কাযা-লিকা ওয়া আওরছনা-হা-বানীইছরঈল।উচ্চারণ
এসব ঘটেছে তাদের সাথে আর (অন্যদিকে) আমি বনী ইসরাঈলকে ঐ সব জিনিসের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিয়েছি। ৪৫ তাফহীমুল কুরআন
এ রকমই হয়েছিল তাদের ব্যাপার। আর (অন্য দিকে) আমি বনী ইসরাঈলকে বানিয়ে দিলাম তার উত্তরাধিকারী। #%১৯%#মুফতী তাকী উসমানী
এরূপই ঘটেছিল এবং বানী ইসরাঈলকে আমি করেছিলাম এ সমুদয়ের অধিকারী।মুজিবুর রহমান
এরূপই হয়েছিল এবং বনী-ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরূপই ঘটেছিল এবং বনী ইসরাঈলকে করেছিলাম এই সমুদয়ের অধিকারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এরূপই এবং আমি বনী ইসরাঈলকে এসবের ওয়ারিস বানিয়েছিলাম।আল-বায়ান
এভাবেই ঘটেছিল, আমি বানী ইসরাঈলকে এসব কিছুর উত্তরাধিকারী করে দিয়েছিলাম।তাইসিরুল
এইভাবেই। আর এইগুলো আমরা ইসরাইলের বংশধরদের উত্তরাধিকার করতে দিয়েছিলাম।মাওলানা জহুরুল হক
৪৫
কোন কোন তাফসীরকার এ আয়াতের অর্থ এভাবে গ্রহণ করেছেনঃ যেসব উদ্যান, নদী, ধনভাণ্ডার ও উন্নত আবাসগৃহ ত্যাগ করে এ জালেমরা বের হয়েছিল মহান আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে সেগুলোরই ওয়ারিশ বানিয়ে দেন। এ অর্থ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে অবশ্যই মেনে নিতে হবে যে, ফেরাউনের ডুবে মরার পর বনী ইসরাঈল আবার মিসরে পৌঁছে যাবে এবং ফেরাউনের বংশধরদের সমস্ত ধন-দৌলত এবং শক্তি, পরাক্রম ও গৌরবের অধিকারী হবে। কিন্তু এ জিনিসটি প্রথমত ইতিহাস থেকেও প্রমাণিত নয় এবং দ্বিতীয়ত কুরআনের অন্যান্য জায়গায় বিস্তারিত বিবরণও আয়াতের এ অর্থ গ্রহণের অনুকূল নয়। সূরা বাকারাহ, মায়েদাহ, আ’রাফ ও তা-হা-তে যে ইতিবৃত্ত বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে পরিষ্কার জানা যায়, ফেরাউনের ডুবে মরার পর বনী ইসরাঈল মিসরে ফিরে আসার পরিবর্তে নিজেদের অভীষ্ট মনজিলের (ফিলিস্তীন) দিকেই এগিয়ে যেতে থাকে। তারপর থেকে দাউদের আমল (খৃঃ পূঃ ৯০৩-১০১৩) পর্যন্ত তাদের ইতিহাসের সব ঘটনাই আজকের পৃথিবীতে সিনাই উপদ্বীপ, উত্তর আরব, পূর্ব জর্দান (ট্রান্সজর্ডান) ও ফিলিস্তীন নামে পরিচিত এলাকায় ঘটেছে। তাই এর সঠিক ব্যাখ্যা হচ্ছে, আল্লাহ একদিকে ফেরাউনের বংশধরদেরকে এসব নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করেন এবং অন্যদিকে বনী ইসরাঈলকে এসব নিয়ামতই দান করেন। অর্থাৎ তারা ফিলিস্তীন ভূখণ্ডে বাগ-বাগীচা, নদ-নদী, ধনভাণ্ডার ও উত্তম আবাসিক ভবন সমূহের অধিকারী হয়। সূরা আ'রাফের নিন্মোক্ত আয়াতে এ ব্যাখ্যার প্রতি সমর্থন পাওয়া যায়ঃ
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ - وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا
“তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম এবং তাদেরকে সাগরে ডুবিয়ে দিলাম। কারণ তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা আখ্যায়িত করেছিল এবং তা থেকে বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল। আর তাদের পরিবর্তে আমি যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তাদেরকে এমন একটি দেশের পূর্ব ও পশ্চিমের ওয়ারিস বানিয়ে দিলাম যাকে আমি সমৃদ্ধিতে ভরে দিয়েছিলাম।” (১৩৬-১৩৭ আয়াত)
এ সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ দেশের উপমা কুরআন মজীদে সাধারণত ফিলিস্তীনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যখন কোন এলাকার নাম না নিয়ে এ গুণটি বর্ণনা করা হয় তখন এ থেকে এ এলাকার কথা বলা হয়েছে বলে মনে করা হয়। যেমন সূরা বনী ইসরাঈলে বলা হয়েছেঃ إِلَىالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ
এবং সূরা আম্বিয়ায়ে বলা হয়েছেঃ
وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ
আরো বলা হয়েছেঃ
وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ عَاصِفَةً تَجْرِي بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا
এভাবে সূরা সাবা-এ বলা হয়েছে الْقُرَى الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا এ সবগুলো আয়াতে বরকত শব্দ ফিলিস্তীনের জনপদগুলোর সম্পর্কেই ব্যবহৃত হয়েছে।
এর ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ১৩৭)-এর টীকা। [এর দুই অর্থ হতে পারে (ক) ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায় উদ্যানরাজি, প্রস্রবণ ইত্যাদি পার্থিব যে নি‘আমতরাজী ভোগ করছিল এবং শেষ পর্যন্ত যা পেছনে ফেলে গিয়ে সাগরে নিমজ্জিত হয়েছিল, অনুরূপ নি‘আমত পরবর্তীকালে আমি বনী ইসরাঈলকে দান করেছিলাম। তারা শামের বরকতপূর্ণ ভূমিতে এসব নি‘আমতের অধিকারী হল। (খ) কোন কোন মুফাসসিরের মতে বনী ইসরাঈলকে ফির‘আউনী সম্প্রদায়ের পরিত্যক্ত সম্পদেরই উত্তরাধিকারী করা হয়েছিল। অর্থাৎ তাদের নিমজ্জিত হওয়ার পর বনী ইসরাঈল মিসরে প্রত্যাবর্তন করে সেখানে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। আর ঐতিহাসিকভাবে এটা প্রমাণিত না হলেও আরও পরে মিসর যখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়ে যায়, তখন প্রকারান্তরে তা বনী ইসরাঈলেরই অধিকারে আসে। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তো বনী ইসরাঈলেরই নবী ও বাদশাহ ছিলেন। -অনুবাদক, তাফসীরে উসমানীর বরাতে, দেখুন সূরা আরাফ ৭ : ১৩৭; সূরা শুআরা (২৬ : ৫৯) ও সূরা দুখান (৪৪ : ২৮)-এর টীকাসমূহ]
৫৯. এরূপই ঘটেছিল এবং আমরা বনী ইসরাঈলকে করেছিলাম এসবের অধিকারী।(১)
(১) এ আয়াতে বাহ্যতঃ বলা হয়েছে যে, ফিরআউন সম্প্রদায়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি, বাগ-বাগিচা ও ধন-ভাণ্ডারের মালিক তাদের নিমজ্জিত হওয়ার পর বনী ইসরাঈলকে করে দেয়া হয়। (তাবারী, কুরতুবী) এই ঘটনাটি কুরআনুল করীমের একাধিক সূরায় ব্যক্ত হয়েছে। যেমন, সূরা আল-আ’রাফের ১৩৬ ও ১৩৭ নং আয়াতে, সূরা আল কাসাসের ৫ নং আয়াতে, সূরা আদ-দোখানের ২৫ থেকে ২৮ নং আয়াতসমূহে এবং সূরা আশ-শু'আরার আলোচ্য ৫৯ নং আয়াতে এ ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে।
(৫৯) এরূপই ঘটল এবং বনী-ইস্রাঈলকে এ সমুদয়ের অধিকারী করলাম। (1)
(1) অর্থাৎ, যে ক্ষমতা ও রাজত্ব ফিরআউন অর্জন করেছিল, তা তার কাছ হতে ছিনিয়ে নিয়ে বনী-ইস্রাঈলকে দিয়ে দিলেন। কেউ কেউ বলেন যে, এর অর্থ এই যে, মিসরের মত রাজ্য ও পার্থিব সুখ বনী-ইস্রাঈলকে (অন্যত্র) দান করলাম। কারণ বনী-ইস্রাঈল মিসর হতে বের হয়ে যাওয়ার পর তারা দ্বিতীয়বার মিসরে ফিরে আসেনি। তাছাড়া সূরা দুখানে (২৮নং আয়াতে) বলা হয়েছে, {كَذَلِكَ وَأَوْرَثْنَاهَا قَوْمًا آخَرِينَ} অর্থাৎ, অন্য জাতিকে আমি তার উত্তরাধিকারী বানালাম। (আইসারুততাফসীর) প্রথমোক্ত বিদ্বানগণ বলেন যে, قومًا آخَرين এর মধ্যে قوم শব্দটি যদিও ব্যাপক, কিন্তু এখানে সূরা শুআরাতে বনী-ইস্রাঈলকে উত্তরাধিকারী করার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। অতএব মিসরের উত্তরাধিকারী বনী-ইস্রাঈল জাতিই হবে। কিন্তু খোদ কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী বুঝা যায় যে, বনী-ইস্রাঈলদের মিসর হতে বের হওয়ার পর তাদেরকে পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। আর তাদের অস্বীকার করার কারণে চল্লিশ বছর তাদেরকে তীহ ময়দানে ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল। তারপর তারা পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করেছিল। সুতরাং মূসা (আঃ)-এর কবর মি’রাজের হাদীস অনুসারে বায়তুল মাকদিসের নিকটই রয়েছে। এই কারণে এর সঠিক অর্থ এই যে, যেমন দুনিয়ার ভোগ-সামগ্রী মিসরে ফিরআউনদের ছিল, অনুরূপ ভোগ-সামগ্রী বনী-ইস্রাঈলকেও দান করা হয়েছিল। কিন্তু তা মিসরে নয়; বরং প্যালেস্টাইনে।