারিতার সময় এ সত্য স্বীকার করত, যদিও প্রকাশ্যে তার নানা রকম অপব্যাখ্যা করত এবং এখনও করে যাচ্ছে।
১৯৭. বনী ইসরাঈলের আলেমগণ এ সম্পর্কে জানে—এটা কি তাদের জন্য নিদর্শন নয়?(১)
(১) অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের আলেমরা একথা জানে যে, কুরআন মজীদে যে শিক্ষা দেয়া হয়েছে তা ঠিক সেই একই শিক্ষা যা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোতে দেয়া হয়েছিল। মক্কাবাসীরা কিতাবের জ্ঞান না রাখলেও আশেপাশের এলাকায় বনী ইসরাঈলের বিপুল সংখ্যক আলেম ও বিদ্বান রয়েছে। তারা জানে, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আজ প্রথমবার তাদের সামনে কোন অভিনব ও অদ্ভুত “কথা” রাখেননি। বরং হাজার হাজার বছর থেকে আল্লাহর নবীগণ এই একই কথা বারবার এনেছেন। এ নাযিলকৃত বিষয়ও সেই একই রব্বুল আলমীনের পক্ষ থেকে এসেছে যিনি পূর্ববর্তী কিতাবগুলো নাযিল করেছিলেন, এ কথাটি কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ততা অর্জন করার জন্য যথেষ্ট নয়? (দেখুন: ফাতহুল কাদীর)
(১৯৭) বনী-ইস্রাঈলের পন্ডিতগণ এ অবগত আছে --এ কি ওদের জন্য নিদর্শন নয়? (1)
(1) কেননা, ঐ সমস্ত গ্রন্থে নবী (সাঃ) এবং কুরআনের কথা উল্লেখ রয়েছে। মক্কার কাফেররা ধর্মীয় ব্যাপারে ইয়াহুদীদের কাছে রুজু করত। এই হিসাবে বলা হয়েছে যে, তাদের এ জানা ও বলা কি এই কথার প্রমাণ নয় যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর সত্য রসূল এবং এ কুরআন আল্লাহ প্রদত্ত গ্রন্থ। তাহলে তারা ইয়াহুদীদের এই কথা শুনে নবীর উপর ঈমান আনয়ন করে না কেন?