ওয়া ইন্নাহূলাফী ঝুবুরিল আওওয়ালীন।উচ্চারণ
আর আগের লোকদের কিতাবেও এ কথা আছে। ১২২ তাফহীমুল কুরআন
পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহেও এর (অর্থাৎ এই কুরআনের) উল্লেখ রয়েছে। #%৫৬%#মুফতী তাকী উসমানী
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ রয়েছে।মুজিবুর রহমান
নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই এটার উল্লেখ আছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর অবশ্যই তা রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।আল-বায়ান
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে।তাইসিরুল
আর নিঃসন্দেহ এটি পূর্ববর্তীদের ধর্মগ্রন্থে রয়েছে ।মাওলানা জহুরুল হক
১২২
অর্থাৎ একথা, এ অবতীর্ণ বিষয় এবং এ আল্লাহ প্রদত্ত শিক্ষা ইতিপূর্বেকার আসমানী কিতাবগুলোতে রয়েছে। এক আল্লাহর বন্দেগীর একই আহ্বান, পরকালের জীবনের এই একই বিশ্বাস নবীদের পথ অনুসরণের একই পদ্ধতি সেসব কিতাবেও পেশ করা হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে যেসব কিতাব এসেছে সেগুলো শিরকের নিন্দাই করে। সেগুলো বস্তুবাদী জীবনাদর্শ ত্যাগ করে এমন সত্য জীবনাদর্শ গ্রহণের আহ্বান জানায় যেগুলোর ভিত্তি আল্লাহর সামনে মানুষের জবাবদিহিতার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সে সকল কিতাবের অভিন্ন দাবী এই যে, মানুষ নিজের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি ও ক্ষমতা পরিত্যাগ করে নবীদের আনীত আল্লাহর বিধান অনুসরণ করে চলুক। এসব কথার মধ্যে কোনটাই নতুন নয়। দুনিয়ায় কুরআনই প্রথমবার একথাগুলো পেশ করছে না। কোন ব্যক্তি বলতে পারবে না, তোমরা এমনসব কথা বলছো যা পূর্বের ও পরের কেউ কখনো বলেনি।
ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির একটি পুরাতন অভিমতের সপক্ষে যেসব যুক্তি দেখানো হয়ে থাকে এ আয়াতটি তার অন্যতম। ইমাম সাহেবের মতটি হচ্ছেঃ
যদি কোন ব্যক্তি নামাজে কুরআনের অনুবাদ পড়ে নেয় সে আরবীতে কুরআন পড়তে সক্ষম হলেও বা না হলেও, তার নামাজ হয়ে যায়। আল্লামা আবু বকর জাসসাসের ভাষায় এ যুক্তির ভিত্তি হলো, আল্লাহ এখানে বলছেন, এ কুরআন পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোর মধ্যেও ছিল। আর একথা সুস্পষ্ট, সে কিতাবগুলোতে কুরআন আরবী ভাষার শব্দ সমন্বয়ে ছিল না। অন্য ভাষায় কুরআনের বিষয়বস্তু উদ্ধৃত করে দেয়া সত্ত্বেও তা কুরআনই থাকে। কুরআন হওয়াকে বাতিল করে দেয় না। (আহকামুল কুরআন, তৃতীয় খণ্ড, ৪২৯ পৃষ্ঠা) কিন্তু এ যুক্তির দুর্বলতা একেবারেই সুস্পষ্ট। কুরআন মজীদ বা অন্য কোন আসমানী কিতাবের কোনটিরও নাযিল হবার ধরণ এমন ছিল না যে, আল্লাহ নবীর অন্তরে কেবল অর্থই সঞ্চার করে দিয়েছেন এবং তারপর নবী তাকে নিজের ভাষায় বর্ণনা করেছেন। বরং প্রত্যেকটি কিতাব যে ভাষায় এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে শব্দ ও বিষয়বস্তু উভয়টি সহকারেই এসেছে। পূর্ববর্তী যেসব কিতাবে কুরআনের শিক্ষা ছিল মানবিক ভাষা সহকারে নয় বরং আল্লাহর ভাষা সহকারেই ছিল এবং সেগুলোর কোনটির অনুবাদকেও আল্লাহর কিতাব বলা যেতে পারে না এবং তাকে আসলের স্থলাভিষিক্ত করাও সম্ভব নয়। আর কুরআন সম্পর্কে বার বার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছে তার প্রতিটি শব্দ আরবী ভাষায় হুবহু নাযিল হয়েছেঃ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا-(يوسف-2) “নিশ্চিতভাবে আমি তা নাযিল করেছি আরবী ভাষায় কুরআন আকারে।” وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا “আর এভাবে আমি তা নাযিল করেছি একটি নির্দেশ আরবী ভাষায়।” قُرْآنًا عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ (الزمر-28) “আরবী ভাষায় এ কুরআন বক্রতা মুক্ত।” (আয্ যুমারঃ ২৮) তারপর আলোচ্য আয়াতের সাথে সংযুক্ত পূর্ববর্তী আয়াতেই বলা হয়েছে, রূহুল আমীন আরবী ভাষায় একে নিয়ে নাযিল হয়েছেন। এখন তাঁর সম্পর্কে কেমন করে এ কথা বলা যেতে পারে যে, কোন মানুষ অন্য ভাষায় তার যে অনুবাদ করেছে তাও কুরআনই হবে এবং তার শব্দাবলী আল্লাহর শব্দাবলীর স্থলাভিষিক্ত হবে। মনে হচ্ছে যুক্তির এ দুর্বলতাটি মহান ইমাম পরবর্তী সময়ে উপলব্ধি করে থাকতে পারেন। তাই নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এ কথা উদ্ধৃত হয়েছে যে, এ বিষয়ে নিজের অভিমত পরিবর্তন করে তিনি ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদের মত গ্রহণ করে নিয়েছিলেন অর্থাৎ যে ব্যক্তি আরবী ভাষায় কিরআত তথা কুরআন পড়তে সক্ষম নয় সে ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজে কুরআনের অনুবাদ পড়তে পারে যতক্ষণ সে আরবী শব্দ উচ্চারণ করার যোগ্যতা অর্জন না করে। কিন্তু যে ব্যক্তি আরবীতে কুরআন পড়তে পারে সে যদি কুরআনের অনুবাদ পড়ে তাহলে তার নামাজ হবে না। আসলে ইমামদ্বয় এমন সব আজমী তথা অনারব নওমুসলিমকে এ সুযোগটি দেবার প্রস্তাব করেছিলেন যারা ইসলাম গ্রহণ করার পরপরই আরবী ভাষায় নামাজ পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারতো না। এ ব্যাপারে কুরআনের অনুবাদও কুরআন এটা তাদের যুক্তির ভিত্তি ছিল না। বরং তাদের যুক্তি ছিল, ইশারায় রুকূ-সিজদা করতে অক্ষম ব্যক্তির জন্য জায়েয ঠিক তেমনি আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় নামাজ পড়াও এমন ব্যক্তির জন্য জায়েয যে আরবী হরফ উচ্চারণ করতে অক্ষম। অনুরূপভাবে যেমন অক্ষমতা দূর হবার ইশারায় রুকূ- সিজদাকারীর নামাজ হবে না ঠিক তেমনি কুরআন পড়ার ক্ষমতা অর্জন করার পর অনুবাদ পাঠকারীর নামাযও হবে না। (এ বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন সারখসী লিখিত মাবসূত, প্রথম খণ্ড, ৩৭ পৃষ্ঠা এবং ফাতহুল কাদীর ও শারহে ইনায়াহ আলাল হিদায়াহ প্রথম খণ্ড, ১৯০-২০১ পৃষ্ঠা)
অর্থাৎ, তাওরাত, যাবুর ও ইনজীলসহ আরও যে সমস্ত কিতাব পূর্ববর্তী রাসূলগণের প্রতি নাযিল হয়েছিল, তাতে আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব ও তাঁর প্রতি কুরআন নাযিল হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল। সেসব কিতাবের অনেক বিষয় রদবদল করে ফেলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেকগুলি ভবিষ্যদ্বাণী এখনও পর্যন্ত তাতে দেখতে পাওয়া যায়। হযরত মাওলানা রহমাতুল্লাহ কীরানবী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ‘ইজহারুল হক’ গ্রন্থের শেষ অধ্যায়ে সেসব ভবিষ্যদ্বাণী বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এই লেখক (আল্লামা তাকী উসমানী)-এর হাতে গ্রন্থখানি উর্দূ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাতে প্রয়োজনীয় টীকাণ্ডটিপ্পনীও সংযোজন করা হয়েছে। অনেক দিন হল তা ‘বাইবেল সে কুরআন তাক’ নামে পাঠকের হাতে পৌঁছে গেছে।
১৯৬. আর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ আছে।
(১৯৬) পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ আছে। (1)
(1) অর্থাৎ, যেমন শেষ নবীর আগমন বার্তা ও তাঁর সুন্দর চারিত্রিক গুণাবলীর বর্ণনা পূর্বের ধর্মগ্রন্থসমূহে রয়েছে। অনুরূপ কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সুসংবাদও পূর্বের কিতাবসমূহে দেওয়া হয়েছিল। এর অন্য একটি অর্থ হল, সমস্ত শরীয়তের অভিন্ন বিধি-বিধানের দিক দিয়ে এই কুরআন মাজীদ পূর্বের কিতাবসমূহেও মওজুদ রয়েছে।