1 Answers

বাবা-মা আমাদের ছোট থেকে বড় করেছেন। সারা জীবনের প্রতিটি মুহুর্তও যদি আমরা তাদের সেবা ব্যায় করি তাতেও হয়তো তাদের প্রতি আমাদের ঋণ তা পুরণ হবে না। সময়ে অসময়ে কারণে-অকার বহুবার আমরা তাদের মন দুখিয়েছি, কাঁদিয়েছি। আমাদের খুশির কথা তারা সার্বক্ষণিক চিন্তা করেন। তাদের খুশির কথাও তো আমাদের ভাবতে হবে তাইনা? কি করে বাবা-মাকে খুশি করা যায় তা নিয়েই আমার আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। প্রাপ্য সম্মান দেয়া জীবনে বাবা-মার সাথে উল্টা পালটা ব্যবহার করে নি এমন মানুষ খুজে পাওয়া দায়। বিভিন্ন সময়ে বাবা-মাকে আমরা কষ্ট দিয়েছি। তাদের প্রাপ্য সম্মান আমরা তাদেরকে দেই নি। অফিসের বস কে দেখলে আমরা নমনম শুরু করে দেই কিন্তু বাবা-মা ক্ষেত্রে কখনোই তা হয়না ! অথচ আমাদের থেকে সর্বোচ্চ সম্মানটা কিন্তু তাদেরই প্রাপ্য ! তাদে প্রাপ্য সম্মান তাদের দিন। তাদের সাথে সদাচরণ করুন বাবা-মাকে গালি দেয়া কিংবা তুই-তুকারি করা এখ অনেকটাই যুগের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই আমিও এমন করেছিলাম আমার জীবনে এখন এর জন্যে অনেক আফসোস হয়। নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। কি করে পেরেছিলাম আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের সাথে এভা করতে ? নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করেছি, করছি আর যাই করুন, অনুগ্রহ করে কখনো বাবা-মাকে গালি-গালাজ করবেন না। তাদেরকে তুই করে বলবে না। মার্জিত ভাষায় নিচু স্বরে কথা বলতে হবে। সবসময়ই তাদেরকে সত্য কথা বলুন সত্য বলাটা পৃথিবীর কঠিনতম কাজগুলোর মধ্যে একটি। সবাই সত্য বলতে পারেনা। আপনি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। প্রতিজ্ঞা করুন কখনো বাবা-মাকে মিথ্যা বলবেন না। যদি নিজের বাবা- মাকেই মুখ ফুটে সত্য কথা বলতে না পারেন তো কাকে বলবেন? কারা আপনার এতোই প্রিয় যাদের কাছে সত্য কথা শেয়ার করা যায় কিন্তু বাবা-মার কাছে যায়না? যাদেরকে আপনি এতো প্রিয় ভাবছেন কিছুদিন তাদেরকে এড়িয়ে চলে দেখুনতো… কয়েকদিন তাদে ফোন ধরবেন না, মেসেজের রিপ্লাই দিবেন না। সবরকম যোগাযোগ বন্ধ। কিছুদিন সে নিজে থেকে খোজ নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু একসময় হাল ছেড়ে দিবে! কিন্তু বাবা-মা ! কক্ষনো না ! তারা প্রতিদিন প্রতিটা মুহুর্ত আপনাকে নিয়ে ভাবে। তাদের এই ভালোবাসার মুল্যায়ন করুন। তাদের সাথে সবসময় সত্যি কথা বলুন। ভুলবশত যদি কোন খারাপ কাজ করেই ফেলেন তাহলে বলে ফেলুন সত্যটাই। বিশেষ দিনগুলো মনে রাখুন বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয় মানুষটার জন্মদিনসহ অন্যান্য বিশেষ দিনগুলো সব ঠোটস্থ ! ঠিক একইভাবে বাবা-মার জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকীও মনে রাখুন। তাদেরকে সারপ্রাইজ করুন। তারা আজীবন মনে রাখতে পারে এমন কিছু করুন। আপনার সেই একদিনের প্রয়াস তাদেরকে টানা অনেকদিন এমনকি কয়েক বছর পরেও খুশি করে তুলতে যথেষ্ট। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে পরিকল্পনা করুন। টাকা জমিয়ে তাদেরকে কিছু উপহার দিন। আনন্দে তাদে মন ভরে যাবে। তাদের কথার মুল্যায়ন করুন তাদের কথার সঠিক মুল্যায়ন করার চেষ্টা করবেন সবসময়। যদি তারা আপনাকে কোন কিছুতে নিষেধ করেন এবং যদি আপনার মনে হয় তারা ভুল করছে তাহলে রেগে যাবেন না। শান্ত থাকুন, হাসিমুখে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। হয়তো তারা বুঝবে। তবে এরপরও যদি তারা নিষেধ করেন এবং সেটা যদি ক্ষতিকর না হয় তাহলে তাদের কথা শুনুন। তারা আপনার ভালোর কথা ভেবেই আপনাক কিছু বলেছেন। তাদের প্রশংসা করুন অনেকের কাছেই এটা লজ্জার ব্যাপার হতে পারে। বাবা-মার প্রশংসা করতে লজ্জা করা ঠিক না। লজ্জাকে এড়ানোর চেষ্টা করুন আর তাদের প্রশং করুন। ধরুন আপনার মা আজকে যা রান্না করেছিলো সেটা স্বাদে-গন্ধে একদম সেরকম হয়েছে ! সরাসরি তাকে বলুন যে তার রান্নাটা খুব ভালো হয়েছে। আপনার বাবা ব্যবসায় বড় কোন সাফল্য অর্জন করেছে। সেজন্যে তাকে প্রশংসা করুন তার বিচক্ষণতার জন্যে, তার কঠোর পরিশ্রমের জন্যে। কোন কাপড়ে তাদের দেখতে সুন্দর লাগলে সেটাও বলতে ভুলবেন না। আপনার সামান্য একটু প্রশংসা হয়তো তাদেরকে সমস্ত দিনের জন্যেই খুশি রাখতে যথেষ্ট !

2685 views

Related Questions