তু’তী উকুলাহা-কুল্লা হীনিম বিইযনি রব্বিহা - ওয়া ইয়াদরিবুল্লা-হুল আমছা-লা লিন্না-ছি লা‘আল্লাহুম ইয়াতাযাক্কারূন।উচ্চারণ
প্রতি মুহূর্তে নিজের রবের হুকুমে সে ফলদান করে। ৩৬ এ উপমা আল্লাহ এ জন্য দেন যাতে লোকেরা এর সাহায্যে শিক্ষা লাভ করতে পারে। তাফহীমুল কুরআন
তা নিজ প্রতিপালকের নির্দেশে প্রতি মুহূর্তে ফল দেয়। #%২২%# আল্লাহ (এ জাতীয়) দৃষ্টান্ত দেন, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে।মুফতী তাকী উসমানী
যা প্রত্যেক মওসুমে ফল দান করে তার রবের অনুমতিক্রমে, এবং আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা দিয়ে থাকেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।মুজিবুর রহমান
সে পালনকর্তার নির্দেশে অহরহ ফল দান করে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্ত বর্ণণা করেন-যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যা প্রত্যেক মওসুমে এর ফলদান করে এর প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। এবং আল্লাহ্ মানুষের জন্যে উপমা দিয়ে থাকেন, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সেটি তার রবের অনুমতিতে সব সময় ফল দান করে; আর আল্লাহ মানুষের জন্য নানা দৃষ্টান্ত প্রদান করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।আল-বায়ান
তার প্রতিপালকের হুকুমে তা সব সময় ফল দান করে। মানুষদের জন্য আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।তাইসিরুল
তা তার ফল দিচ্ছে প্রত্যেক মৌসুমে তার প্রভুর অনুমতিক্রমে। আর আল্লাহ্ মানবসমাজের জন্য উপমাসমূহ প্রয়োগ করেন যেন তারা স্মরণ করতে পারে।মাওলানা জহুরুল হক
৩৬
অর্থাৎ সেটি একটি ফলদায়ক ও ফলপ্রসূ কালেমা। কোন ব্যক্তি বা জাতি তার ভিত্তিতে জীবন ব্যবস্থা গড়ে তুললে প্রতি মুহূর্তে সে তার সূফল লাভ করতে থাকে। সেটি চিন্তা ধারায় পরিপক্কতা ও পরিচ্ছন্নতা, স্বভাবে প্রশান্তি, মেজাজে ভারসাম্য, এ জীবন ধারায় মজবুতী, চরিত্রে পবিত্রতা, আত্মায় প্রফুল্লতা ও স্নিগ্ধতা, শরীরে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা, আচরণে মাধুর্য, ব্যবহার ও লেনদেনে সততা, কথাবার্তায় সত্যবাদিতা, ওয়াদা ও অঙ্গীকারে দৃঢ়তা, সামাজিক জীবন যাপনে সদাচার, কৃষ্টিতে ঔদার্য ও মহত্ব, সভ্যতায় ভারসাম্য, অর্থনীতিতে আদল ও ইনসাফ, রাজনীতিতে বিশ্বস্ততা, যুদ্ধে সৌজন্য, সন্ধিতে আন্তরিকতা এবং চুক্তি ও অঙ্গীকারে বিশ্বস্ততা সৃষ্টি করে। সেটি এমন একটি পরশ পাথর যার প্রভাব কেউ যথাযথভাবে গ্রহণ করলে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়।
অর্থাৎ, এ গাছ সদা সজীব। কখনও পাতা ঝরে ন্যাড়া হয় না। সর্বাবস্থায় ফল দেয়। এর দ্বারা খেজুর গাছ বোঝানো হয়ে থাকলে এর অর্থ হবে, এর ফল সারা বছরই খাওয়া হয়। তাছাড়া যে মওসুমে গাছে ফল থাকে না, তখনও তা দ্বারা বহুমাত্রিক উপকার লাভ হয়। কখনও তার রস আহরণ করা হয়। কখনও তার শাঁস বের করে খাওয়া হয়। তার পাতা দ্বারা বিভিন্ন রকমের জিনিস তৈরি করা হয়। এমনিভাবে যখন কেউ কালিমা তায়্যিবার প্রতি ঈমান এনে ফেলে, তখন সে সচ্ছল থাকুক বা অসচ্ছল, আরামে থাকুক বা কষ্টে, সর্বাবস্থায় ঈমানের বদৌলতে তার আমলনামায় উত্তরোত্তর পূণ্য বাড়তে থাকে। ফলে তার পুরস্কারেও মাত্রা যোগ হতে থাকে, যা প্রকৃতপক্ষে তাওহীদী কালিমারই ফল।
২৫. যা সব সময়ে তার ফলদান করে তার রবের অনুমতিক্রমে। আর আল্লাহ্ মানুষের জন্য উপমাসমূহ পেশ করে থাকেন, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহন করে।
(২৫) যা তার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অহরহ ফল দান করে।(1) আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা বর্ণনা করে থাকেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
(1) এর অর্থ এই যে, মু‘মিনদের উদাহরণ ঐ (বারমেসে ফলদার) গাছের ন্যায়, যে গাছ শীত-গ্রীষ্ম সব সময় ফল দান করে। অনুরূপ মু‘মিনদের সৎ কার্যাবলী দিবানিশির ক্ষণে ক্ষণে আকাশের দিকে (আল্লাহর কাছে) নিয়ে যাওয়া হয়। كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌ (সৎবাক্য) থেকে উদ্দেশ্য, ইসলাম অথবা কলেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং شَجَرَة طَيِّبَة (উৎকৃষ্ট বৃক্ষ) বলতে খেজুর বৃক্ষকে বুঝানো হয়েছে, যেমন সহীহ হাদীস থেকে এ কথা প্রমাণিত। (বুখারীঃ কিতাবুল ইলম, মুসলিম, কিতাবু সিফাতিল কিয়ামাহ)