হতাশায় ভরা লোকটার জীবনে,একটা রিলেশনেরর জন্য ভেঙ্গে পরছে,সাথে পরিবারও ওর ভাল কেয়ার করে না,অবহেলিত, অহসহায় লোকটা। ওর সব জীবনের সকল কিছুই জানি। এতবুঝানোর পরেও ঠিক হচ্ছে না। আপনার মন্তব্য আশা করছি বা উত্তর। ভাল করে দেওয়ার সুপারিশ করছি, জীবন নিয়ে খেলা তো
2986 views

2 Answers

তাকে প্রথমেই ইসলামের আলোকে বুঝান।আত্মহত্যা কারী কখোনোই জান্নাতে যাবে না।আর ভালো কাজ করলে আল্লাহ তাকে আরো ভালো মেয়ে দিবেন।যা হয়েছে তা আর ফেরানো সম্ভব না।

2986 views

যে বিষয়টি নিয়ে সে হতাশায় আছে সেই বিষয়টি  অর্থ্যাৎ

 রিলেশন সম্পর্কে অপকারিতা বোঝান... সম্ভব

হলে পারিবারিক ভাবে রিলেশনকৃত মানুষটির সাথে

মিলকরন করান।  সে আত্মহত্যা করলে তার পরিবার

কতটা কষ্ট পেতে পারে সে বিষয়ে জ্ঞান দিন।

আত্মহত্যা সম্পর্কে ধার্মিক অপরাধ ও শাস্তি 

সম্পর্কে বলুন। তার জীবনে সুন্দর সুন্দর ভবিষ্যৎ

স্বপ্ন তুলে ধরুন।

জীবন কারুর জন্য থেমে থাকে না বিষয়টি তাকে

উপলদ্ধি করার। আশা করি সে বুঝতে পারবে।

তার জন্য নিম্নক্তো বিষয় গুলো মেনে চলুন/ অনুসরন

করুন। 

আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারি সেবা নিশ্চিত করুন। ডাক্তার যেভাবে ব্যবস্থাপত্র দেন, সেভাবে অনুসরণ করুন; প্রেসক্রিপশন নিরাপদে সংরক্ষণ করুন এবং রোগী ওষুধ খাচ্ছে ও নিয়ম মানছে, তা নিশ্চিত করুন।

— আত্মহত্যার চেষ্টাকারীর দিকে চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি বজায় রাখুন। একা ঘরে ঘুমাতে দেবেন না। রুম এমনকি টয়লেটের ছিটকিনি ও তালা অকেজো করুন, যাতে ভেতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিতে না পারে। তার সঙ্গে যারা বসবাস করছে, তারা যাতে তার আত্মহত্যা প্রবণতার কথা জানেন ও সাবধান থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত হোন।

— শরীর কিছুটা ঠিক হলে তাকে মানসিক রোগের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। প্রয়োজনে মানসিক হাসপাতালে মাসখানেক ভর্তি করে রাখুন। ভর্তি রাখতে অস্বস্তি বোধ করবেন না। আপনি জীবন রক্ষার চেষ্টা করছেন। মানসিক হাসপাতাল বলে লজ্জিত বা দুঃখিত হবেন না।

— তাঁকে মানসিক সমর্থন দিন। তাঁর সমস্যাগুলো জেনে নিয়ে যতটুকু পারা যায়, সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। সমাধানযোগ্য না হলে তাঁকে জানান যে এই বিপদের দিনে তাঁর সঙ্গে আপনি আছেন। তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। ভুলেও আত্মহত্যার চেষ্টা নিয়ে কটাক্ষ করবেন না। উসকানিমূলক কিছু বলবেন না। তার দুঃখের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কোনো উপদেশ দেবেন না। শুধু শুনে যান।

— কিছুটা কথা বলার মতো অবস্থা হলে তাঁকে সাইকোথেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। সাইকোথেরাপি হলো এক ধরনের কথার চিকিৎসা। নানা ধরনের সাইকোথেরাপি প্রচলিত আছে। কগনিটিভ বিহেভিয়র থেরাপি (সিবিটি) এবং ডায়ালেকটিক্যাল বিহেভিয়র থেরাপি (ডিবিটি) আত্মহত্যার প্রতিরোধে বিশেষ ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে। যদি পারিবারিক সমস্যা আত্মহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে সিস্টেমিক ফ্যামিলি থেরাপি বলে এক ধরনের ফ্যামিলি থেরাপি আজকাল সফলভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এদের চিকিৎসায় দলীয় থেরাপি বা গ্রুপ থেরাপিও সাফল্যের সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে। কেউ যদি আত্মহত্যার চেষ্টা নাও করে, যদি তাঁকে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে আছে এমন মনে করেন, তবে তাঁকে সাইকোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করান। প্রয়োজনে মানসিক ডাক্তারও দেখান। সরকারি মেডিকেল কলেজের মানসিক বিভাগে, পাবনা মানসিক হাসপাতাল, ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে এই সেবা পাওয়া যায়। দ্রুত চিকিৎসা দিন। জীবন শেষ হয়ে গেলে আর ফেরত আসবে না।

2986 views

Related Questions