3 Answers
মানসিক রোগের মধ্যে সবচেয়ে ঘাতক ব্যাধি সিজোফ্রেনিয়া!! । তাই এই রোগের ক্ষেত্রে সাইকিয়াট্রিক বা ভাল মানসিক ডাক্তারের অধিনে চিকিৎসা করানো উচিত।
সিজোফ্রেনিয়ার প্রকারভেদ (মূলত তিন ধরণের সিজোফ্রেনিয়ার রোগী দেখা যায়)
১। প্যারানোয়েড সিজোফ্রেনিয়া: প্যারানোয়েড সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা সবসময় চিন্তাগ্রস্ত এবং সন্দেহবাতিক হয়ে থাকে।তারা বিশ্বাস করে অন্যকোনো ব্যক্তি তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে অথবা তার বিরুদ্ধে কোন গোপন পরিকল্পনা করছে (হ্যানসেন এবং অ্যাটকিসন, ২০০০) ।
২। ক্যাটাটনিক সিজোফ্রেনিয়া: এই ধরণের রোগীদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়, যেমনঃ একভাবে বসে থাকা, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা। তারা অন্য ব্যক্তিদের কথা প্রতিধ্বনিত করে থাকে (হ্যানসেন এবং অ্যাটকিসন, ২০০০) ।
৩। ডিসঅর্গানাইজড সিজোফ্রেনিয়া: এই ধরণের রোগীদের বাস্তবতার সাথে কোন মিল থাকেনা, কাজকর্ম ও কথাবার্তা এলোমেলো থাকে, অকারণে দীর্ঘক্ষণ হাসতে থাকে (হ্যানসেন এবং অ্যাটকিসন, ২০০০) ।
সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসা:
সিজোফ্রেনিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা হল অ্যান্টিসাইকোটিক মেডিকেশন। মাঝেমাঝে ঔষধ এর পাশাপাশি মানসিক এবং সামাজিক সহায়তাও প্রয়োজন হয়। অ্যান্টিসাইকোটিক মেডিকেশন এই রোগের কিছু লক্ষণ যেমনঃ অলীক ধারণা বা ভ্রান্ত ধারণা, অলীক বস্তু দেখা ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। রোগের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করলে রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা অত্যাবশ্যক।
অকুপেশনাল থেরাপির ভুমিকা
মানসিক রোগের চিকিৎসায় অকুপেশনাল থেরাপিএকটি অনন্য চিকিৎসা। অকুপেশনাল থেরাপি এমন একতি স্বাস্থ্যসেবামূলক পেশা যা কোনো ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দূরীকরণের মাধ্যমে রোগীকে যতদূর সম্ভব আত্মনির্ভরশীল করে তোলেন। মানসিক রোগ নিরাময়ে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট এবং অন্যান্য হেলথ্ প্রফেশনাল যেমনঃ ডাক্তার, সাইকিয়াট্রিস্ট, কাউন্সিলর, সাইকোলজিস্ট একসাথে কাজ করে থাকেন।অকুপেশনাল থেরাপিস্ট একজন রোগীকে দৈনন্দিন কাজে স্বাবলম্বী করে তুলতে সাহায্য করে থাকেন। সিজোফ্রেনিক
রোগীদের ক্ষেত্রে অকুপেশনাল থেরাপির কাজসমূহ হল:
একজন মানুষ যখন মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন তার দৈনন্দিন কাজকর্মে যেমনঃ খাওয়াদাওয়া, গোসল করা, কাপড় পড়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। অকুপেশনাল থেরাপিস্ট রোগীকে দৈনন্দিন কাজকর্মে অনুশীলন করানোর মাধ্যমে স্বনির্ভর করে তোলেন এবং রোগীর পূর্বের কাজে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে থাকেন।
অকুপেশনাল থেরাপিস্ট সময় ব্যবস্থাপনার জন্য দৈনন্দিন কাজের রুটিন প্রদান করে থাকেন ।
সাইকো এডুকেশনঃ অকুপেশনাল থেরাপিস্ট রোগী এবং রোগীর পরিবারকে রোগ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকেন।
সুস্থ ও সঠিক পুর্বাসনের ব্যবস্থা করে পুনরায় সমাজে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করা অকুপেশনাল থেরাপির কাজ।
গ্রুপ থেরাপিতে অংশগ্রহণ করানোর মাধ্যমে আচরণ পরিবর্তনের চিকিৎসা প্রদান, সামাজিক দক্ষতা অর্জনে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ভূমিকা পালন করে থাকেন।
উচ্ছৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক আচরণ দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজে রোগীকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
অকুপেশনাল থেরাপিস্ট মানসিক রোগীর আক্রমণাত্মক আচরণ দূর করার মাধ্যমে বিভিন্ন পেশাগত কাজে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকেন।
সর্বোপরি সিজোফ্রেনিয়া রোগের ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি অকেপেশনাল থেরাপি একটি উত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা যা সিজোফ্রেনিক রোগীকে তার রোগ প্রতিকার এর মাধ্যমে পুনরায় পুর্বের অবস্থায় ফিরে নিতে সাহায্য করে থাকে।
Collected http://banglarkhobor24.com
সিজফ্রেনিয়া পেসেন্টের চিকিৎসাঃ যে খাবার দিতে হবে : ১. ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার থেতে দিতে হবে : গবেষণায় দেখা গেছে যে, সিজফ্রেনিয়া পেসেন্টদের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড কম থাকে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খেলে সিজফ্রেনিয়া পেসেন্টদের জন্য তা উপকারী হয়। তৈলাক্ত মাছ, তেলসমৃদ্ধ সবজি, লেটুস, সয়াবিন, স্ট্রবেরি, শশা, আনারস, বাদাম ইত্যাদিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। এ খাবারগুলো সিজফ্রেনিয়া পেসেন্টদের দেওয়া যেতে পারে। ২. ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিতে হবে : ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স নারভাস সিস্টেমের জন্য উপকারী। ভিটামিন বি-১ এবং থায়ামিনের অভাবে কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভিটামিন-বি৯ এবং ফলিক এসিডের অভাবে বিষন্নতা, স্মৃতিভ্রষ্টতা দেখা দিতে পারে এবং মুড চেঞ্জ হতে পারে। ৩। ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার থেকে দিতে হবে সিজফ্রেনিয়া পেসেন্টদের : এই ভিটামিনগুলোতে এন্টি অক্সিডেন্ট প্রপার্টিস আছে। এজন্য সিজপ্রেনিয়া পেসেন্টদের বেশি করে সি-ফুড খেতে দেওয়া যেতে পারে। যে খাবারগুলো দেওয়া যাবে না : ১। চর্বিযুক্ত খাবার দেওয়া যাবে না। গরুর মাংশ, খাসির মাংশ দেওয়া যাবে না। তেরবিজ না দেওয়া ভাল। ২। গ্লুটোন এবং ল্যাকটোজ সমৃদ্ধ খাবার খেতে দেওয়া যাবে না: গবেষণায় দেথা গেছে যে, ল্যাকটোজ এবং গ্লুটোন সমৃদ্ধ খাবার সিজফ্রেনিয়া পেসেন্টদের জন্য ভাল নয়। এক্ষেত্রে তাকে দুগ্ধজাত খাবার এবং গম বার্লি থেকে যেসব খাবার বানানো হয় সেগুলো খেতে দেওয়া যাবে না।