2 Answers

চুলের আগা মূলত শুষ্ক ও রুক্ষতার কারণেই ফেটে যায়। এছাড়াও পুষ্টির অভাব, বালিশের সাথে ঘষা খাওয়া এবং আরো নানান কারণে চুলের আগা ফেটে যেতে পারে। চুলের আগা ফেটে গেলে চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। সেই সঙ্গে একেবারেই চলে চায় চুলের উজ্জ্বলতা। চুল হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যহীন ও অনুজ্জ্বল। আসুন জেনে নেয়া যাক শীত কালে চুলের আগা ফাটা রোধ করার ৬টি উপায়। সপ্তাহে ২/৩ বার চুল ধোয়া প্রতিদিন চুল ধুলে চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং আগা ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। কারণ চুল ধুলে মাথার ত্বকের তেল ধুয়ে যায়। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করা উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে শ্যাম্পুর রাসায়নিক উপাদানও চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই ঘন ঘন শ্যাম্পু না করে সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার চুল ধুয়ে ফেলুন। প্রতিবার শ্যাম্পু করার সময় শ্যাম্পুর সাথে কিছুটা পানি মিশিয়ে এর ঘনত্ব কমিয়ে নিন। তাহলে চুলের ওপর শ্যাম্পুর রাসায়নিক উপাদানের বিরূপ প্রভাব কিছুটা কম পড়বে। সালফেট মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন প্রায় সব শ্যাম্পুতেই সালফেটের উপস্থিতি থাকে। সালফেট হলো ডিটারজেন্ট তৈরীর প্রধান একটি উপাদান যা প্রচুর ফেনা তৈরী করে। সালফেট শ্যাম্পু করার সময় প্রচুর ফেনা তৈরী করে। কিন্তু সালফেট চুলের কিউটিকলের আদ্রর্তা কেড়ে নেয়। ফলে চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ। ফলে চুলের আগা ফাটা শুরু হয়। তাই শ্যাম্পু কেনার সময় দেখে নিন শ্যাম্পুতে সালফেট আছে কিনা। হারবাল শ্যাম্পু গুলোতে সাধারনত সালফেট থাকে না কিংবা কম পরিমাণে থাকে। তাই চুল ধোয়ার জন্য হারবাল শ্যাম্পু বেছে নিতে পারেন। কন্ডিশনার ব্যবহার করুন অনেকেই ভাবেন আলাদা ভাবে কন্ডিশনার ব্যবহার করার কোনো প্রয়োজনই নেই। শুধু মাত্র শ্যাম্পু করলেই চলে এবং কন্ডিশনার ব্যবহার একটি বাড়তি খরচ ভেবে বেশিরভাগ মানুষই কন্ডিশনার ব্যবহার করেন না। কিন্তু শীত কালে প্রকৃতি শুষ্ক হয়ে যায়। তাই চুলের জন্য প্রয়োজন কন্ডিশনারের। কন্ডিশনার চুলকে কোমল রাখে এবং চুলের আগা ফাটা রোধ করে। নারিকেল তেল ম্যাসাজ করুন প্রাচীন কাল থেকেই চুলের যত্নের মূল একটি উপাদান হলো নারিকেল তেল। নারিকেল তেলের ব্যবহার আগের তুলনায় এখন অনেক কমে গিয়েছে। কিন্তু চুলের যত্নে নারিকেল তেল এখনো অতুলনীয়। নারিকেল তেল কুসুম গরম করে পুরো মাথায় ম্যাসাজ করে নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথায় তেল লাগিয়ে ঘুমিয়ে পরুন। সকালে উঠে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার নারিকেল তেল ম্যাসাজ করলে চুল হয়ে উঠবে ঝরঝরে ও উজ্জ্বল। সেই সঙ্গে চুলের আগা ফেটে যাওয়ার প্রবণতাও কমে যাবে একেবারেই। স্ট্রেইটনার ও হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার বন্ধ করুন অনেকেই চুলের স্টাইলের জন্য হেয়ার অথবা কার্লিং মেশিন ব্যবহার করেন। আবার শীতে গোসল করে এসেই হেয়ার ড্রায়ার অথবা ব্লো ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে ফেলেন অনেকে। কিন্তু চুলে যে কোনো ধরণের গরম কিছু ব্যবহার করলে চুলের আগা ফাটার প্রবণতা বেড়ে যায় এবং চুল শুষ্ক হয়ে যায়। তাই চুল ভালো রাখতে চাইলে হেয়ার স্ট্রেইটনার, কার্লিং মেশিন, হেয়ার ড্রায়ার অথবা ব্লো ড্রায়ার ব্যবহার করা বন্ধ করুন। ভেজা চুল আঁচড়াবেন না গোসল করে এসে ভেজা চুল আঁচড়ানোর অভ্যাস আছে? তাহলে আজই ত্যাগ করুন এই অভ্যাস। কারণ গোসল করে এসে ভেজা চুল আঁচড়ালে চুলের আগা ফাটার প্রবণতা বাড়ে। ভেজা অবস্থায় চুলে জট লেগে থাকে এবং চুল নরম হয়ে থাকে। ফলে চিরুনি দিয়ে জট ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গেলেই চুল ছিড়ে যায় এবং আগা ফেটে যায়।
3977 views

চুলের আগা ফাটা প্রতিরোধের পাঁচটি উপায় চুলের আগা ফেটে যাওয়া একটি বড় সমস্যা। নিচে পাঁচটি টিপস দেয়া হল। ফলো করলে আপনি পাবেন সুস্থ, split end বিহীন সুন্দর চুল। * ১. গোসলের পর আমরা অনেকেই তোয়ালে দিয়ে চুল পেচিয়ে বেধে রাখি শুকানোর জন্য। চুল থেকে পানি দূর করার জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে গোসলের সময় ই হাত দিয়ে চিপে পানি বের করে ফেলা। এরপর তোয়...ালের পরিবর্তে কোন নরম কাপড় (টি-শার্ট / সুতি কাপড়) দিয়ে চিপে অতিরিক্ত পানি শুকিয়ে ফেলা। ভেজা চুল কখনোই পেচিয়ে বাধা উচিত নয়। * *২. চুলে হেয়ার ড্রায়ার / আয়রন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই হিট প্রটেক্টর স্প্রে করে নিন। * ৩. কখনোই ভেজা চুল ইলাস্টিক রাবার ব্যন্ড দিয়ে বাধবেন না। এমন হেয়ার ব্যন্ড / ক্লিপ ব্যবহার করুন যেটা আপনার চুলে আটকে যাবে না। *৪. কন্ডিশনার কেনার সময় এমন কন্ডিশনার বেছে নিন যেটা আপনার চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে চুলকে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করবে। * ৫. শুকনো চুলে নিয়মিত অয়েল মেসেজ করুন, এতে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাবে না। এই সাধারণ টিপসগুলোর পাশাপাশি মাঝে মাঝে পার্লার এ গিয়ে চুলের আগা ট্রিম করে আসুন, তাহলে আপনি রক্ষা পাবেন আগা ফাটা থেকে আর আপনার চুল হবে সুস্থ, সুন্দর।

3977 views

Related Questions