আলাম তার কাইফা দারবাল্লা-হুমাছালান কালিমাতান তাইয়িবাতান কাশাজারতিন তাইয়িবাতিন আসলুহা-ছা-বিতুওঁ ওয়া ফার‘উহা-ফিছছামাই।উচ্চারণ
তুমি কি দেখছো না আল্লাহ কালেমা তাইয়েবার ৩৪ উপমা দিয়েছেন কোন্ জিনিসের সাহায্যে? এর উপমা হচ্ছে যেমন একটি ভালো জাতের গাছ, যার শিকড় মাটির গভীরে প্রোথিত এবং শাখা-প্রশাখা আকাশে পৌঁছে গেছে। ৩৫ তাফহীমুল কুরআন
তুমি কি দেখনি আল্লাহ কালেমা তায়্যিবার কেমন দৃষ্টান্ত দিয়েছেন? তা এক পবিত্র বৃক্ষের মত, যার মূল (ভূমিতে) সুদৃঢ়ভাবে স্থিত আর তার শাখা-প্রশাখা আকাশে বিস্তৃত। #%২১%#মুফতী তাকী উসমানী
তুমি কি লক্ষ্য করনা আল্লাহ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন? সৎ বাক্যের তুলনা উৎকৃষ্ট বৃক্ষ যার মূল সুদৃঢ় এবং যার প্রশাখা উর্ধ্বে বিস্তৃত ।মুজিবুর রহমান
তুমি কি লক্ষ্য কর না, আল্লাহ তা’আলা কেমন উপমা বর্ণনা করেছেনঃ পবিত্র বাক্য হলো পবিত্র বৃক্ষের মত। তার শিকড় মজবুত এবং শাখা আকাশে উত্থিত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তুমি কি লক্ষ্য কর না আল্লাহ্ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন ? সৎবাক্যের তুলনা উৎকৃষ্ট বৃক্ষ যার মূল সুদৃঢ় ও যার শাখা-প্রশাখা ঊর্ধ্বে বিস্তৃত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি কি দেখ না, আল্লাহ কীভাবে উপমা পেশ করেছেন? কালিমা তাইয়েবা, যা একটি ভাল বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুস্থির আর শাখা-প্রশাখা আকাশে।আল-বায়ান
তুমি কি দেখ না কীভাবে আল্লাহ দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন? উৎকৃষ্ট বাক্যের তুলনা উৎকৃষ্ট গাছের ন্যায় যার মূল সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত আর শাখা-প্রশাখা আকাশপানে বিস্তৃত।তাইসিরুল
তোমরা কি ভেবে দেখ নি আল্লাহ্ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন সাধু কথাকে উৎকৃষ্ট গাছের সঙ্গে, যার শিকড় হচ্ছে মজবুত ও যার ডালপালা আকাশে,মাওলানা জহুরুল হক
৩৪
“কালেমা তাইয়েবা”র শাব্দিক অর্থ “পবিত্র কথা” কিন্তু এ শব্দের মাধ্যমে যে তাৎপর্য গ্রহণ করা হয়েছে তা হচ্ছে, এমন সত্য কথা এবং এমন পরিচ্ছন্ন বিশ্বাস যা পুরোপুরি সত্য ও সরলতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ উক্তি ও আকীদা কুরআন মজীদের দৃষ্টিতে অপরিহার্যভাবে এমন একটি কথা ও বিশ্বাস হতে পারে যার মধ্যে রয়েছে তাওহীদের স্বীকৃতি, নবীগণ ও আসমানী কিতাবসমূহের স্বীকৃতি এবং আখেরাতের স্বীকৃতি। কারণ কুরআন এ বিষয়গুলোকেই মৌলিক সত্য হিসেবে পেশ করে।
৩৫
অন্য কথায় এর অর্থ হলো, পৃথিবী থেকে আকাশ পর্যন্ত সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থা যেহেতু এমন একটি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত যার স্বীকৃতি একজন মু’মিন তার কালেমা তাইয়েবার মধ্যে দিয়ে থাকে, তাই কোন স্থানের প্রাকৃতির আইন- এর সাথে সংঘর্ষ বাধায় না, কোন বস্তুর আসল, স্বভাব ও প্রাকৃতিক গঠন একে অস্বীকার করে না এবং কোথাও কোন প্রকৃত সত্য ও সততা এর সাথে বিরোধ করে না। তাই পৃথিবী ও তার সমগ্র ব্যবস্থা তার সাথে সহযোগিতা করে এবং আকাশ তথা সমগ্র মহাশূন্য জগত তাকে স্বাগত জানায়।
কালিমা তায়্যিবা দ্বারা কালিমা তাওহীদ অর্থাৎ ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বোঝানো হয়েছে। অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন, ‘পবিত্র বৃক্ষ’ হল খেজুর গাছ। খেজুর গাছের শিকড় মাটির নিচে অত্যন্ত শক্তভাবে গাড়া থাকে। তীব্র বাতাস বা ঝড়ো হাওয়া তার কোন ক্ষতি করতে পারে না। এভাবেই তাওহীদের কালিমা যখন মানুষের মন-মস্তিষ্কে বদ্ধমূল হয়ে যায়, তখন ঈমানের কারণে তার সামনে যতই কষ্ট-ক্লেশ ও বিপদাপদ দেখা দিক না কেন, তাতে তার ঈমানে বিন্দুমাত্র দুর্বলতা সৃষ্টি হয় না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে কত রকমের কষ্টই না দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের অন্তরে তাওহীদের যে কালিমা বাসা বেঁধেছিল, বিপদাপদের ঝড়ো-ঝঞ্ঝায় তাতে এতটুকু কাঁপন ধরেনি। আয়াতে খেজুর গাছের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে তার শাখা-প্রশাখা আকাশের দিকে বিস্তৃত থাকে এবং ভূমির মলিনতা থেকে দূরে থাকে। এভাবেই মুমিনের অন্তরে যখন তাওহীদের কালিমা বদ্ধমূল হয়ে যায়, তখন তার সমস্ত শাখা-প্রশাখা অর্থাৎ সৎকর্মসমূহ দুনিয়াদারির মলিনতা হতে মুক্ত থেকে আসমানের দিকে চলে যায় এবং আল্লাহ তাআলার কাছে পৌঁছে তাঁর সন্তুষ্টি হাসিল করে নেয়।
২৪. আপনি কি লক্ষ্য করেন না আল্লাহ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন? সৎবাক্যের(১) তুলনা উৎকৃষ্ট গাছ যার মূল সুদৃঢ় ও যার শাখা-প্রশাখা উপরে বিস্তৃত,(২)
(১) মূল আয়াতে (كَلِمَةً طَيِّبَةً) বলা হয়েছে। “কালেমা তাইয়েবা”র শাব্দিক অর্থ “পবিত্র কথা।” পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এ কালেমা। (বাগভী) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ (كَلِمَةً طَيِّبَةً) হলোঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষ্য দেয়া আর (كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ) হলো মু'মিন। (ইবন কাসীর) এরপর (أَصْلُهَا ثَابِتٌ) এর অর্থ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুমিনের অন্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত। (وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ) অর্থ, এ কালেমার কারণে এর মাধ্যমে মুমিনের আমল আসমানে উত্থিত হয়। (ইবন কাসীর) আর এ তাফসীরই দাহহাক, সায়ীদ ইবনে জুবাইর, ইকরিমাহ এবং কাতাদা সহ অনেক মুফাসসেরীন থেকে বর্ণিত হয়েছে। যার সারকথা হলো, উত্তম বৃক্ষ হলো মুমিন যার তুলনা খেজুর গাছের সাথে বিভিন্ন হাদীসে দেয়া হয়েছে। খেজুর গাছ শুধু ভাল কিছুই উপহার দেয়। তেমনি ঈমানদার, শুধু ভালকাজই তার কাছ থেকে আসমানে উঠতে থাকে। সে ভাল কথা, ভাল কাজ করেই যেতে থাকে আর তা দুনিয়াতে হলেও তার ফলাফল নির্ধারিত হয় আকাশে। (ইবন কাসীর)
(২) এ আয়াতে মুমিন ও তার ক্রিয়াকর্মের উদাহরণে এমন একটি বৃক্ষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার কাণ্ড মজবুত ও সুউচ্চ এবং শিকড় মাটির গভীরে প্রেথিত। ভূগর্ভস্থ ঝর্ণা থেকে সেগুলো সিক্ত হয়। গভীর শিকড়ের কারণে বৃক্ষটি এত শক্ত যে, দমকা বাতাসে ভূমিসাৎ হয়ে যায় না। ভূপৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্বে থাকার কারণে এর ফল ময়লা ও আবর্জনা থেকে মুক্ত। এ বৃক্ষের দ্বিতীয় গুণ এই যে, এর শাখা উচ্চতায় আকাশ পানে ধাবমান। তৃতীয় গুণ এই যে, এর ফল সবসময় সর্বাবস্থায় খাওয়া যায়। এ বৃক্ষটি কি এবং কোথায়, এ সম্পর্কে তাফসীরবিদগণের বিভিন্ন উক্তি বর্ণিত আছে। সর্বাধিক তথ্যনির্ভর উক্তি এই যে, এটি হচ্ছে খেজুর বৃক্ষ। (আত-তাফসীরুস সহীহ) এর সমর্থন অভিজ্ঞতা এবং চাক্ষুষ দেখা দ্বারাও হয় এবং বিভিন্ন হাদীস থেকেও পাওয়া যায়। খেজুর বৃক্ষের কাণ্ড যে উচ্চ ও মজবুত, তা প্রত্যক্ষ বিষয়-সবাই জানে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ কুরআনে উল্লেখিত পবিত্র বৃক্ষ হচ্ছে খেজুর বৃক্ষ এবং অপবিত্র বৃক্ষ হচ্ছে হানযল তথা মাকাল বৃক্ষ। (তিরমিযিঃ ৩১১৯, নাসায়ীঃ ২৮২)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ ‘একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। জনৈক ব্যক্তি তার কাছে খেজুর বৃক্ষের শাস নিয়ে এল। তখন তিনি সাহাবায়ে কেরামকে একটি প্রশ্ন করলেনঃ বৃক্ষসমূহের মধ্যে একটি বৃক্ষ হচ্ছে মর্দে-মুমিনের দৃষ্টান্ত। (বুখারীর রেওয়ায়েত মতে এ স্থলে তিনি আরো বললেন যে, কোন ঋতুতেই এ বৃক্ষের পাতা ঝরে না।) বল, এ কোন বৃক্ষ? ইবনে উমর বললেনঃ আমার মন চাইল যে, বলে দেই- খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু মজলিশে আবু বকর, উমর ও অন্যান্য প্রধান প্রধান সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। তাদেরকে চুপ দেখে আমি বলার সাহস পেলাম না। এরপর স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এ হচ্ছে খেজুর বৃক্ষ। (বুখারীঃ ৭২, ১৩১, ২২০৯, ৪৬৯৮, মুসলিমঃ ২৮১১, মুসনাদে আহমাদঃ ২/১২, ২/৬১)
এ বৃক্ষ দ্বারা মুমিনের দৃষ্টান্ত দেয়ার কারণ এই যে, কালেমায়ে তাইয়্যেবার মধ্যে ঈমান হচ্ছে মজবুত ও অনড় শিকড়বিশিষ্ট, দুনিয়ার বিপদাপদ একে টলাতে পারে না। সাহাবী ও তাবেয়ী; বরং প্রতি যুগের খাঁটি মুসলিমদের দৃষ্টান্ত বিরল নয়, যারা ঈমানের মোকাবেলায় জান, মাল ও কোন কিছুর পরওয়া করেনি। দ্বিতীয় কারণ তাদের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা। তারা দুনিয়ার নোংরামী থেকে সবসময় দূরে সরে থাকেন যেমন ভূপৃষ্ঠের ময়লা-আবর্জনা উচু বৃক্ষকে স্পর্শ করতে পারে না। এ দুটি গুণ হচ্ছে (أَصْلُهَا ثَابِتٌ) এর দৃষ্টান্ত। তৃতীয় কারণ এই যে, খেজুর বৃক্ষের শাখা যেমন আকাশের দিকে উচ্চে ধাবমান, মুমিনের ঈমানের ফলাফলও অর্থাৎ সৎকর্মও তেমনি আকাশের দিকে উত্থিত হয়। কুরআন বলেঃ (إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ) (সূরা ফাতিরঃ ১০)- অর্থাৎ পবিত্র বাক্যাবলী আল্লাহ্ তা'আলার যেসব যিকর, আল্লাহর দরবারে পৌছতে থাকে।
চতুর্থ কারণ এই যে, খেজুর বৃক্ষের ফল যেমন সব সময় সর্বাবস্থায় এবং সব ঋতুতে দিবারাত্র খাওয়া হয়, মুমিনের সৎকর্মও তেমনি সবসময়, সর্বাবস্থায় এবং সব ঋতুতে অব্যাহত রয়েছে এবং খেজুর বৃক্ষের প্রত্যেকটি অংশই যেমন উপকারী, তেমনি মুমিনের প্রত্যেক কথা ও কাজ, ওঠাবসা এবং এসবের প্রতিক্রিয়া সমগ্র বিশ্বের জন্য উপকারী ও ফলদায়ক। তবে শর্ত এই যে, আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষা অনুযায়ী হতে হবে। (দেখুন, ইবনুল কাইয়্যেম, ইলামুল মুওয়াক্কেয়ীন, ১/১৩৩; আল-বদর, তাআম্মুলাত কী মুমসালাতিল মুমিন বিন নাখলাহ) উপরোক্ত বক্তব্য থেকে জানা গেল যে, (تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ) বাক্যে أُكُلٌ শব্দের অর্থ হচ্ছে ফল ও খাদ্যোপযোগী বস্তু এবং حِين শব্দের অর্থ প্রতিমুহুর্ত। এটিই সবচেয়ে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত। (তাবারী) যদিও এখানে অন্যান্য মতও রয়েছে। (দেখুন, তাবারী; বাগভী; কুরতুবী ইবন কাসীর)
(২৪) তুমি কি লক্ষ্য কর না, আল্লাহ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন? সৎবাক্যের উপমা উৎকৃষ্ট বৃক্ষ; যার মূল সুদৃঢ় ও যার শাখা-প্রশাখা আকাশে বিস্তৃত।