1 Answers

এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আলেম মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় মালয়েশিয়া থেকে ফেসবুক লাইভে এসে এ বিষয়টি নিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি আলোচনা করেন। বক্তব্যে মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, বিগত যেকোনো বছরের ঈদের তুলনায় এই বছরের ঈদটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কেননা এই মহামারীকালীন ঈদের সালাত জামায়াতে আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে। ভিডিওতে করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে তিনি ঈদের সালাত একা বা ঘরে আদায় কিংবা সর্বোচ্চ কয়েকজন মিলে ঈদের জামায়াত পড়ার পরামর্শ দেন তিনি। মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, ঈদের নামাজে আজান ও ইকামাত দেয়ার প্রয়োজন নেই। ঈদের নামাজে অতিরিক্ত কিছু তাকবির দিতে হয়। অতিরিক্ত তাকবিরের বর্ণনা দিয়ে আজহারী বলেন, মাজহাব ভেদে তাকবিরের সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকআতে তিনটি দ্বিতীয় রাকাআতে তিনটি। শাফিঈ মাজহাবে ১২টি অতিরিক্ত তাকবির দিতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রথম রাকআতে সাতটি ও দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচটি। হাম্বলি আর মালিকি মাজহাবে ১১টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকাআতে ছয়টি আর দ্বিতীয় রাকাআতে পাঁচটি। তবে বাংলা ভাষাভাষীরা মূলত হানাফি মাজহাবের অনুসারী হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তিনি ছয় তাকবিরই পড়ার পরামর্শ দেন। ঈদের নামাজ ঘরে পড়ার নিয়ম মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, নামাজে দাঁড়িয়ে তাকবিরে তাহরীমা অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে সানা পড়তে হবে। তারপর কেরাত পড়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দিতে হবে অর্থাৎ আল্লাহু আকবর তিনবার বলতে হবে। এরপর সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সূরা এবং অন্য সকল নামাজের ন্যায় রুকু ও সিজদাহ করতে হবে। এবার দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে কেরআন পড়তে হবে অর্থাৎ সূরা ফাতিহা ও সঙ্গে অন্য একটা সূরা পড়তে হবে। এরপর রুকুতে যাওয়ার আগে তিনটি তাকবির অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ তিনবার বলতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির দিয়ে তারপর রুকুতে যেতে হবে। এখানে তিনটি অতিরিক্ত তাকবির ও চতুর্থটি নামাজের স্বাভাবিক তাকবির। এভাবে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়ার মধ্য দিয়ে খুব সহজেই ঈদের নামাজ আদায় করা যেতে পারে।তবে ঈদের সালাত ঘরে আদায়ের ক্ষেত্রে খুতবার প্রসঙ্গটি বাদ যাবে। কেননা খুতবা সবার উদ্দেশে ইমাম সাহেব দিয়ে থাকেন, যা কিনা সুন্নত।

6979 views