وَأُدۡخِلَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَٰتِ جَنَّـٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِمۡۖ تَحِيَّتُهُمۡ فِيهَا سَلَٰمٌ

ওয়া উদখিলাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা-বিইযনি রব্বিহিম তাহিইইয়াতুহুম ফীহাছালা-ম ।উচ্চারণ

অপরদিকে যারা দুনিয়ায় ঈমান এনেছে এবং যারা সৎ কাজ করেছে তাদেরকে এমন বাগীচায় প্রবেশ করানো হবে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত হবে। সেখানে তারা তাদের রবের অনুমতিক্রমে চিরকাল বসবাস করবে। সেখানে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানানো হবে শান্তি ও নিরাপত্তার মোবারকবাদ সহকারে। ৩৩ তাফহীমুল কুরআন

আর যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল, তাদেরকে এমন উদ্যানরাজিতে দাখিল করা হবে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। নিজ প্রতিপালকের হুকুমে তারা সর্বদা তাতে (উদ্যানরাজিতে) থাকবে। তাতে তাদের পারস্পরিক অভিবাদন হবে সালাম। #%২০%#মুফতী তাকী উসমানী

যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তাদেরকে দাখিল করা হবে জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী হবে তাদের রবের অনুমতিক্রমে। সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’।মুজিবুর রহমান

এবং যারা বিশ্বাস স্থাপণ করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে তাদেরকে এমন উদ্যানে প্রবেশ করানো হবে, যার পাদদেশ দিয়ে নির্ঝরিনী সমূহ প্রবাহিত হবে তারা তাতে পালনকর্তার নির্দেশে অনন্তকাল থাকবে। যেখানে তাদের সম্ভাষণ হবে সালাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদেরকে দাখিল করা হবে জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা স্থায়ী হবে, তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে, সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে, তারা তাতে তাদের রবের অনুমতিক্রমে স্থায়ী হবে। তথায় তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’।আল-বায়ান

যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করা হবে যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। সেখানে তারা তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে চিরকাল থাকবে। সেখানে তাদেরকে শান্তির বার্তা দিয়ে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হবে।তাইসিরুল

আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের প্রবেশ করানো হবে স্বর্গোদ্যানসমূহে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ঝরনারাজি, সেখানে তারা থাকবে স্থায়ীভাবে তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে। সেখানে তাদের অভিবাদন হবে "সালাম"!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৩

মূল শব্দ تَحِيَّة এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, দীর্ঘায়ুর জন্য দোয়া। কিন্তু পারিভাষিক অর্থে আরবী ভাষায় এ শব্দটিকে সম্বর্ধনা ও অভ্যর্থনা সূচক শব্দ বা স্বাগত বচন হিসেবে বলা হয়ে থাকে। লোকেরা পরস্পর মুখোমুখি হলে সবার আগে একজন অন্যজনের উদ্দেশ্যে এ শব্দটিই উচ্চারণ করে। আমাদের ভাষায় এর সমার্থক শব্দ হচ্ছে, “সালাম” বা “সালাম কালাম”। কিন্তু প্রথম শব্দটি ব্যবহার করলে অনুবাদ যথাযর্থ হয় না এবং দ্বিতীয় শব্দটি হালকা হয়ে যায়। তাই আমি এর অনুবাদে “অভ্যর্থনা” শব্দ ব্যবহার করেছি।

تَحِيَّتُهم শব্দের মানে এও হতে পারে যে, তাদের মধ্যে পারস্পরিক অভ্যর্থনার পদ্ধতি এ হবে। আবার এ মানেও হতে পারে যে, তাদের অভ্যর্থনা এভাবে হবে। তাছাড়া سَلَامٌ শব্দের মধ্যে নিরাপত্তার দোয়ার অর্থ রয়েছে এবং নিরাপত্তার জন্য মোবারকবাদও রয়েছে। পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমি এখানে অনুবাদে উল্লেখিত অর্থ গ্রহণ করেছি।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

উপরে জাহান্নামীদের পারস্পরিক কথপোকথন উল্লেখ করা হয়েছিল, তারা একে অন্যকে দোষারোপও করবে এবং এ কথার ঘোষণা দেবে যে, এখন তাদের জন্য ধ্বংস ছাড়া কিছু নেই। এর বিপরীতে জান্নাতবাসীদের অবস্থা বলা হয়েছে, তারা প্রতিটি সাক্ষাতে একে অন্যকে ধ্বংসের বিপরীতে শান্তি ও নিরাপত্তার বার্তা শোনাবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৩. আর যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদেরকে প্রবেশ করানো হবে জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা তাদের রবের অনুমতিক্রমে স্থায়ী হবে, সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’।(১)

(১) এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, জান্নাতবাসীদের পরস্পর সাদর সম্ভাষন হবে সালাম। (আদওয়াউল বায়ান) আবার কারও কারও মতে, এ সালাম আল্লাহর পক্ষ থেকে হবে। (বাগভী) অন্যত্র আছে যে, ফেরেশতাগণ জান্নাতবাসীদেরকে এ শব্দে সাদর সম্ভাষণ জানাবে। যেমনঃ “যখন তারা জান্নাতের কাছে উপস্থিত হবে ও এর দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি ‘সালাম', তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়ীভাবে অবস্থিতির জন্য।” (সূরা আয-যুমারঃ ৭৩) “স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতামাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তারাও, এবং ফিরিশতাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে, এবং বলবে, তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি; কত ভাল এ পরিণাম! (সূরা আর-রাদঃ ২৩–২৪) “তাদেরকে প্রতিদান দেয়া হবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ যেহেতু তারা ছিল ধৈর্যশীল, তাদেরকে সেখানে অভ্যর্থনা করা হবে অভিবাদন ও সালাম সহকারে। (সূরা আল-ফুরকানঃ ৭৫) “সেখানে তাদের ধ্বনি হবেঃ হে আল্লাহ্! আপনি মহান, পবিত্র এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে, সালাম’ এবং তাদের শেষ ধ্বনি হবেঃ সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর প্রাপ্য।” (সূরা ইউনুসঃ ১০)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৩) যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তাদেরকে প্রবেশ করানো হবে জান্নাতে; যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত; সেখানে তারা তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে;(1) সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। (2)

(1) এটা দুর্ভাগ্যবান ও কাফেরদের মুকাবেলায় সৌভাগ্যবান ও ঈমানদারদের বর্ণনা। এদের উল্লেখ তাদের সাথে এই জন্য করা হয়েছে যে, যাতে মানুষের মধ্যে ঈমানদারদের মত চরিত্র গ্রহণ করার ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়।

(2) অর্থাৎ, তাদের পরস্পরের উপহার হবে একে অপরকে সালাম করা। এ ছাড়া ফিরিশতাবর্গও প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে তাদেরকে সালাম পেশ করবেন।