আমি দেশি,বিদেশি কবুতর পালন করতে চাই । কি রকম লাভ হবে ? কিভাবে পালন করব ?
5474 views

2 Answers

বিভিন্ন ধরনের গৃহপালিত পাখির মধ্যে কবুতর সর্বাধিক জনপ্রিয়। কবুতরের বাহ্যিক সৌন্দর্যগত দিকগুলোর কারণেই মূলত কবুতর পালন করা হয়ে থাকে। প্রায় ১০,০০০ বছর পূর্বে থেকে কবুতর মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রাণী। এক সময়ে মোবাইল, ই-মেইল ও ডাক, ইত্যাদির বিকল্প হিসেবে কবুতরকে এক স্থান হতে অন্য স্থানে সংবাদ প্রেরণের কাজে ব্যবহার করা হতো। এছাড়া, সারা পৃথিবী জুড়ে কবুতরকে ধরা হয় শান্তির দূত হিসেবে। কবুতর বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্পের নতুন সংযোজন। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে আমাদের দেশ পৃথিবীর মাঝে অন্যতম স্থান দখল করে আছে। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৯০০ জনের অধিক লোক বাস করে। দেশের প্রায় ১৫-২০% সাধারণ মানুষ তীব্র পুষ্টিহীনতার মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে থাকে। খাদ্য হিসেবে মাথা পিছু প্রতিদিনের প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা মাত্র ১৫ গ্রাম যেখানে কমপক্ষে প্রয়োজন ৬২ গ্রাম। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য ও পুষ্টিহীনতা নিরসনকল্পে পোল্ট্রি বিশেষ করে হাঁস-মুরগির পাশাপাশি কবুতর পালন হয়ে উঠতে পারে একটি উল্লেখযোগ্য খাত। এমন কী এ খাত জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নেও যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ কবুতর খুব সহজেই যে কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশে খাপ খেয়ে চলতে পারে। কবুতর সহজেই পোষ মানে। বাড়ীর যে কোনো স্থানে বা আঙিনা, বাড়ীর ছাদ কিংবা কার্ণিশের মত ছোট বা অল্প জায়গাতেও কবুতর পালন করা যায়। এমনকি ছাদের সাথে ঝুড়ি ঝুলিয়েও কবুতর পালন করা যায়। আবার প্রাকৃতিকভাবে পালন করলে কবুতর নিজের খাদ্য নিজেই জোগাড় করতে পারে। কবুতরে তুলনামূলক রোগ-বালাই কম। শহরে কী গ্রামে অনেক বাড়ীতেই কবুতর পালন করা যায়। কবুতরের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু ও বলকারক এবং অন্যান্য মাংসের চেয়ে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে আমিষের চাহিদা পূরণের জন্য কবুতরের মাংস খাওয়া হয়ে থাকে। যে কোনো ব্যক্তিই এদের লালন-পালন করতে পারে। কবুতর মূলত পালন শুরু হয় আদিকাল থেকেই এবং এটি বহু প্রাচীন একটি পেশা। মানুষ দীর্ঘদিন যাবত এ পেশার সঙ্গে সরাসরি জড়িত; ফলে এদের সম্পর্কে সহজেই পরিচিত হতে পেরেছে। তবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কবুতর পালনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। সাধারণত গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ১০-১২টি কবুতর পালন করা হতো মাংস ও ডিমের জন্য। কিন্তু গত কয়েক বছরে কবুতর আর সেই গুটি কয়েক সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কবুতর পালন ও উৎপাদন খরচ অপেক্ষাকৃত কম, দ্রুত ডিম ও মাংস পাওয়ার নিশ্চয়তা, দ্রুত ব্যবসায়িক ফল লাভ, এদের মাংসে সীমিত চর্বির উপস্থিতি, হজমে সুবিধা এবং সকল ধর্মের মানুষের কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্যতার কারণেই কবুতর এবং এদের থেকে উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী (ডিম ও মাংস) মানুষের পুষ্টির যোগানে আদর্শ ও মানসম্পন্ন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। কবুতর পালন ধীরে ধীরে জনগণের মধ্যে নতুন আগ্রহের জন্ম দিয়েছে এবং এ পেশার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এর বড় কারণ হলো স্বল্প মূলধন ও অতি অল্প সময়ে যে পরিমাণ লাভ করা যায় অন্য কোনো শিল্পে তা সম্ভব নয়। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে খামারে কবুতর পালন হয় তাতে করে ওই সকল কবুতর ৬ মাস বয়স থেকেই ডিম দিতে শুরু করে এবং প্রবাদ আছে এক জোড়া কবুতর থেকে ১২ মাসে ১৩ জোড়া বাচ্চা পাওয়া সম্ভব যা বিক্রি করে মূলধনসহ নীট মুনাফা অর্জন করা অত্যন্ত সহজ। এ জন্য এদেশের গরীব, অল্প আয়ের লোক, বেকার, শিক্ষিত ও অর্ধ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্যে একটি সহজ উপায় হলো কবুতর পালন। পৃথিবীর বহু দেশেই এটি একটি লাভজনক শিল্প হিসাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে অল্প সময়ে এটাকে লাভ জনক ব্যবসা হিসেবে অনেকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর ও শহরতলীতে বিভিন্ন উন্নত জাতের বেসরকারী কবুতরের খামার গড়ে উঠেছে। এ সকল খামারে পৃথিবীর বিখ্যাত জাতের কবুতর পালন করা হয়ে থাকে। লাভজনক ও টেকসই কবুতর খামার স্থাপনের জন্য উন্নতজাতের কবুতর প্রাপ্তির স্থান, কবুতরের পরিচিতি, কবুতর নির্বাচন, কবুতরের জাত, কবুতরের বাসস্থান, সুলভে খাদ্য সরবরাহ, রোগ- ব্যাধি দমন, ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজন। কবুতরের খামার করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিবর্গের জন্য উল্লিখিত বিষয়গুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। উন্নতজাতের কবুতর প্রাপ্তির স্থান বাংলাদেশের জলবায়ু এবং বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত্র কবুতর পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দেশের প্রায় সকল অঞ্চলে বিশেষ করে গ্রামে-গঞ্জে কবুতর পালন করা হয়ে থাকে। যে সকল এলাকায় দানাদার খাদ্যশস্য অধিক পরিমাণে উৎপন্ন হয় ওই সকল অঞ্চলে অধিক হারে কবুতর পালন করতে দেখা যায়। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন সৌখিন ব্যক্তি নিজ চেষ্টায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিভিন্ন শোভাবর্ধনকারী জাতের কবুতর লালন পালন শুরু করেছেন এবং তাঁরা আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বেশি দামে কবুতর বিক্রয় করে থাকেন। অর্থনৈতিকভাবে লালন পালনের জন্য বাংলাদেশে যেসব অঞ্চলে উন্নত/সৌখিনজাতের কবুতর পাওয়া যায় সেই অঞ্চলগুলো হল- ঢাকা, নরসিংদী, ঝিনাইদহ, যশোহর, পটুয়াখালী, বরগুনা, নাটোর, রংপুর, ময়মনসিংহ, বান্দরবান ও কক্সবাজার। আবার বিভিন্ন জাতের কবুতরের বাজারও বেড়ে উঠেছে। যে সব বাজারে উন্নত জাতের কবুতর পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ঢাকার কাঁটাবন, মিরপুর-১১, জিঞ্জিরা, টঙ্গি, গাজীপুর, ঠ্যাটারি বাজার, পাবনার বাইপাসহাট এবং বিভিন্ন জেলার শহরাঞ্চলের সৌখিন মার্কেট, ইত্যাদি। ইতোমধ্যে, কবুতরের খামার সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন এসোসিয়েশন গড়ে উঠেছে যেমন- পাবনা পায়রা পালক সমিতি। আবার ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কবুতর পালনকারী এদের ঠিকানা ও তাদের সেবার তথ্য পান। কবুতর পালনের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাপ্ত বয়স্ক কবুতরের দৈহিক ওজন (জাত ভেদে): ২৫০-৯০০ গ্রাম প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সময় : ৫-৬ মাস ডিম দেয় (প্রতিবার) : ২টি বছরে গড়ে বাচ্চা উৎপাদন : ১০.৪৩ জোড়া হ্যাচাবিলিটি/ডিম ফোটার হার : ৮৮.৫৪% বাচ্চা উৎপাদনের বয়স : ৪-৬মাস বাচ্চা ফোটার জন্য ডিম তা দেয়ার সময় : ১৭-১৯ দিন বাচ্চার চোখ ফোটে : ৪-৫ দিন পর পালক গজানোর সময়কাল : ১০-১২ দিন মাংস হিসেবে খাওয়ার উপযোগী : ২০-৩০ দিন পাখা ও পা শক্ত হয় : ১৯-২০ দিন বাচ্চা পিজিয়ন মিল্ক কত দিন খায় : ১০ দিন বাচ্চা উড়তে শিখতে সময় লাগে : ৪০-৪৫ দিন দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা : ১০৭.৬ক্ক ফারেনহাইট হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে : ১২৮-১৪০ বার কবুতরের জীবনকাল : ১৫-২০ বছর খামারে জন্য কবুতর নির্বাচন/ক্রয়ের সময় সর্তকতা বাণিজ্যিকভাবে কবুতর খামার শুরু করার পূর্বে উপরল্লিখিত স্থানসমূহ ভালো করে যাচাই বাছাই করে ক্রয়মূল্য এবং বিশ্বস্ততার বিষয়ে ধারণা নিয়ে ওই সব স্থান হতে কবুতর ক্রয় করা যেতে পারে। খামারে পালনের জন্য কবুতর অবশ্যই পরিচিত খামার থেকে সংগ্রহ করতে হবে। বাজার থেকে কবুতর সংগ্রহ করে খামার স্থাপন না করাই ভালো। নতুন খামারের জন্য দেখে শুনে কবুতরের বাচ্চা, পুলেট কবুতর (জীবনের ১ম ডিম দেওয়ার পূর্বে), কম বয়সী/ পূর্ণবয়স্ক কবুতর, উন্নত জাতের কবুতর কেনার অর্ডার দিতে হবে। সংগ্রহের সময় কবুতর জোড়া হিসাবে কিনতে হবে। অপরপক্ষে মাংস ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কবুতর দেশের হাটবাজার বা যারা পালন করে তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা যায়। কবুতর পরিবহনের সময় বাক্স বা ঝুড়ি ব্যবহার করা উচিত। বাক্স বা ঝুড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করে কবুতর পরিবহন করতে হবে। এ সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন বাক্স বা ঝুড়িতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকে যাতে কবুতর ভালোভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পারে। কোনো অবস্থাতেই কবুতরের পাখা বেঁধে পরিবহন করা যাবে না। কারণ এতে পাখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কবুতর শারীরিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সুস্থ কবুতরের বৈশিষ্ট্য * সজাগ দৃষ্টি সম্পন্ন চঞ্চল ও সজীব হবে। * পালক এবং মলদ্বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নর হতে হবে। * ঠোঁট বা মুখ থেকে কোনো প্রকার লালা বা মিউকাস পড়বে না। * যে কোনো ধরনের আঘাত মুক্ত হতে হবে। কবুতরের জাত নির্বাচন মানুষ প্রায় ১০,০০০ বছর পূর্বে খাদ্যের অভাব মেটানোর জন্য পক্ষীকুলের মধ্য থেকে কবুতর পোষা শুরু করে। মানুষের প্রয়োজনে কবুতরকে বিভিন্নভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নতুন নতুন জাত তৈরি করা হয়েছে। এক জাতের কবুতর অন্য জাতের কবুতর হতে বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পৃথক। বাংলাদেশে কবুতর পালন খামার নয়শো পঁয়ত্রিশটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে খামার গড়ে উঠেছে। তাই কবুতরের খামার লাভজনক ও টেকসই করতে হলে যে উদ্দেশ্যে কবুতর পালন করা হবে সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন জাতের কবুতর নির্বাচন অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশ্বে এ পর্যন্ত ৩৫০ জাতের কবুতর পাওয়ার তথ্য রয়েছে। ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে কবুতরের জাতকে মোট ৪ ভাগে ভাগ করা যায় যথা: ১। শোভাবর্ধনকারী জাত : প্রকৃতির সৌন্দর্যবৃদ্ধি ও বিনোদনের জন্য এ জাতের কবুতর পালন করা হয় যেমন- কিং, পোটার, ক্রপার, জ্যাকোপিন, ফ্রিলব্যাক, হোমার, রান্ট, ফ্যানটেল, ইত্যাদি। ২। রেসিংজাতের কবুতর: এ জাতের কবুতর সাধারণত দ্রুত বেগে উড়তে পারে এবং নির্দিষ্ট স্থান থেকে আবার নিজ বাসস্থানে ফেরত আসতে পারে। যেমন: রেসিং হোমার, হর্স ম্যান, ইত্যাদি। ৩। ফ্লাইং জাতের কবুতর: বার্মিংহাম রোলার, ফ্লাই টিপলার/ ফ্লাইং হোমার, হাম্বলার, কিউমুলেট, ইত্যাদি। ৪। মাংস উৎপাদনকারী জাত: মাংসের জন্য অর্থাৎ স্কোয়াব (Squab) উৎপাদনের জন্য এ জাতের কবুতর পালন করা হয়। যেমন দেশী জাতের কবুতর-সিরাজী, জালালী, গিরিবাজ, লোটন, বোম্বাই, বাংলা, গোবিন্দ, ইত্যাদি। বাংলাদেশে শোভাবর্ধনকারী কবুতরকে কেন্দ্র করে মূলত আধুনিক কবুতরের খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে যে জাতের কবুতর এদেশে পাওয়া যায় তার চিত্র নিম্নে দেওয়া হলো। কবুতরের বাসস্থান কবুতর পালনের উদ্দেশ্য, কবুতরের জাত, বয়স, মূল্য ও কবুতর খামারের ধরনের ওপর ভিত্তি করে কবুতরের বাসস্থানকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো- ক. প্রচলিত গতানুগতিক ও খ. অপ্রচলিত বা আধুনিক । ক. প্রচলিত বা গতানুগতিক বাসস্থান: এ ধরনের বাসস্থান সাধারণত গ্রামাঞ্চল থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত প্রাচীনকাল থেকে অদ্যাবধি বিদ্যমান। এ ধরনের বাসস্থান সচরাচর বাঁশ, কাঠ, টিন বা মাটির পাত্র দিয়ে তৈরি করা হয়, যেমন- (১) বাঁশের খাঁচা বা টংগ: টংগের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ৯ x ৩.৭৫ x ৩ ফুট হয়ে থাকে (চিত্র-১)। বাঁশের খাঁচায় কবুতরের ঘর পাশাপাশি ও বহুতল বিশিষ্ট হতে পারে। প্রতি জোড়া কবুতরের জন্য ৩০ সেমি দৈর্ঘ্য, ৩০ সেমি প্রস্থ ও ৩০ সেমি উচ্চতা বিশিষ্ট খোপ বানাতে হবে। প্রতি তলায় খোপের সামনে ১০-১২ সেমি. বারান্দা এবং প্রতি খোপে ১০ সেমি x ১০ সেমি মাপের একটি দরজা রাখতে হবে। সাধারণত টংগে ৪০ জোড়া কবুতর পালন করা যায়। (২) কাঠের বাক্স বা খাঁচা বা খোপ: এ ক্ষেত্রেও কবুতরের ঘর বাঁশের খাঁচার ন্যায় পাশাপাশি এবং বহুতল বিশিষ্ট হয়ে থাকে। শুধু খাঁচা তৈরিতে পাতলা কাঠ ব্যবহার করা হয় (চিত্র-২)। তবে এ ধরনের কবুতরের ঘরে আলো বাতাস কম প্রবেশ করে বলে প্রতি মাসে দু একবার কবুতরের বিষ্ঠা পরিষ্কার করতে হবে। (৩) বাঁশের বা কাঠের কাবুক: বাংলাদেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কবুতর পালনের জন্য বাঁশের বা কাঠের কাবুক বেশি জনপ্রিয়। কাবুকে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা যথাক্রমে ৭.৫, ১.৫ এবং ১.৬ ফুট হয়ে থাকে (চিত্র-৩)। এ কাবুকে প্রায় ৫ জোড়া কবুতর পালন করা যায় । (৪) মাটির খোলা বা হাঁড়ি: গ্রামাঞ্চলে মূলত গৃহস্তের বাড়িতে মাটির খোলা বা হাঁড়িকে শিকার সাহায্য ঘরের ছাদ বা কার্ণিশ থেকে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। প্রতি জোড়া কবুতর এসব খোলা হাঁড়িতে বসবাস শুরু করে এবং ডিম পাড়ে ও বাচ্চা ফুটায়। খ. অপ্রচলিত বা আধুনিক কবুতরের ঘর ১৫x১২x৮ বর্গ বিশিষ্ট একতলার সঙ্গে ১৩x১২ বর্গফুট খোলা জায়গা তারের নেট দিয়ে ঘেরা রাখা হয় (চিত্র-৪)। যাতে অবসর সময়ে কবুতর ঘোরাফেরা ও উড়তে পারে। কবুতরের রোগ-বালাই হতে রক্ষা করার জন্য ঘরগুলো উত্তর পূর্ব মুখী হয়। গ্যাস বের করে দেয়ার জন্য ঘরে এক্সস্ট ফ্যান লাগাতে হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে কবুতরের খাঁচা তৈরিতে জিআই পাইপ, রড, নেট, ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। ১৪ কেজি জি. আই. তার দ্বারা প্রতিজোড়া মাঝারি ও ভারী জাতের কবুতরের জন্য দৈর্ঘ্য, প্রস্থ উচ্চতা যথাক্রমে ২৪ x ২৪ x ২২ ইঞ্চি বিশিষ্ট খাঁচা তৈরি করা হয় (চিত্র-৫)। সারিতে ৬-৮ টি কবুতরের খোপ থাকে। আবার কবুতরের খাঁচা তিন তলা বা চারতলা বিশিষ্ট হতে পারে। এতে খুব সহজে কবুতর নাড়াচাড়া করা যায়। প্রতি তলায় খাঁচার নিচে মল সংগ্রহের ট্রে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। খাদ্য ব্যবস্থাপনা কবুতরের বাচ্চার খাদ্য : ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার কমপক্ষে ৪-৫ দিন পর কবুতরের বাচ্চার চোখ ফোটে। এজন্য এ সময়ে বাচ্চাগুলো কোনো দানাদার খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না। এ সময় স্ত্রী এবং পুরুষ কবুতর তাদের পাকস্থলী (ক্রপ) থেকে ঘন ক্রিম বা দধির মত পদার্থ নি:সরণ করে থাকে যাকে কবুতরের দুধ বলে। এ দুধ আমিষ, চর্বি এবং খনিজ লবণ সমৃদ্ধ যা খেয়ে কবুতরের বাচ্চা বড় হয় এবং এক সপ্তাহ পর্যন্ত খেতে পারে। বাচ্চাগুলো যখন বড় হতে থাকে তখন স্ত্রী এবং পুরুষ কবুতর উভয়ে দানাদার খাদ্যের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে ঠোঁট দিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ায়। বাচ্চা বড় হয়ে নিজে খাদ্য গ্রহণ না করা পর্যন্ত এভাবে খাবার খাওয়াতে থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক কবুতরের খাদ্য: কবুতরের জন্য তৈরিকৃত খাদ্য শর্করা, আমিষ, খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন, চর্বি এবং খনিজ লবণ সম্পন্ন সুষম খাদ্য হতে হবে। কবুতর দানাদার জাতীয় খাদ্য বেশি পছন্দ করে, ম্যাশ বা পাউডার জাতীয় খাদ্য অপছন্দ করে। ছোট আকারের কবুতরের জন্য ২০-৩০ গ্রাম, মাঝারি আকারের জন্য ৩৫-৪০ গ্রাম এবং বড় আকারের কবুতরের জন্য ৫০-৬০ গ্রাম খাদ্য প্রতিদিন দিতে হয়। দানাদার জাতীয় খাদ্যের মধ্যে গম, ধান, ভুট্টা শতকরা ৬০ ভাগ এবং লেগুমিনাস বা ডাল জাতীয় খাদ্যের মধ্যে সরিষা, খেসারী, মাসকলাই শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ সরবরাহ করতে হয়। কবুতরের ভিটামিন সরবরাহের জন্য বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন ছাড়া সবুজ শাকসবজি, কচি ঘাস সরবরাহ করা প্রয়োজন। প্রতিদিন ২ বার খাদ্য সরবরাহ করা ভালো। মাঝে মাঝে পাথর, ইটের কণা (গ্রিট) দেওয়া উচিত কারণ এ গ্রিট পাকস্থলীতে খাবার ভাঙ্গতে এবং পাকস্থলী পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত রাখতে সাহায্যে করে। এছাড়া কবুতরের প্রজননের সময় বা ডিম দেওয়ার সময় গ্রিট মিশ্রণ বা খনিজ মিশ্রণ, ডিম এবং ডিমের খোসা তৈরি এবং ভালো হ্যাচাবিলিটির জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। পানি সরবরাহ: প্রতিদিন পানির পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করে কবুতরকে দিনে ৩ বার পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা উচিত। কবুতর যেহেতু ঠোঁট প্রবেশ করিয়ে ঢোক গেলার মাধ্যমে পানি পান করে সেহেতু পানির পাত্র গভীর বা খাদ বিশিষ্ট হওয়া উচিত। দুই সপ্তাহ পর পর পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশ্রিত পানি সরবরাহ করলে পাকস্থলী বিভিন্ন জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে। কবুতরের প্রজনন ব্যবস্থাপনা বাণিজ্যিকভাবে কবুতরের খামারীগণ সাধারণত উন্নত জাতের কবুতর যেমন-কিং, পোটার, জ্যাকোবিন, রান্ট, স্ট্রেসার, মুক্ষী, ইত্যাদির উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধির জন্য এবং ফোস্টার (পালক মাতা) হিসেবে গিরিবাজ, হোমার, সিরাজি, গোলা, বোম্বে, ইত্যাদি কবুতর পালন করে থাকেন। প্রায় সব জাতের কবুতর ৬-৮ মাসের বয়স হলে স্ত্রী কবুতর ডিম দেয়া শুরু করে এবং বাচ্চা বড় হতে ৪০-৪৫ দিন সময় লেগে যায়। কোনো কোনো সময় কবুতর বাচ্চা লালন পালন করার পাশাপাশি পুনরায় ডিম দেয়া শুরু করে দেয়। আবার বাচ্চা দ্রুত সরিয়ে নিলে তাড়াতাড়ি পুনরায় ডিম দেয়া শুরু করে। বাচ্চা সরিয়ে না নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চা উড়তে শেখার পর ডিম দেয়। এতে বছরে বাচ্চা পাওয়ার সংখ্যা কমে যায়। গড়ে সাধারণত বছরে ৯-১০ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যায় এক জোড়া কবুতর থেকে। অন্যদিকে উন্নত ও ভারীজাতের কবুতরের প্রজনন ক্ষমতা কিছুটা কম থাকায় ডিম ফোটানোর হার কিছুটা কম হয় এবং এরা বাচ্চা লালন পালনে কিছুটা উদাসীন। অপরদিকে দেশী জাতের কবুতর, হোমার, সিরাজী, ইত্যাদির ডিম দেয়ার হার বেশি এবং এরা বাচ্চা লালন পালনে খুব কেয়ারিং হয়। তাই উন্নত জাতের কবুতর যখন ডিম দেয় তখন কৌশলে ওই ডিমগুলো সরিয়ে নিয়ে ৪-৫ দিনের জন্য প্লাস্টিক ডিম তাদের বাসায় রাখা হয় এবং উন্নত জাতের ডিমগুলো ফোস্টার হিসেবে যেসব কবুতর পালন করা হয় এবং যারা নাকি নিজেরাই ডিম দিয়ে ব্রুডিং কার্য চালাতে থাকে এমন সব কবুতরের ডিমগুলো সরিয়ে নিয়ে উন্নতজাতের কবুতরের ডিমগুলো ব্রুডিং এর জন্য দেয়া হয় এবং ফোস্টর কবুতর নিজের ডিম মনে করে ওই ডিমে তা দিতে থাকে এবং আপন গতিতেই বাচ্চা ফোটায় এবং পিজিয়ন মিল্ক পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েই বাচ্চাদের খাওয়ায় এবং বড় হওয়া পর্যন্ত পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ে ঠোঁটের সাহায্যে বাচ্চাকে খাওয়ায়ে বড় করে তোলে। এ সময় অনেকে উন্নত জাতের বাচ্চাগুলো ফোস্টার কবুতরের খাওয়ানোর পাশাপাশি খামারীগণ নিজে তৈরিকৃত হরলিক্স বা কবুতরের বাচ্চাদের খাবার গলায় সিরিঞ্জ দিয়ে অথবা হাত দিয়ে খাওয়ায়ে দ্রুত বড় করে তোলে। অপরপক্ষে, ফোস্টার কবুতরের ডিমগুলো সরিয়ে নিয়ে অন্যান্য ডিমের ন্যায় খাবার জন্য বিক্রি করা হয় বা নিজেরা হাঁস-মুরগীর ডিমের ন্যায় বাসার লোকজন খেয়ে নেয় অথবা বিস্কুট বা পাউরুটি বা কেকের দোকানে বিক্রয় হয়। বিদেশী বা উন্নত জাতের কবুতরের বাসা থেকে ৪-৫ দিন পর প্লাসটিকের ডিম সরিয়ে নিলে ওই কবুতরগুলো যদি সুষম খাবার পায় তাহলে ১০-১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় ডিম দেয়া শুরু করবে এবং খামারীগণ আবার পূর্বের ন্যায় ডিমগুলো অন্যান্য ব্রুডিং ফোস্টার কবুতরের মাধ্যমে উন্নত জাতের বাচ্চা উৎপাদন করতে পারবেন। এ পদ্ধতিতে খামারীগণ প্রতি জোড়া উন্নত জাতের কবুতর থেকে বছরে ১৯-২৪ জোড়া বাচ্চা পেয়ে থাকেন। প্রতি জোড়া বাচ্চা বড় করে ৫,০০০-৫০,০০০ টাকায় বিক্রয় করে থাকেন। কবুতরের রোধ-ব্যাধি কবুতরের রোগ বালাই সাধারণত অন্যান্য পোল্ট্রির তুলনায় কম। সুষ্ঠু রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনায় ব্যতিক্রম ঘটলে নানা ধরনের রোগ দেখা দেয়। আমাদের দেশের কবুতরে যেসব রোগ দেখা যায় তা হলো: কবুতরের রাণীক্ষেত, পক্স, নিউমোনিয়া, মাইকোপ্লাজমোসিস, এসপারজিলোসিস, ঠান্ডা লাগা, ডায়রিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া/ সিটাকোসিস, অরনিথোসিস, ক্যাংকার/ক্রপ ক্যাংকার/ ট্রাইকোমোনিয়াসিস, রোপ, টিবি, ম্যালেরিয়া সালমোনেলা/প্যারাটাইফয়েড, কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এডিনো ভাইরাস টাইপ-১, পিজিয়ন হারপেস ভাইরাস (পি এইচভি), ইত্যাদি। কবুতরের মারাত্মক অন্তঃপরজীবী হলো- গোল কৃমি, হেয়ারওয়ার্ম, ফিতা কৃমি এবং লাং ওয়ার্ম, ইত্যাদি বহিঃপরজীবী হলো- এয়ার স্যাক মাইট্স, স্কেলি ফেস মাইট্, এগ বাইন্ডিং, ইত্যাদি। এছাড়া ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবজনিত রোগ হয়ে থাকে। কবুতরের বাচ্চার মৃতে্যুর হার প্রায় ১০-১৫ ভাগ; পক্ষান্তরে বয়স্ক কবুতরের মৃত্যু হার ২-৪%। কিছু কিছু খামারে কবুতরের মৃত্যুর হার ৮০% এর ঊর্দ্ধে হয়ে থাকে যদি কোনো টিকা বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নেয়া থাকে। কবুতরের মৃত্যুর হার শীতকালে বেশি দেখা যায়। স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনা খামার হতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনা বা খামারের জীবনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বেশির ভাগ রোগই খামার ব্যবস্থাপনার সাথে সর্ম্পকযুক্ত। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে একদিকে যেমন বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় অন্য দিকে তেমনি মানসম্পন্ন বাচ্চা উৎপাদন হবে এবং অধিক লাভবান হওয়া যাবে। স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়গুলো নিম্নে তালিকাভুক্ত করা হলো: * সঠিকভাবে সেড তৈরি করতে হবে যেন পর্যাপ্ত আলো প্রবেশ এবং বায়ু চলাচল করতে পারে। * প্রতি জোড়া কবুতরের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। * কবুতর উঠানোর আগে খামারসহ ব্যবহার্য সকল যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। * সুস্থ সবল কবুতর সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে বাহ্যিক পরজীবী নিধনের জন্য ০.৫% ম্যালাথিয়ন দ্রবণে কবুতরকে গোসল করিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কবুতরের মুখ দ্রবণের মধ্যে ডুবানো যাবে না। হাত দিয়ে মাথায় লাগিয়ে দিতে হবে। অন্ত:পরজীবী প্রতিরোধের জন্য কৃমিনাশক ওষুধ সেবন করাতে হবে। * জীবাণুমুক্ত খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। বিশেষ করে খাবার যাতে কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত আর্দ্রতাযুক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত আর্দ্রতাযুক্ত খাবারের মাধ্যমে এসপারজিলোসিস ও বিষক্রিয়াসহ জটিল রোগ হতে পারে। * কবুতরের খোপ, দানাদার খাদ্য ও খনিজ মিশ্রণ সরবরাহের পাত্র, পানির পাত্র ও গোসলের পাত্র এবং কবুতর বসার স্ট্যান্ড নিয়মিত পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে । * খামারে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রতিবার খামারে প্রবেশ করার পূর্বে এবং খামার থেকে বের হওয়ার সময় হাত ও পা অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে ভিরকন এস, পোভিসেভ অথবা যে কোনো কার্যকর জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে । * খামারে যাতে বন্যপ্রাণী ও ইঁদুর জাতীয় প্রাণী প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কেননা বন্যপ্রাণী ও ইঁদুর দ্বারা রানীক্ষেত, মাইকোপ্লাজমা ও সালমোনেলাসহ গুরুত্বপূর্ণ রোগ খামারে আসতে পারে। * খাঁচা পদ্ধতিতে কবুতর পালনে প্রতিদিন মল-মূত্রের ট্রে পরিষ্কার করে খামারের ভেতরের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে হবে । * কোনো কবুতর অসুস্থ হলে দ্রুত আলাদা করে ফেলতে হবে। অসুস্থ বা মৃত কবুতর অভিজ্ঞ প্রাণিচিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে কারণ জেনে অন্যান্য জীবিত কবুতরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। * খামারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী মোকাবেলা করতে হবে। কবুতরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কবুতরকে সুস্থ রাখার জন্য বাণিজ্যিক খামারীগণ খামারে জীবনিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলেন এবং প্রতি সপ্তাহে জীবাণুনাশক পর্দাথ ছিটিয়ে থাকেন। খামারে রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা প্রয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কবুতরের প্রজননকালীন প্যারেন্ট কবুতরগুলোকে রাণীক্ষেত রোগের ইনএকটিভেটেড/মৃত টিকা প্রয়োগ করা উত্তম। টিকা প্রয়োগের কমপক্ষে ৩ সপ্তাহ পর বাচ্চা ফুটানোর জন্য ডিম সংগ্রহ করতে হবে। তবে বাচ্চা কবুতর উড়তে শেখার সাথে সাথে টিকা প্রয়োগ করা যায়। জীবিত বা ইনএকটিভেটেড এবং মৃত উভয় টিকাই প্রয়োগ করা যায়। জীবিত টিকা চোখে এবং মৃত টিকা চামড়ার নিচে বা মাংসপেশীতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম টিকা (জীবিত) প্রয়োগের কমপক্ষে ১৪ দিন পর দ্বিতীয় বা বুস্টার ডোজ দিতে হবে। কবুতর খামারীগণ সাধারণত মৃত ও লাইভ ভ্যাকসিন উভয় ভ্যাকসিন দিয়ে থাকেন। যদি খামারে রাণীক্ষেত শুরু হয়ে যায় তবে লাইভ ভ্যাকসিন ব্যবহার করলে দ্রুত কবুতরের মৃত্যুর হার কমে আসে এবং সুস্থ অবস্থায় মৃত ভ্যাকসিন দিয়ে থাকেন। খামারীগণ কবুতরের পক্স রোগ প্রতিরোধের জন্য পিজিয়ন পক্স ভ্যাকসিন করে থাকেন। এ ভ্যাকসিন দেয়ার নিয়ম হলো যে কোনো বয়সের কবুতরকে দেয়া যায় তবে বাচ্চার বয়স ১০দিন হলে শুরু করা যায় এবং একটি পাখনার নীচে পালকহীন স্থানে ক্ষত করে দেয়ার নিয়ম। টিকা দেয়ার পাশাপাশি খামারীগণ কবুতরকে প্রতি ২-৪ মাস পর পর গোলকৃমির ওষুধ যেমন-পাইপারাসিন সাইট্রেট খাওয়ান। বেশি উৎপাদন পাওয়ার জন্য খামারীরা মাসে ২বার ভিটামিন ADE, ৩ বার E-sel, মাসে ৫দিন Vit. WS এবং ৩ দিন Calcium ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া ঠান্ড লাগা, পাতলা পায়খানা, জ্বর, ইত্যদি শুরু হলে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিকস্ যেমন-এমোক্সসিলিন, জেন্টামাইসিন, টাইলোসিন, সালফোনামাইড, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, ইত্যাদি যে কোনো একটি ৩-৫ দিন ব্যবহার করেন। এছাড়াও অত্যধিক গরমে ওরস্যালাইন কবুতরকে খাওয়ায়ে থাকেন। বাংলাদেশে কবুতর পালনে অসুবিধাসমূহ বিশুদ্ধ জাতের কবুতর পাওয়া যায় না এবং পাওয়া গেলে মূল্য অনেক বেশি। দেশী বা বিদেশী জাতের কবুতর কেনার বিশ্বস্ত খামারের অভাব আছে। কবুতর পালন বিষয়ক কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব আছে। এদের রোগব্যাধি নিয়ে দেশে গবেষণা বা অনুসন্ধান খুবই কম হয়েছে। কবুতরের কার্যকর ভ্যাকসিন ও ওষুধের অভাব রয়েছে। খাদ্যের অভাব এবং দাম অনেক বেশি। কবুতর ক্রয় বা বিক্রয় করার ভালো বাজারের অভাব আছে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে কবুতর পালন এবং উৎপাদনের জন্য সরকারি খামার বা সহায়তা না থাকায় এই খাতে বিকাশ অত্যন্ত কম। কবুতর খামার টেকসই করার জন্য সুপারিশমালা কবুতরের জাত সংরক্ষণ করতে হবে; প্রজনন নীতি মেনে চলতে হবে; সরকারিভাবে কবুতরের প্রকল্প নিয়ে আরো গবেষণা চালাতে হবে; কবুতরের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিলেবাস প্রণয়ন করতে হবে; রোগ- ব্যাধি নির্ণয়ের জন্য পশুপাখির রোগব্যাধি নির্ণয় গবেষণাগার স্থাপন করতে হবে; কবুতরের ওপর খামারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে; আর্থিক সহযোগিতা দেয়া প্রয়োজন; কবুতরের খাদ্য, ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে; স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। উপসংহার উপকারি পাখি হিসেবে মানুষ যাদের পালন করে তাদের মধ্যে-মুরগি, হাঁস এবং কবুতর অন্যতম। গৃহস্থের কাছে কবুতরের কিছুটা আদর থাকলেও উল্লেখযোগ্য নয়। নানা কারণে কবুতর অন্যতম পোষা পাখি এবং যতেœর দাবিদার। কবুতরের মূল্য ও অবদানের কথা স্মরণ রেখে নূতন করে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। জাতীয়ভাবে এর পরিসংখ্যান নিয়ে আয় ও ব্যয়ের হিসেব সাপেক্ষে কবুতর পালনে পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। স্কোয়াব বা বাচ্চা কবুতরের মাংস গ্রহণও পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। ছোট পাখি হলেই পরিত্যাজ্য নয় বরং জাতীয় চাহিদা পূরণে মাংস উৎপাদনে লিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে। হাঁস ও মুরগির ন্যায় বাংলাদেশ বর্তমানে কবুতর পোল্ট্রি শিল্পে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ফলে, কবুতর পালন বাংলাদেশের জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কবুতর পালন করা হলে কবুতর পালন ব্যবসা হিসাবে জনপ্রিয় হতে পারে। http://khamarbd.com/index.php/35-news-of-the-week/111-2014-04-20-06-09-58 দ

5474 views

https://pigeon.bdfort.com/pigeon-case-study-2/ এই পোষ্ট টি দেখুন

5474 views

Related Questions