وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلۡمُجۡرِمُونَ

ওয়ামাআদাল্লানাইল্লাল মুজরিমূন।উচ্চারণ

আর এ অপরাধীরাই আমাদেরকে ভ্রষ্টতায় লিপ্ত করেছে। ৬৯ তাফহীমুল কুরআন

আমাদেরকে তো বড় বড় অপরাধীরাই বিভ্রান্ত করেছিল। #%৩০%#মুফতী তাকী উসমানী

আমাদেরকে দুস্কৃতকারীরাই বিভ্রান্ত করেছিল।মুজিবুর রহমান

আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘আমাদেরকে দুষ্কৃতিকারীরাই বিভ্রান্ত করেছিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর অপরাধীরাই শুধু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল’;আল-বায়ান

অপরাধীরাই আমাদেরকে গোমরাহ্ করেছিল।তাইসিরুল

"আর অপরাধীরা ছাড়া অন্য কেউ আমাদের বিপথে নেয় নি।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৯

ভক্ত-অনুরক্তদের পক্ষ থেকে এভাবে তাদের খাতির তোয়াজ করা হবে। অথচ এ ভক্ত-অনুরক্তরাই দুনিয়ায় এদেরকে বুজর্গ, গুরু ও নেতা বলে মেনে নিয়েছিল। এদের হাতে-পায়ে চুমো দেয়া হতো। এদের কথা ও কাজকে প্রমাণ্য ও আদর্শ বলে স্বীকার করা হতো। এদের সমীপে নজরানা ও মানত পেশ করা হতো। পরকালে গিয়ে যখন সত্য প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং অনুসারীবৃন্দ জানতে পারবে অগ্রবর্তীরা কোথায় চলে এসেছে এবং তাদেরকে কোথায় নিয়ে এসেছে তখন এ ভক্ত-অনুরক্তের দল তাদেরকে অপরাধী গণ্য করবে এবং অভিশাপ দেবে। কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে পরকালীন জগতের এ শিক্ষণীয় চিত্র অংকন করা হয়েছে, যাতে দুনিয়ায় অন্ধ অনুসারীদের চোখ খুলে যায় এবং কারো পেছনে চলার আগে তারা দেখে নিতে পারে অগ্রবর্তীরা সঠিক পথে যাচ্ছে কিনা। সূরা আ’রাফে বলা হয়েছেঃ

كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَعَنَتْ أُخْتَهَا حَتَّى إِذَا ادَّارَكُوا فِيهَا جَمِيعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لِأُولَاهُمْ رَبَّنَا هَؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِنَ النَّارِ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَلَكِنْ لَا تَعْلَمُونَ

“প্রত্যেকটি দল যখন জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন তার নিজের সাথী দলের উপর অভিশাপ দিতে দিতে যাবে। এমনকি যখন সবাই সেখানে একত্র হয়ে যাবে তখন প্রত্যেক পরবর্তী দল পূর্ববর্তী দল সম্পর্কে বলবে, হে আমাদের রব! এরাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, এখন এদেরকে দ্বিগুণ আগুনের শাস্তি দাও। রব বলবেন, সবার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি কিন্তু তোমরা জানো না।” (৩৮ আয়াত)

সূরা হা-মীম আস্ সাজদায় বলা হয়েছেঃ

وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا رَبَّنَا أَرِنَا اللَّذَيْنِ أَضَلَّانَا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ نَجْعَلْهُمَا تَحْتَ أَقْدَامِنَا لِيَكُونَا مِنَ الْأَسْفَلِينَ

“আর কাফেররা সে সময় বলবে, হে আমাদের রব! জিন ও মানুষদের মধ্য থেকে তাদেরকে আমাদের সামনে নিয়ে আসেন যারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, যাতে আমরা তাদেরকে পায়ের তলায় পিষে ফেলতে পারি এবং তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়।” (আয়াত ২৯)

এ বিষয়বস্তুটিই সূরা আহযাবে বলা হয়েছেঃ

وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا - رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِيرًا

“আর তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের সরদারদের ও বড়দের আনুগত্য করেছি এবং তারা আমাদের সোজা পথ থেকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে। হে আমাদের রব! তাদেরকে দ্বিগুণ আযাব দাও এবং তাদের প্রতি কঠোর লানত বর্ষণ করো।” (৬৭-৬৮ আয়াত)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অপরাধী বলে কাফেরদের বড় বড় নেতাদের বোঝানো হয়েছে, যারা নিজেরাও কুফর ধরে রেখেছে, অন্যদেরকেও তাতে উৎসাহিত করেছে এবং তাদের দেখাদেখি আরও অনেকে কুফরের পথ বেছে নিয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৯৯. আর আমাদেরকে কেবল দুস্কৃতিকারীরাই পথভ্রষ্ট করেছিল;

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯৯) আমাদেরকে দুষ্কৃতকারীরাই বিভ্রান্ত করেছিল। (1)

(1) সেখানে গিয়ে অনুভব করবে যে, অন্য অপরাধীরা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। পৃথিবীতে তাদেরকে সতর্ক করা হত যে, অমুক অমুক কাজ ভ্রষ্টতা, বিদআত বা শিরক। কিন্তু তখন তারা মানত না এবং চিন্তা-ভাবনাও করত না, যাতে তাদের সামনে সত্য ও অসত্য প্রকাশ পায়।