প্রসাবের ছিটা-ফোঁটা প্যান্টে বা কাপড়ের অন্য অংশে লাগলে তা কিভাবে পরিষ্কার করবো?
1 Answers
আপনার কাছে উক্ত মাসয়ালাটি বিশ্বাসযোগ্য বা পরিষ্কার মনে না হলেও বিশেষজ্ঞ আলেমগন এটাই বলেছেন যে, কেউ যদি নিশ্চিত হয় যে, তার প্যান্টে বা কাপড়ের অন্য অংশে পেশাব লেগেছে তাহলে পেশাব লাগার স্থানটি ধুয়ে ফেলা আবশ্যক। নাপাকির স্থানে পানি ছিটিয়ে দেয়া কিংবা মুছে ফেলা যথেষ্ট নয়। বরং আবশ্যক হলো ধুয়ে ফেলা ও পানি প্রবাহিত করা। আর যদি সন্দেহ হয় সেক্ষেত্রে তার উপর সেটা আবশ্যক নয়। তবে, সন্দেহকে এড়িয়ে চলা উচিত; যাতে করে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত হয়ে না পড়ে। (ফাতাওয়াল লাজনাহ আ-দায়িমাঃ ৫/১০৬) উক্ত নাপাকি তিনবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রত্যেকবার ভালো করে চাপ দিয়ে নিংড়াতে হবে। উল্লেখ্য, তিনবারের কথা বলা হয়, যাতে সন্দেহ না থাকে। অন্যথায় যদি প্রবাহমান পানি যেমন, নদী, পুকুরে বা টেপের পানিতে এত বেশি করে ধোয়া হয়, যাতে নাপাকি দূর হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হয়ে যায় তাহলে তা পাক হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তিনবার নিংড়িয়ে ধোয়া জরুরি নয়। (রদ্দুল মুহতারঃ ১/৩৩৩ আলবাহরুর রায়েকঃ ১/২৩৭ শরহুল মুনইয়াঃ ১৮৩) ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, তিনবার ধুয়ে নিলে আপনার সন্দেহ দূর হয়ে গেল। ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার জন্য বিধান হলো তিনবার ধুয়ে নেওয়া। এটাকে কেউ কেউ মুস্তাহাব ও বলেছেন। কাপড়ের যে অংশে পেশাব লেগেছে, সে অংশে পানি বহমান (চলতে থাকা) পানিতে ধৌত করলে পুরো কাপড় ভিজে যাওটা কোন ওজর নয়। শুদ্ধ মত উদাহরণ হিসাবে বলা হচ্ছে, আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হায়িযের রক্ত কাপড়ে লেগে যাওয়া প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, পানি দিয়ে ঘষা দিবে তারপর পানি দ্বারা ভালোভাবে ধৌত করবে। অতঃপর সলাত আদায় করবে। (সহীহ বুখারীঃ ২২৭, ৩০৭)